প্রকাশকাল: ২২ জুন ২০২৬
ডাউনলোড: ২২ জুন ২০২৬
অনলাইন সংস্করণ
QR Code
বিস্তারিত অনলাইনে পড়ুন
pagethenews.com /pagethenews

শ্রীবরদী সরকারি কলেজ সমস্যায় জর্জরিত, নেই দৃশ্যমান কোনো সমাধান

মোঃ সাজিদ হাসান শান্ত

শেরপুর জেলার শ্রীবরদী সরকারি কলেজটি বর্তমানে নানাবিধ সমস্যায় জর্জরিত। নেই দৃশ্যমান কোন উন্নয়ন। সামান্য বৃষ্টিই কলেজ মাঠ ও রাস্তা যায় পানিতে ডুবে!

অথচ ঐতিহ্যবাহী এই সরকরি কলেজটি এককালে শুধু একটি উল্লেখযোগ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানই ছিল না। এটি ছিল শ্রীবরদীবাসীর আশা, আকাঙ্ক্ষার স্বপ্ন ও উচ্চ শিক্ষার প্রাণকেন্দ্র। উপজেলার একমাত্র সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ হিসেবে এই প্রতিষ্ঠানটি হওয়া উচিত ছিলো আধুনিক, নান্দনিক ও যুগোপযোগী শিক্ষার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। কিন্তু বর্তমানে সরকারি এই কলেজটি আজ বলতে গেলে নানা সমস্যা জর্জরিত ও চরম হুমকির মুখে পড়েছে।

দীর্ঘদিন যাবত সামান্য বৃষ্টিতেই কলেজ মাঠ রাস্তা পানিতে তলিয়ে যায়। ইতোপূর্বে এই সমস্যাটি মাঠের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু বর্তমানে পরিস্থিতি আরও অনেক জটিল ও উদ্বেগজনক। সাম্প্রতিক ভারী বৃষ্টিপাতে কলেজের প্রধান প্রবেশ পথ ও অভ্যন্তরীণ সড়ক পর্যন্ত পানিতে ডুবে যায়। ফলে শিক্ষক শিক্ষার্থীদের কলেজে যাতায়াত ও স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মক ভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

এ সব সমস্যা সমাধানে অতীতে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হলেও স্থায়ী কোন সমাধানই দৃশ্যমান নয়। এলাকাবাসী শ্রীবরদী সরকারি কলেজের নানাবিধ সমস্যা সমাধানে সংসদ সদস্য মোঃ মাহমুদুল হক রুবেলের আন্তরিক হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

সরকারি হস্তক্ষেপই কেবল কলেজটির পূর্বের ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে পারে বলে অভিজ্ঞ মহল মনে করেন। কলেজের অধ্যক্ষ কাজী হাসানুজ্জামান ( ভারপ্রাপ্ত ) বলেন, শেরপুর -৩ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য মাহমুদুল হক রুবেল এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সার্বিক সাহায্য সহযোগিতা ছাড়া কলেজের নানাবিধ সমস্যা সমাধান এবং শিক্ষক শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ লাঘব এবং কলেজের সার্বিক উন্নয়নেই কেবলমাত্র দ্রুত কার্যকর ও স্থায়ী পদক্ষেপ গ্রহণ সম্ভব।

শ্রীবরদী সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি মুয়াজ বলেন, শ্রীবরদী সরকারি কলেজে অনার্স কোর্স চালুর জন্য দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারটি উপযুক্ত, দৃশ্যমান ও মর্যাদাপূর্ণ স্থানে স্থানান্তর,কলেজ মাঠের অসম্পূর্ণ সংস্কার কাজ দ্রুত সম্পন্নকরণ। লাইব্রেরিতে আসন সংখ্যা বৃদ্ধি এবং আধুনিক ও প্রয়োজনীয় বই সংযোজন।

আইসিটি ক্লাসের জন্য কম্পিউটার ল্যাব উন্মুক্তকরণ। মাইকিং/সাউন্ড সিস্টেমের ত্রুটি নিরসন এবং ক্লাস শুরুর পূর্বে নিয়মিত কার্যকারিতা নিশ্চিতকরণ। সাংস্কৃতিক ক্লাবের কার্যক্রম ধারাবাহিক ও সক্রিয়করণ। ডিবেট ক্লাব পুনরুজ্জীবন ও কার্যক্রম চালু করন ও প্রতি ২-৩ মাস অন্তর আন্তঃবিভাগীয় খেলাধুলার আয়োজন নিশ্চিতকরণ।

স্কাউট ও রোভারদের জন্য উচ্চতর প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ ও কলেজে প্রাথমিক চিকিৎসা ও মেডিকেল সেবা চালু করা একান্ত প্রয়োজন। এছাড়া টয়লেটে পর্যাপ্ত পানি সরবরাহ নিশ্চিতকরণ এবং প্রয়োজনীয় সামগ্রী সংযোজন। মেয়েদের কমনরুমের মানোন্নয়ন। সন্ধ্যার পর বহিরাগতদের প্রবেশ নিষিদ্ধকরণ কার্যক্রম কঠোরভাবে অব্যাহত রাখা আবশ্যক।

উপরোক্ত দাবিসমূহ বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি আধুনিক, সুশৃঙ্খল ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত হবে বলে আমাদের দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস। শ্রীবরদী সরকারি কলেজ ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদক, চৌধুরী অনিক বলেন, সরকারি এই কলেজটি শুধু একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়। এটি শ্রীবরদীবাসীর আশা, স্বপ্ন ও শিক্ষার প্রাণকেন্দ্র। উপজেলার একমাত্র সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ হিসেবে এই প্রতিষ্ঠানটি হওয়া উচিত ছিল আধুনিক, নান্দনিক ও যুগোপযোগী শিক্ষার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, বাস্তব চিত্র আজ ভিন্ন কথা বলে।

দীর্ঘদিন ধরে আমরা লক্ষ্য করছি, সামান্য বৃষ্টিতেই কলেজ মাঠ ও রাস্তা পানিতে তলিয়ে যায়। আগে সমস্যা মাঠের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকলেও বর্তমানে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক রূপ নিয়েছে। সাম্প্রতিক ভারী বৃষ্টিপাতে কলেজের প্রধান প্রবেশদ্বার ও অভ্যন্তরীণ সড়ক পর্যন্ত জলাবদ্ধতায় ডুবে যায়। ফলে শিক্ষার্থীদের কলেজে প্রবেশ ও স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

এ সমস্যা সমাধানে অতীতে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হলেও এখনো কার্যকর কোনো স্থায়ী সমাধান দৃশ্যমান হয়নি। তাই শ্রীবরদী সরকারি কলেজ, শেরপুরের সম্মানিত অধ্যক্ষ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট বিনীত আবেদন, শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ লাঘব এবং কলেজের সার্বিক পরিবেশ উন্নয়নের লক্ষ্যে অতি দ্রুত কার্যকর ও স্থায়ী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হোক।

শিক্ষার প্রাণকেন্দ্রকে জলাবদ্ধতার নয়, উন্নয়ন ও সৌন্দর্যের প্রতীক হিসেবে দেখতে চায় শ্রীবরদীবাসী।