নিজস্ব প্রতিবেদক: গতকাল শনিবার (৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫) রাত ৯টা ২৮ মিনিট থেকে বাংলাদেশসহ পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে দেখা গেছে পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণ। রাত গভীর পর্যন্ত স্থায়ী হওয়া এ গ্রহণে চাঁদ ধীরে ধীরে লালচে আভা ধারণ করে, যা আকাশপ্রেমী মানুষদের জন্য ছিল এক অপূর্ব দৃশ্য।
পৃথিবীর নানা প্রান্তে গ্রহণের চিত্র: বাংলাদেশ ছাড়াও এশিয়া, ইউরোপ, আফ্রিকা ও আমেরিকার বিভিন্ন দেশে এ চন্দ্রগ্রহণ প্রত্যক্ষ করা যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গ্রহণের অসংখ্য ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে মুহূর্তেই। বাংলাদেশে রাতের আকাশে গ্রহণ ছিল স্পষ্ট ও পরিষ্কার। রাত ৯টা ২৮ মিনিটে চাঁদের ওপর পৃথিবীর ছায়া পড়তে শুরু করে এবং রাত গভীর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তা পূর্ণ গ্রহণে রূপ নেয়। প্রায় তিন ঘণ্টা স্থায়ী এই ঘটনাটি আকাশপ্রেমী ও বিজ্ঞানমনস্ক মানুষকে বিমোহিত করে।
বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা: জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মতে, চন্দ্রগ্রহণ ঘটে তখনই, যখন পৃথিবী সূর্য ও চাঁদের মাঝখানে এসে সূর্যের আলো সরাসরি চাঁদে পৌঁছাতে বাধা দেয়। তবে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল সূর্যের আলোকরশ্মিকে ভেদ করে চাঁদের দিকে পাঠায়। এ সময় নীল রঙের আলো ছড়িয়ে যায়, আর লাল রঙের আলো পৌঁছায় চাঁদে। ফলে চাঁদকে দেখা যায় রক্তিম বা লালচে রঙে, যাকে বলা হয় “ব্লাড মুন”।
কোরআনের আলোকে সূর্য-চন্দ্র: কোরআনুল কারিমে সূর্য ও চন্দ্রকে আল্লাহর নিদর্শন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
আল্লাহ তায়ালা বলেন— “সূর্য ও চন্দ্র নির্দিষ্ট নিয়মে চলমান।” (সূরা আর-রহমান, আয়াত ৫)
“তাঁরই নিদর্শনের মধ্যে রয়েছে রাত ও দিন, সূর্য ও চন্দ্র।” (সূরা ফুসসিলাত, আয়াত ৩৭)
এই আয়াতগুলো আমাদের মনে করিয়ে দেয়—আকাশ ও মহাবিশ্ব আল্লাহর নির্দেশেই চলমান।

হাদিসে চন্দ্রগ্রহণ: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন— “সূর্য ও চন্দ্র কারো মৃত্যু বা জন্মের কারণে গ্রহণ করে না। বরং এগুলো আল্লাহর নিদর্শন। তাই যখন এগুলো তোমরা দেখবে, তখন নামাজ পড়বে এবং আল্লাহর কাছে দোয়া করবে।” (সহিহ বুখারি ও মুসলিম)
গ্রহণের সময় তিনি দীর্ঘ নামাজ আদায় করতেন, কুরআন তিলাওয়াত করতেন এবং দোয়া করতেন।
মুসলমানদের করণীয়: ইসলামী ঐতিহ্য অনুযায়ী, চন্দ্রগ্রহণ বা সূর্যগ্রহণ ঘটলে মুসলমানদের উচিত—
খুসুফ সালাত (গ্রহণের নামাজ) আদায় করা
ইস্তিগফার ও তওবা করা
আল্লাহর কাছে দোয়া করা
দান-খয়রাত করা
মানুষের প্রতিক্রিয়া: গ্রহণকে কেন্দ্র করে দুনিয়াজুড়ে মানুষের আগ্রহ ছিল চোখে পড়ার মতো। কেউ এটিকে বিজ্ঞান ও প্রকৃতির বিস্ময় হিসেবে দেখেছেন, আবার কেউ আধ্যাত্মিক উপলব্ধি থেকে আল্লাহর মহিমা স্মরণ করেছেন।
উপসংহার: গত রাতের চন্দ্রগ্রহণ আমাদের মনে করিয়ে দিল, আকাশ ও মহাবিশ্ব এখনো বিস্ময়ে ভরা। বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিতে এটি এক আলোকবৈজ্ঞানিক খেলা, আর ধর্মীয় দৃষ্টিতে এটি আল্লাহর মহাশক্তির নিদর্শন। মানুষ যতবার এমন ঘটনা দেখে, ততবারই প্রকৃতির বিশালতা আর স্রষ্টার মহিমা নতুনভাবে অনুধাবন করে।

