পেজ দ্যা নিউজ
আমাদের সাথে যুক্ত থাকুন
শুক্রবার, ১০ জুলাই, ২০২৬
শিরোনাম
লিঙ্ক কপি হয়েছে!

নিকলীতে থানা হাজতে ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

আল-আমিন হাসান
আল-আমিন হাসান , উপজেলা প্রতিনিধি প্রকাশিত: ৯ জুলাই ২০২৬, ০৬:২৫ পিএম

কিশোরগঞ্জের নিকলী থানার হাজতখানায় ওয়ারেন্টভুক্ত এক আসামির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, তিনি গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। তবে থানা হাজতের ভেতরে সিসিটিভি ক্যামেরা থাকা সত্ত্বেও ঘটনাটি কীভাবে ঘটল—তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। নিহত রুবেল (২১) নিকলী উপজেলার কারপাশা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের শহরমূল এলাকার রাজা হাওলাদারের ছেলে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে নিকলী থানার এএসআই আমজাদ হোসেন ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি রুবেলকে নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে আসেন। পরে তাকে হাজতখানায় রাখা হয়। আদালতে পাঠানোর আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে বের করতে গেলে সকাল সাড়ে ১০টা থেকে ১১টার মধ্যে কোনো এক সময় হাজতখানার গ্রিলের সঙ্গে নিজের পরনের শার্ট পেঁচিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় তাকে দেখতে পান দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা।

খবর পেয়ে নিকলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেন। পরে বিকেল ৫টার দিকে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ শহীদ উল্লাহর উপস্থিতিতে মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয় এবং ময়নাতদন্তের জন্য কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

নিহতের বাবা রাজা হাওলাদার সাংবাদিকদের জানান, তার ছেলে দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিলেন। মাদকের টাকা না পেলে পরিবারের সদস্যদের মারধর ও বাড়িঘর ভাঙচুর করতেন। এ কারণে এর আগেও তার বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করা হয়েছিল এবং তিনি কারাগারেও ছিলেন। জামিনে মুক্ত হওয়ার পরও একই ধরনের আচরণ অব্যাহত ছিল। সর্বশেষ ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি হিসেবে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।

তবে থানা হাজতের ভেতরে সিসিটিভি ক্যামেরা থাকা সত্ত্বেও এমন ঘটনা কীভাবে ঘটল এবং দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের কোনো অবহেলা ছিল কি না—এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন উঠেছে। বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

এ বিষয়ে নিকলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান বলেন, “ওয়ারেন্টভুক্ত এক আসামিকে গ্রেপ্তারের পর আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতির সময় তাকে হাজতখানায় গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় পাওয়া যায়। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ঘটনার আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মিজানুর রহমানের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি