প্রকাশকাল: ২১ অক্টোবর ২০২৫
ডাউনলোড: ২৭ জুন ২০২৬
অনলাইন সংস্করণ
QR Code
বিস্তারিত অনলাইনে পড়ুন
pagethenews.com /pagethenews

ববিতে বোটানির ছাত্র ইমনের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের হেনস্তা ও উত্যক্তের অভিযোগ

পেজ দ্যা নিউজ ডেস্ক

আবদুল্লাহ আল শাহিদ খান, ববি প্রতিনিধি: বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) উদ্ভিদতত্ত্ব (বোটানি) বিভাগের ১২তম ব্যাচের এক ছাত্র ইমনকে (পরবর্তীতে ১২তম ব্যাচে পুনঃভর্তি) একাধিক নারী শিক্ষার্থী হেনস্তা ও উত্যক্ত করার অভিযোগ করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো কয়েকটি স্ক্রিনশটে ইমনের পাঠানো বিভিন্ন ম্যাসেজ দেখানো হয়েছে, যেগুলোর মাধ্যমে ভুক্তভোগীরা নানা সময়ে তাকে উত্ত্যক্ত করার কথা জানায়।

ভুক্তভোগীরা—যাদের পরিচয় নিরাপত্তাজনিত কারণে গোপন রাখা হয়েছে—বলেন, কক্সবাজার থেকে ফেরার সময় লঞ্চঘাট থেকে রূপাতলি পর্যন্ত ফেরা পথে এক অটোর মধ্যে দুই যুবক তাদের বিরক্ত করে। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ে ওই একই যুবককে দেখার পর তারা তাকে চিনে ফেলেন; তখন ইমন নিজের পরিচয় অস্বীকার করে এবং অশ্লীল ভাষায় আচরণ করে। পরে ভুক্তভোগীর বন্ধুরা তাকে পরিচয় জানালে জানা যায় যে অভিযুক্ত ব্যক্তি বোটানি বিভাগের ইমন।

অন্য এক ভুক্তভোগী জানান, ইমন বারবার ফোন এবং কল করে হয়রানি করত; মিথ্যা ভাবে নিজেকে পছন্দ বলে দাবি করত। ভুক্তভোগী ইগনোর করলে বা যোগাযোগ বন্ধ করলে ইমন বিভিন্ন আইডি থেকে বারবার কল করে ও ডিস্টার্ব করত—যা তাদের মতে ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও সম্মানের পরিপন্থী। তিনি দাবি করেন, ইমনের বিরুদ্ধে উপযুক্ত প্রশাসনিক ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি রাখেন।

সংবাদকেও ভুক্তভোগীদের দেওয়া স্ক্রিনশট এবং বিবরণ দেখা গেছে, যেখানে বিভিন্ন সময়ে নানা রকম অনুপযুক্ত বার্তা পাঠানোর প্রমাণ রয়েছে। ভুক্তভোগীরা দাবি করেন যে এ ধরনের আচরণ শুধু ব্যক্তিগত সীমা ভঙ্গ নয়, এটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মর্যাদারও ধারণযোগ্য ক্ষতি ঘটাতে পারে।

অভিযুক্ত ইমনকে কন্টাক্ট করে বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ইমন বর্তমানে ক্যাম্পাসে আছে কিনা তা সম্পর্কে পরিস্কার তথ্য পাওয়া যায়নি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোক্টর ড. রাহাত হোসেন ফয়সাল বলেন, ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে; বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও বিধিমালা অনুসারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি আরও বলেন, অভিযোগের স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করা হবে এবং তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে যথোপযুক্ত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এই ঘটনার স্ব পরিপ্রেক্ষিতে ক্যাম্পাসে সে মেয়েদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং হেনস্তা-উত্যক্তি প্রতিরোধে কড়াকড়ি জোরদার করার দাবি তুলেছেন শিক্ষক ও ছাত্র নেতারা। কিছু শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসে সিসি ক্যামেরা বৃদ্ধিসহ নিরাপত্তা প্রহরী নিয়োগের প্রস্তাব দিয়েছেন।

বর্তমান অবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের তদন্ত প্রতিবেদন পাবার পরই পরবর্তী শাস্তিমূলক সিদ্ধান্ত জানানো হবে বলে প্রোক্টর কর্তৃক আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।