কেন লাল হয়েছিল ফেসবুক প্রোফাইল?প্রথম ধারণাটি কার ছিল?
২০২৪ সালের ২৯ জুলাই, কোটা সংস্কার আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে সংঘটিত সহিংসতায় নিহত ও নির্যাতিতদের স্মরণে সরকারিভাবে রাষ্ট্রীয় শোক পালনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। কিন্তু আন্দোলনকারীরা এই শোক দিবস প্রত্যাখ্যান করে, বরং সরকারের ভূমিকার প্রতিবাদ জানাতে সারাদেশে নতুন ধরণের কর্মসূচি গ্রহণ করেন—‘লাল প্রোফাইল’ কর্মসূচি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের বর্তমান সভাপতি এস এম ফরহাদ জানান, এই কর্মসূচির মূল ধারণাটি আসে আন্দোলনের সংগঠক আবু সাদিক কায়েমের মাধ্যমে। “ভাই (সাদিক কায়েম) পরামর্শ চান—রাষ্ট্র যখন কালো দিবস পালন করছে, তখন আমাদের কী করা উচিত। আমি বলি, আমরা পাল্টা লাল দিবস ঘোষণা করি। কারণ লাল হচ্ছে রক্তের প্রতীক, যা শহীদদের স্মরণ করায়।
এই পরামর্শের পরপরই একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তি প্রস্তুত করে তা আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায়ে সমন্বয়কারীদের পাঠানো হয় এবং দ্রুতই তা ঘোষণা করা হয়। পরদিন থেকেই দেখা যায়, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ফেসবুকে লাল প্রোফাইল ছবি ব্যবহার করছেন। এমনকি ড. ইউনূস, খালেদা জিয়ার ফেসবুক পেইজ থেকেও লাল প্রোফাইল শেয়ার করা হয় বলে জানান ফরহাদ।
তিনি আরও বলেন, “যেহেতু তখন গ্রেফতার ও মামলার ভয়ে সরাসরি মাঠের কর্মসূচি কঠিন ছিল, তাই আমরা সফ্ট (নিরাপদ) কর্মসূচি হিসেবে অনলাইন কার্যক্রমে মনোযোগ দিই। লাল প্রোফাইল কর্মসূচি ছিল সেই সফ্ট প্রোগ্রামের চূড়ান্ত ধাপ। জনসাধারণের প্রচণ্ড সাড়া দেখে আমরা পরে হার্ড (মাঠভিত্তিক) কর্মসূচিতে যাই।”
এই কর্মসূচির মাধ্যমে প্রতিবাদকারীরা শুধু সোশ্যাল মিডিয়াতেই নয়, বাস্তবেও মুখে ও চোখে লাল কাপড় বেঁধে প্রতিবাদ জানান। ‘লাল’ হয়ে ওঠে একটি শক্তিশালী প্রতীক—শুধু রক্তের নয়, বরং প্রতিরোধ ও সচেতনতার।