নজরুল পুরস্কারপ্রাপ্ত ড. রশিদুন নবীকে সংবর্ধনা, সুর মুকুরের আয়োজনে বর্ষার গান
বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, গবেষক ও সংগীতজ্ঞ এবং সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘সুর-মুকুর’-এর সভাপতি প্রফেসর ড. রশিদুন্ নবী ‘বাংলা একাডেমি নজরুল পুরস্কার ২০২৬’ লাভ করায় তাঁকে বর্ণাঢ্য সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। একই অনুষ্ঠানে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের বর্ষার গান নিয়ে আয়োজন করা হয় বিশেষ সংগীতানুষ্ঠান ‘বাদল বঁধু এলো শ্রাবণ-সাঁঝে’।
সম্প্রতি ময়মনসিংহের ঐতিহ্যবাহী ‘এশিয়ান সংগীত জাদুঘর’ মিলনায়তনে সুর-মুকুরের উদ্যোগে সংবর্ধনা ও সংগীতানুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে সংবর্ধিত ব্যক্তিত্ব হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলা একাডেমি নজরুল পুরস্কার-২০২৬ প্রাপ্ত প্রফেসর ড. রশিদুন্ নবী। সুর-মুকুরের সহ-সভাপতি ড. মো. আব্দুল্লাহ আল মামুনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগের অধ্যাপক ড. আহমেদ শাকিল হাশমী। বিশেষ অতিথি ছিলেন একই বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. সুমা রাণী রায়।
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন সুর-মুকুরের সাধারণ সম্পাদক ও জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. আশিক সরকার।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব শাহ সাইফুল আলম পান্নু, স্বপন সরকার, প্রদীপ চক্রবর্তী, রেজাউল করিম আসলাম, সুবীর বরণ ধর বিলু এবং ‘বেহাগ’-এর স্বত্বাধিকারী মো. মাহফুজুর রহমান বাবুসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সংগীতানুরাগীরা।
সংবর্ধনার অনুভূতি প্রকাশ করে প্রফেসর ড. রশিদুন্ নবী বলেন, “আমি পুরস্কার পাওয়ার জন্য কাজ করিনি। নজরুলকে বিশ্বদরবারে আরও ছড়িয়ে দিতে আমার প্রচেষ্টা এবং আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে।”
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. আহমেদ শাকিল হাশমী বলেন, “প্রফেসর ড. রশিদুন্ নবীর বাংলা একাডেমি নজরুল পুরস্কার প্রাপ্তি ময়মনসিংহের সাংস্কৃতিক অঙ্গন তথা সমগ্র দেশের জন্য এক বিরাট গৌরবের বিষয়। নজরুলচর্চায় তাঁর আজীবন সাধনা তরুণ প্রজন্মের জন্য অনুকরণীয়।”
বিশেষ অতিথি ড. সুমা রাণী রায় বলেন, ড. রশিদুন্ নবীর এই অর্জন সংগীত ও গবেষণাজগতের জন্য আনন্দ ও গৌরবের। তিনি নজরুলচর্চা ও গবেষণার অন্যতম বাতিঘর। নজরুলসংগীতের শুদ্ধ রূপ ও বাণী নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে তাঁর দীর্ঘদিনের সাধনা রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃতি পেয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, এ স্বীকৃতি তরুণ গবেষক ও সংগীতশিল্পীদের অনুপ্রাণিত করবে। ড. রশিদুন্ নবীর সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করে তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতেও তিনি সাংস্কৃতিক অঙ্গনে তরুণদের পথ দেখাবেন।
সংবর্ধনা পর্ব শেষে সুর-মুকুরের শিল্পীদের পরিবেশনায় শুরু হয় নজরুলের বর্ষার গান নিয়ে বিশেষ সংগীতানুষ্ঠান ‘বাদল বঁধু এলো শ্রাবণ-সাঁঝে’। শ্রাবণের সন্ধ্যায় কবি নজরুলের প্রেম, বিরহ ও প্রকৃতির মেলবন্ধনে রচিত বর্ষার গানগুলো শিল্পীদের কণ্ঠে প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। সংগীতানুষ্ঠানটি উপস্থিত দর্শক-শ্রোতাদের মুগ্ধ করে।