ববির টিএসসি যেনো বোবা ভূত, ঠাঁই নেই অধিকাংশ সংগঠনের
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি: ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক চর্চা, আড্ডা এবং সামাজিক সংগঠনের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত হলেও, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) টিএসসি সেই চিত্রের সম্পূর্ণ বিপরীত। প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করছেন, তাদের টিএসসি এখন কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়েছে।
শিক্ষার্থীরা জানান, সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতে টিএসসি প্রায়ই বন্ধ থাকে। এমনকি অন্যান্য দিনেও নির্ধারিত সময়মতো এটি খোলা থাকে না, যার ফলে তারা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, আলোচনা সভা বা সাধারণ আড্ডার জন্য এই জায়গাটি ব্যবহার করতে পারেন না। ক্যাফেটেরিয়াও অধিকাংশ সময় অচল অবস্থায় থাকে।
ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী রনি খান বলেন, “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে টিএসসি ছাত্র-সংস্কৃতির অন্যতম কেন্দ্র। সেখানে শিক্ষার্থীরা মানসিক প্রশান্তি ও মতবিনিময়ের সুযোগ পায়। কিন্তু ববিতে টিএসসি কার্যক্রম প্রায় বন্ধ অবস্থায় পড়ে আছে।”
শিক্ষার্থীরা আরও অভিযোগ করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩৫টির বেশি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন থাকলেও, অল্প কয়েকটি সংগঠনকেই টিএসসিতে অফিস স্পেস বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ফলে বাকিরা কাজের জন্য পর্যাপ্ত জায়গা পাচ্ছেন না। অন্যদিকে, শিক্ষকদের জন্য বরাদ্দ একটি রুম অব্যবহৃত অবস্থায় থাকলেও সেটি শিক্ষার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করা হচ্ছে না।
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ক্যারিয়ার ক্লাবের সভাপতি মেহেদী আরেফিন বলেন, “শিক্ষকদের জন্য একটি পুরো ফ্লোর বরাদ্দ থাকায় শিক্ষার্থীদের চাহিদা পূরণে সীমাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। আমরা চাই প্রশাসন শিক্ষার্থীদের জন্য আরও রুম বরাদ্দ দিক এবং টিএসসির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করুক।”
এ প্রসঙ্গে টিএসসির পরিচালক মো. তারিকুল হক জানান, স্থান সংকট এবং জনবল ঘাটতির কারণেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রকল্প শেষ হলে সমস্যার সমাধান হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। নতুন কর্মী নিয়োগের বিষয়েও প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা চলবে বলে তিনি জানান।
শিক্ষার্থীরা মনে করছেন, টিএসসি যদি সঠিকভাবে ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হয়, তবে তারা একাডেমিক চাপের বাইরে এসে সাংস্কৃতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের মাধ্যমে নিজেদের মানসিক বিকাশ ঘটাতে পারবেন। তাদের মতে, এর মাধ্যমে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় আরও শিক্ষাবান্ধব ও প্রাণবন্ত হয়ে উঠবে।