প্রকাশকাল: ৩০ এপ্রিল ২০২৬
ডাউনলোড: ১৪ আগস্ট ২০২৬
অনলাইন সংস্করণ
QR Code
বিস্তারিত অনলাইনে পড়ুন
pagethenews.com /pagethenews

আগাম পানিতে হাওর প্লাবিত, নিকলীতে পানির মধ্যেই ধান কাটছেন কৃষকেরা

পেজ দ্যা নিউজ ডেস্ক

নিকলী উপজেলা প্রতিনিধি: কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলার হাওরাঞ্চলে অকাল বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পানির কারণে বিস্তীর্ণ ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে গেছে।

এতে পাকা ও অর্ধপাকা বোরো ধান ডুবে যাওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় কৃষকেরা জানিয়েছেন, দ্রুত পানি বৃদ্ধির কারণে ফসল রক্ষায় তারা বাধ্য হয়ে পানির মধ্যেই ধান কাটতে শুরু করেছেন। তবে শ্রমিক সংকট, অনিয়মিত আবহাওয়া এবং রোদ না থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

নিকলী একটি হাওরবেষ্টিত কৃষিনির্ভর উপজেলা। এখানকার অধিকাংশ মানুষের জীবিকা সরাসরি ধান চাষের ওপর নির্ভরশীল। বছরের একটি মৌসুমেই তারা মূল ফসল উৎপাদন করেন, যা দিয়ে সারা বছরের সংসার চলে।

স্থানীয় কৃষকেরা জানান, ধান চাষে তারা মাসের পর মাস কঠোর পরিশ্রম করেন। কেউ বলেন, একজন গর্ভধারিণী মা যেমন দীর্ঘ সময় কষ্ট সহ্য করে সন্তানকে আগলে রাখেন, ঠিক তেমনি একজন কৃষকও মাঠে দিন-রাত পরিশ্রম করে ফসল গড়ে তোলেন। রোদ, বৃষ্টি, ঝড়-শীত উপেক্ষা করেই তারা স্বপ্ন দেখেন ফসল ঘরে তোলার।

কিন্তু এবারের পরিস্থিতি তাদের সেই স্বপ্নে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।

বর্তমানে আকাশে ঘন কালো মেঘ জমে আছে। টানা বৃষ্টি এবং উজান থেকে নেমে আসা ঢলের কারণে ধনু ও ঘোড়াউত্রা নদীসহ আশপাশের জলাশয়ের পানি দ্রুত বাড়ছে। ফলে হাওরের নিম্নাঞ্চলে পানি প্রবেশ করে অনেক ধানক্ষেত তলিয়ে যাচ্ছে।

এ অবস্থায় অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে আগাম অর্ধপাকা ধান কাটছেন। তারা জানান, পানির চাপ বাড়তে থাকায় ফসল পুরোপুরি পাকার আগেই মাঠ থেকে তুলে নিতে হচ্ছে।

তবে কৃষকেরা সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন শ্রমিক সংকটে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এক হাজার টাকার বেশি মজুরি দিয়েও পর্যাপ্ত শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। যারা কাজ করতে আগ্রহী, তারাও বৃষ্টির কারণে নিয়মিত কাজে নামতে পারছেন না।

একজন কৃষক বলেন, “ধান কাটার সময় এখনই, কিন্তু শ্রমিক নেই। যাদের পাওয়া যাচ্ছে, তারা বৃষ্টির কারণে আসতে পারছে না।”

অন্যদিকে কাটা ধান শুকানোর ক্ষেত্রেও বড় সংকট দেখা দিয়েছে। আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকায় পর্যাপ্ত রোদ পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে ধান ভিজে নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে। এতে একদিকে উৎপাদন কমে যাওয়ার আশঙ্কা, অন্যদিকে আর্থিক ক্ষতির ভয় তীব্র হচ্ছে।

স্থানীয় কৃষকেরা জানান, পানির মধ্যে দাঁড়িয়ে ধান কাটার দৃশ্য এখন হাওরের সাধারণ চিত্রে পরিণত হয়েছে। কোমর বা হাঁটু পানিতে নেমে তারা কষ্ট করে ফসল সংগ্রহ করছেন, যাতে অন্তত কিছু অংশ রক্ষা করা যায়।

দিন শেষে কৃষকেরা এখন সরকারের দিকেই তাকিয়ে আছেন। তারা আশা করছেন, দ্রুত কার্যকর উদ্যোগের মাধ্যমে পানি নিয়ন্ত্রণ, কৃষি সহায়তা এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে দাঁড়ানো হবে।

তাদের আশঙ্কা, সময়মতো ব্যবস্থা না নিলে চলতি মৌসুমে হাওরাঞ্চলে বড় ধরনের ফসলহানি ঘটতে পারে, যার প্রভাব পড়বে পুরো এলাকার অর্থনীতিতে।