প্রকাশকাল: ৫ অক্টোবর ২০২৫
ডাউনলোড: ২৬ জুন ২০২৬
অনলাইন সংস্করণ
QR Code
বিস্তারিত অনলাইনে পড়ুন
pagethenews.com /pagethenews

মিথ্যা মামলায় রাজি না হওয়ায় মেয়ের ওপর বাবার পৈশাচিক নির্যাতন!

পেজ দ্যা নিউজ ডেস্ক

রুহিন ইসলাম, সিলেট প্রতিনিধি: সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলায় ঘটেছে এক হৃদয়বিদারক ও লোমহর্ষক ঘটনা। নিজের মেয়ে, এসএসসি পরীক্ষার্থী মা-হারা মুন্নিকে (ছদ্ম নাম) মিথ্যা মামলায় জড়াতে রাজি না হওয়ায় বাবার হাতে ভয়াবহ নির্যাতনের শিকার হয়েছে সে। এরপর আশ্রয় নেয় মানবাধিকার সংস্থার শরণে।

মুন্নির মা মারা যাওয়ার পর বাবা সেলিম দ্বিতীয় বিয়ে করেন। সৎ মা এবং বাবার সংসারে ছোটবেলা থেকেই নানাভাবে অবহেলিত মুন্নি ২০২৪ সালে এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিলেন। কিন্তু সেই সময়েই তার জীবনে নেমে আসে ভয়ানক এক বিপর্যয়।

পারিবারিক বিরোধের জেরে মুন্নির বাবা এলাকার একজন প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে মিথ্যা ধর্ষণ মামলা করতে চেয়েছিলেন এবং এতে নিজ মেয়ে মুন্নিকে সাক্ষী বানাতে চাপে ফেলেন। কিন্তু ন্যায়ের পথে অটল থাকা মুন্নি তাতে রাজি হয়নি।

এরপরই শুরু হয় পৈশাচিক নির্যাতন। অভিযোগ রয়েছে, মুন্নির বাবা ও সৎ মা মিলে প্রথমে তার মুখ বেঁধে, পরে হাত-পা বেঁধে ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলিয়ে অমানবিক নির্যাতন চালান। পানি চাইলে সৎ মা তাকে বলে, “তোর শরীরের রক্ত খা!” তীব্র তৃষ্ণায় মুন্নি নিজের মুখ থেকে বের হওয়া রক্ত চেটে তৃষ্ণা মেটাতে বাধ্য হয়।

এই বিভীষিকাময় নির্যাতনের পরেও মিথ্যা মামলায় রাজি না হওয়ায় তাকে স্কুল থেকে উঠিয়ে নিয়ে গিয়ে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়। অসহায় মুন্নি তখন তার দাদির সঙ্গে গিয়ে সিলেট জেলা লিগ্যাল এইড অফিসে আশ্রয় নেয়।

সেখান থেকে বিষয়টি জানতে পারেন একদল মানবাধিকারকর্মী। তারা তখনই মুন্নির পাশে দাঁড়ান। জানা যায়, ঘটনাটি ঘটে দুপুর ৩টার দিকে, যেদিন ছিল মুন্নির এসএসসি ফরম পূরণের শেষ দিন। মানবাধিকার কর্মীরা তাৎক্ষণিকভাবে জৈন্তাপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে যোগাযোগ করে ফরম পূরণের ব্যবস্থা করেন।

পরদিন তারা মুন্নিকে নিয়ে স্কুলে গিয়ে তার ফরম পূরণ করিয়ে দেন। পাশাপাশি তার পড়ালেখার দায়িত্ব নেন, বই-খাতা, পড়ার টেবিল, বাজার সদাইসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় সবকিছু সরবরাহ করেন। পরবর্তীতে প্রশাসনের সহায়তায় মুন্নিকে তার বাবার বাড়িতেই থাকার আইনি অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া হয়।

এই ঘটনার পর মানবাধিকার সংস্থার পক্ষ থেকে মুন্নির বাবার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হয়। কিন্তু কিছুদিনের মধ্যেই মুন্নির বাবা মরণব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন।

বর্তমানে মুন্নি মানবাধিকার কর্মীদের সহায়তায় স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার লড়াই করছে।