বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র শিবির পাবনা জেলা শাখার উদ্যোগে A+ সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত।
আবু ছাহিম। সাঁথিয়া, পাবনা: বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র শিবির পাবনা জেলা শাখার উদ্যোগে এসএসসি, দাখিল ও সমমান পরীক্ষায় কৃতকার্য মেধাবী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান গতকাল শনিবার (১৬ আগস্ট ২০২৫ ইং) এক বর্ণাঢ্য আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়। এ আয়োজনকে ঘিরে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় মহলে সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ।
এ+ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র শিবির পাবনা জেলা শাখার সভাপতি মুন্নাফ হোসাইন। উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র শিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার সিরাজুল ইসলাম। তিনি বলেন— “শিক্ষা কেবল ডিগ্রির জন্য নয়, বরং আদর্শ নাগরিক ও দায়িত্বশীল নেতৃত্ব গড়ে তোলার জন্য। তোমরা যারা আজ A+ অর্জন করেছ, আগামী দিনে তোমাদের হাতেই সমাজ ও দেশের নেতৃত্ব ন্যস্ত হবে।”
সভাপতির বক্তব্যে মুন্নাফ হোসাইন বলেন— “এই কৃতিত্ব তোমাদের প্রাপ্য, তবে এটিই শেষ নয়। ভবিষ্যতে তোমাদের দায়িত্ব আরও অনেক বড়। নৈতিকতা, জ্ঞান, চরিত্র ও নেতৃত্বের সমন্বয়ে তোমাদেরকে গড়ে তুলতে হবে। শিবির মেধাবী শিক্ষার্থীদের পাশে থেকে তাদের কল্যাণে কাজ করে যাবে।”
প্রধান আলোচক ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমীর শহীদ মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর সুযোগ্য সন্তান ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন। তিনি বলেন— “দেশকে এগিয়ে নিতে হলে দরকার সৎ, যোগ্য ও নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত তরুণ প্রজন্ম। কেবল ফলাফল নয়, চরিত্রবান হয়ে জাতিকে আলোর পথে নিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব তোমাদের কাঁধেই।”
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় শিক্ষা সম্পাদক ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ ইব্রাহিম। তিনি বলেন— “আজকের তরুণরা যদি প্রযুক্তি ও জ্ঞানচর্চায় দক্ষ হয়ে ইসলামী আদর্শে নিজেদের গড়ে তোলে, তবে এ জাতি বিশ্ব দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে সক্ষম হবে।”

উক্ত অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন পাবনা জেলা শাখার সেক্রেটারি মোঃ রাকিবুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত শিক্ষার্থীরা ফুলেল শুভেচ্ছা পেয়ে ও অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্য শুনে আনন্দিত হয়। তারা জানায়, এই সংবর্ধনা তাদের আত্মবিশ্বাস ও দায়িত্ববোধকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। অভিভাবকগণও শিক্ষার্থীদের প্রতি এ ধরণের আন্তরিকতা ও ভালোবাসার জন্য বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র শিবিরকে ধন্যবাদ জানান।
সার্বিকভাবে, সংবর্ধনা অনুষ্ঠানটি ছিল অনন্য এক প্রেরণার উৎসব, যা শিক্ষার্থীদের নতুন স্বপ্ন দেখিয়েছে এবং অভিভাবকদের অন্তরে জাগিয়েছে সন্তানের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের প্রত্যাশা।