প্রকাশকাল: ৮ আগস্ট ২০২৬
ডাউনলোড: ৯ আগস্ট ২০২৬
অনলাইন সংস্করণ
QR Code
বিস্তারিত অনলাইনে পড়ুন
pagethenews.com /pagethenews

ঢাকা আলিয়ায় বিস্ফোরণের অভিযোগ, পরীক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর সরকারি মাদরাসা-ই-আলিয়ায় অনার্স প্রথম বর্ষের পরীক্ষা চলাকালে বিস্ফোরণের ঘটনায় পরীক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা ও পরীক্ষার পরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষার্থীরা।

অনার্স প্রথম বর্ষের পরীক্ষার্থী আরিফুল হাসান জাহিদ জানান, শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বাসা থেকে পরীক্ষার উদ্দেশ্যে বের হয়ে দুপুর ১২টা ৩৮ মিনিটে ঢাকা আলিয়া মাদরাসা ক্যাম্পাসে পৌঁছান তিনি। সেখানে কয়েকটি পুলিশ গাড়ি দেখতে পান। পরে হল গেটের সামনে গিয়ে সেটি তালাবদ্ধ দেখতে পান।

তার ভাষ্য, গেটের ভেতরের পরিস্থিতি দেখার চেষ্টা করার সময় হঠাৎ একটি বিস্ফোরণের বিকট শব্দ শোনা যায়। এতে তিনি ও আশপাশে থাকা কয়েকজন শিক্ষার্থী আতঙ্কিত হয়ে সরে যান।

আরিফুলের দাবি, বিস্ফোরণের পর কয়েকজন বয়স্ক ব্যক্তির সঙ্গে কিছু তরুণকে ক্যাম্পাসের দিকে প্রবেশ করতে দেখা যায়। এ সময় ক্যাম্পাসে আলিম পরীক্ষা চলছিল এবং পরীক্ষা শেষ হতে তখনো প্রায় ১০ থেকে ১৫ মিনিট বাকি ছিল। তার অভিযোগ, ওই ব্যক্তিরা ক্যাম্পাসে গিয়ে ছাত্রশিবিরের সদস্যদের খুঁজছিলেন।

পরবর্তীতে অনার্স পরীক্ষার্থীদের হলে প্রবেশের ক্ষেত্রে বিভিন্ন সমস্যার সৃষ্টি হয় বলেও জানান তিনি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, দূর-দূরান্ত থেকে আসা অনেক পরীক্ষার্থীর সঙ্গে ব্যাগ, বই ও মোবাইল ফোন ছিল। কিন্তু মাইকিং করে এসব নিয়ে পরীক্ষার হলে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। এ অবস্থায় শিক্ষার্থীরা তাদের মালামাল কোথায় রাখবেন, তা নিয়ে সমস্যায় পড়েন।

আরিফুল আরও দাবি করেন, পরীক্ষা কেন্দ্রে উপস্থিত হওয়ার পর অনেক শিক্ষার্থীকে অনুপস্থিত দেখতে পান। তার ভাষ্য অনুযায়ী, কেউ কেউ ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে পারেননি এবং কয়েকজন আহত হয়ে হাসপাতালে ছিলেন বলে তিনি জানতে পারেন।

ক্যাম্পাসে থাকা কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলে তিনি জানতে পারেন, তাদের দাবি অনুযায়ী কিছু শিক্ষার্থী হল থেকে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিতে পারেননি। এ সময় ক্যাম্পাসে অস্থির পরিস্থিতি বিরাজ করছিল বলেও তিনি জানান।

প্রায় চার ঘণ্টার পরীক্ষা শেষে ক্যাম্পাস থেকে বের হওয়ার সময়ও পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি বলে দাবি করেন আরিফুল হাসান জাহিদ।

একজন শিক্ষার্থী হিসেবে নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ ক্যাম্পাসের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেন কোনো ধরনের অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয় এবং শিক্ষার্থীরা নির্বিঘ্নে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারে, সে বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

তবে বিস্ফোরণের প্রকৃতি, এতে কেউ আহত বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন কি না এবং ক্যাম্পাসে কারা প্রবেশ করেছিল—এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পুলিশ বা মাদরাসা কর্তৃপক্ষের বক্তব্য এই বক্তব্যে পাওয়া যায়নি।