প্রকাশকাল: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ডাউনলোড: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
অনলাইন সংস্করণ
QR Code
বিস্তারিত অনলাইনে পড়ুন
pagethenews.com /pagethenews

মায়ের ইচ্ছা ও বোনের শেষ কথায় বিশ্বভ্রমণের পথে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নির্জর

মুহিবুল হাসান রাফি

মায়ের ইচ্ছা পূরণ, প্রয়াত বোনের শেষ কথা হৃদয়ে ধারণ এবং আধ্যাত্মিকতার টানে দেশ-বিদেশের মন্দির ও ইতিহাস-ঐতিহ্য ঘুরে দেখার নেশায় এগিয়ে চলেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার গোকর্ণঘাটের নির্জর বর্মণ। লেখাপড়া, ব্যবসা ও সংস্কৃতিচর্চার পাশাপাশি ভ্রমণকে জীবনের অন্যতম সাধনা হিসেবে নিয়েছেন তিনি।

ইতোমধ্যে ভারত, নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপ ভ্রমণ করেছেন নির্জর। ২০২৬ সালের ১ থেকে ১০ সেপ্টেম্বর মাকে সঙ্গে নিয়ে ভারত সফরে গিয়ে দিল্লির স্বামীনারায়ণ অক্ষরধাম, শ্রী গণেশ ও বেঙ্কটেশ্বর মন্দিরসহ কলকাতা ও বিষ্ণুপুরের বিভিন্ন ঐতিহাসিক-ধর্মীয় স্থাপনা পরিদর্শন করেন। এর আগে জুলাইয়ে পশ্চিমবঙ্গের বিষ্ণুপুরে স্বামীনারায়ণ মন্দিরে ২১ জুলাই থেকে ২ আগস্ট পর্যন্ত অবস্থান করে পূজা-আরাধনা করেন এবং মায়ের জন্য আশীর্বাদ প্রার্থনা করেন। জানুয়ারিতেও ভারতের বৃন্দাবন, কামাখ্যা, মথুরা, মায়াপুর ও নবদ্বীপসহ বিভিন্ন ধর্মীয় স্থান ঘুরে দেখেন।

নির্জরের এই পথচলার পেছনে সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা তার মা দীপালী বর্মণ। আরেক অনুপ্রেরণা প্রয়াত বড় বোন দীপ্তী বর্মণের শেষ কথা। ২০২১ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর আগে বোন তাকে বলেছিলেন—মাকে শ্রদ্ধা ও যত্ন করতে এবং তার আদেশ পালন করতে। সেই কথাই আজও নির্জরের পথচলার অন্যতম শক্তি।

মায়ের সঙ্গে মন্দিরে মন্দিরে ঘুরে আধ্যাত্মিকতার স্বাদ নেওয়ার পাশাপাশি বিশ্বের নানা দেশ, মানুষ, সংস্কৃতি ও ইতিহাস জানার আকাঙ্ক্ষা রয়েছে তার। ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, নিউজিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশে থাকা স্বামীনারায়ণ মন্দির পরিদর্শনের স্বপ্ন দেখেন তিনি।

২০০৩ সালের ১৫ আগস্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়ার গোকর্ণঘাটে জন্ম নেওয়া নির্জর ২০২৩ সালে এসএসসি ও ২০২৫ সালে এইচএসসি পাস করে স্নাতকে ভর্তি হন। পড়াশোনার পাশাপাশি ২০১৮ সাল থেকে ব্যবসায় যুক্ত তিনি। ‘মেসার্স নির্জর এন্টারপ্রাইজ’-এর স্বত্বাধিকারী হিসেবে ড্রাই ফিশ, রড ও সিমেন্টের ব্যবসাও করছেন। পাশাপাশি সঙ্গীত ও সংস্কৃতিচর্চায়ও সক্রিয় তিনি।

বিশ্বখ্যাত ‘তিতাস একটি নদীর নাম’ উপন্যাসের লেখক অদ্বৈত মল্লবর্মণের উত্তরসূরি নির্জর মনে করেন, জীবন কেবল অর্থ উপার্জনের জন্য নয়; আধ্যাত্মিকতা, ভ্রমণ ও বিশ্বকে জানার মধ্যেও জীবনের গভীর অর্থ রয়েছে। তার ভাষায়, মায়ের আশীর্বাদই তার সবচেয়ে বড় শক্তি। সেই শক্তিকে সঙ্গে নিয়েই বিশ্ব দেখার স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে যেতে চান তিনি।