পেজ দ্যা নিউজ
আমাদের সাথে যুক্ত থাকুন
সোমবার, ১১ মে, ২০২৬
শিরোনাম
লিঙ্ক কপি হয়েছে!

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের পুনর্বাসনের চেষ্টার অভিযোগ!

পেজ দ্যা নিউজ ডেস্ক প্রকাশিত: ১৮ অক্টোবর ২০২৫, ১২:৫৪ পিএম
|
আবাসিক সংকটে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা: ৪ জনের রুমে থাকেন ৮ জন

আবদুল্লাহ আল শাহিদ খান, ববি প্রতিনিধি: বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানবিরোধী হিসেবে অভিযুক্ত কিছু আওয়ামীপন্থী শিক্ষকের অধ্যাপক পদে পদোন্নতির উদ্যোগ গ্রহণ করায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ফ্যাসিবাদবিরোধী শিক্ষার্থী সংগঠনগুলো। তারা একে “ফ্যাসিস্ট পুনর্বাসনের প্রচেষ্টা” বলে আখ্যা দিয়েছে।

শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, ২০২৪ সালের ৩ আগস্ট এক জুম বৈঠকে শেখ হাসিনার পক্ষ নিয়ে এবং জুলাই আন্দোলনের শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলেন যেসব শিক্ষক, তাঁদেরই পদোন্নতির প্রক্রিয়া এখন শুরু করেছে প্রশাসন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলমের কাছে এক লিখিত আবেদন জমা দিয়ে শিক্ষার্থীরা এ পদোন্নতি প্রক্রিয়া বন্ধে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ৯০তম সিন্ডিকেট সভায় ওই ব্যক্তিদের পুনর্বাসনের উদ্দেশ্যে একটি পদোন্নতি বোর্ড গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের মতে, “এটি শুধু বিতর্কিত নয়, বরং শহীদদের প্রতি অবমাননার শামিল।”

শিক্ষার্থীরা বলেন, জুলাই আন্দোলনের সময় থেকে তারা এই শিক্ষক ও প্রশাসনিক ব্যক্তিদের বিচারের দাবি জানিয়ে আসছেন। পূর্বের উপাচার্য ড. শুচিতা শরমিনের সময়ও একই ধরনের আপসের অভিযোগ ছিল, যার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামেন। “আমাদের আন্দোলনের ফলে তখন উপাচার্য পরিবর্তন হলেও, এখনকার প্রশাসনও একই পথে হাঁটছে,” বলে দাবি করেন এক ছাত্রনেতা।

আবেদনে শিক্ষার্থীরা আরও উল্লেখ করেন, বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। ৫১টি শূন্য প্রভাষক পদের বিপরীতে মাত্র ১০ জন নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। একাডেমিক সংকট যখন প্রকট, তখন প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিতর্কিত শিক্ষক পদোন্নতিতে মনোযোগ দেওয়া ‘দায়িত্বহীন সিদ্ধান্ত’ বলে মনে করছেন শিক্ষার্থীরা।

ফ্যাসিবাদবিরোধী শিক্ষার্থী প্রতিনিধিরা বলেন, “সারা দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে যেখানে আন্দোলনবিরোধীদের বিচারের উদাহরণ রয়েছে, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় সেখানে সম্পূর্ণ ভিন্ন পথে চলছে। বিতর্কিত ব্যক্তিদের প্রশাসনিক ও একাডেমিক পদে বসানো হচ্ছে। এটা আমাদের জন্য অপমানজনক এবং শহীদদের প্রতি চরম অসম্মান।”

আবেদনে স্বাক্ষর করেছেন—এস. এম. ওয়াহিদুর রহমান, মো. শরীফ উল্লাহ, রবিউল ইসলাম, মো. মাইনুল ইসলাম ও মোস্তফা শাহরিয়ার।