প্রিন্ট এর তারিখঃ এপ্রিল ২৭, ২০২৬, ৪:০১ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ জুলাই ৩, ২০২৫, ৫:৫৮ অপরাহ্ণ
রাজাপুরে সরকারি গাছ বিক্রির অভিযোগ প্রকল্প কর্মকর্তার বিরুদ্ধে!

ঝালকাঠি প্রতিনিধি: ঝালকাঠির রাজাপুরে সরকারি জমির অত্যন্ত মূল্যবান পাঁচটি গাছ কেটে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতাধীন উপজেলা পরিচালক ও উন্নয়ন প্রকল্পের (ইউজিডিপি) এক সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।
অভিযুক্ত ডেভেলপমেন্ট ফেসিলিটেটর (ইউডিএফ) মো. ইমরান আলী এসব গাছ নিজের ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করেছেন বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেন। প্রশাসনের নীরব ভূমিকায় এলাকাজুড়ে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ হলো, উপজেলা পরিষদের পেছনের একটি সরকারি খালি জায়গায় লাগানো চারটি মেহগনি ও একটি রেন্ট্রি গাছ গত বছরের মাঝামাঝি মো. ইমরান আলীর নির্দেশে কেটে স-মিলে রাখা হয়। সময়টা ছিল ২০২৪ সালের জুলাই—দেশব্যাপী শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের উত্তাল সময়। প্রশাসন তখন নানামুখী চাপ সামলাতে ব্যস্ত থাকায় সুযোগটি কাজে লাগানো হয় বলে তাদের ধারণা।
এরপর অভিযুক্ত কর্মকর্তা মো. ইমরান আলী পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে কর্মস্থল ত্যাগ করেন। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পুনরায় ফিরে এসে গাছগুলোর কিছু কাঠ নিজের বাড়ির জন্য ফার্নিচার বানাতে ব্যবহার করেন এবং বাকিগুলো কাউখালী উপজেলাসহ বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করে দেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
স-মিল মালিক বলেন, “ইমরান আলী আমাদের স-মিলে কাঠ রাখতেন, আমরা এগুলো সরকারি ফার্নিচারের জন্য বলেই জানতাম। পরে জানতে পারি তিনি এসব তার ব্যক্তিগত কাজেই ব্যবহার করেছেন।”
একই ধরনের মন্তব্য পাওয়া গেছে স্থানীয় ফার্নিচার দোকানদারের কাছ থেকেও। তিনি বলেন, “মো. ইমরান আলী সাহেব নিজেই কাঠ এনে তার বাসার জন্য কিছু আসবাব বানানোর কথা বলেন। পরে আবার এখান থেকে কিছু কাঠ বিক্রিও করে দেন।”
তৎকালীন ইউএনও ফারহানা ইয়াসমিন এ বিষয়ে অবগত ছিলেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। তবে বদলির কারণে তিনি কোনো ব্যবস্থা নিতে পারেননি। বর্তমান ইউএনও রাহুল চন্দ অভিযোগের বিষয়ে অবগত থাকলেও এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তদন্ত কিংবা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মো. ইমরান আলী সাংবাদিকদের বলেন, “আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে তা ভিত্তিহীন ও মিথ্যা। আমি কোনো গাছও কাটি নাই, আর কোনো কাঠও নেইনি।”
সরকারি গাছ কাটতে বা বিক্রি করতে জেলা প্রশাসন কিংবা বন বিভাগের অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। তা না নিয়ে গাছ কাটা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। তাহলে কীভাবে বা কার অনুমতিতে গাছগুলো কেটে ফেলা হলো? আর সেই কাঠের আর্থিক হিসাব-ই বা কোথায়?
এসব প্রশ্ন এখন স্থানীয় সচেতন নাগরিক ও পরিবেশকর্মীদের। তাদের বক্তব্য হলো, “যদি সরকারি কর্মকর্তারা এভাবে গাছ কেটে ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করতে থাকেন, তাহলে তা পরিবেশ রক্ষার জন্য তা ক্ষতির কারণ হয়ে দাড়াবে।”
ঘটনার বিষয়ে রাজাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার অফিসে গিয়ে দেখা না পাওয়ার পর দুইদিনে একাধিকবার মোবাইলে ফোন ও হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠানো হলেও কোনো সাড়া দেননি তিনি।
স্থানীয়দের দাবি হলো, দ্রুত এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদানের পাশাপাশি গাছ বিক্রির অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার পদক্ষেপ নেওয়া হোক।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ রাইহান উদ্দিন এবং নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুল কাইয়ুম মিয়াজী কর্তৃক গাজীপুর, ঢাকা, বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত। ইমেইলঃ pagethenews@gmail.com
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ “পেজ দ্যা নিউজ” কর্তৃপক্ষ দ্বারা সংরক্ষিত। © ২০২৫