গণপরিবহনে সেইভ আওয়ার উইমেন বাংলাদেশ চট্টগ্রাম ডিভিশনের স্টিকার প্রজেক্ট
চট্টগ্রামের গণপরিবহনে এখন শুধু যানজট আর হর্নের শব্দ নয়। আছে এক টুকরো রঙিন কাগজের নীরব প্রতিবাদ। বাসের দেয়ালে, সিটের পেছনে, এমনকি দরজার কাঁচেও লাগানো সেই স্টিকারগুলো যেন কথা বলছে এখানে কেউ একা নয়। এই উদ্যোগের পেছনে রয়েছে সেইভ আওয়ার উইমেন বাংলাদেশের চট্টগ্রাম ডিভিশন। তাদের নারীর নিরাপত্তার নীরব বিপ্লব স্টিকার প্রজেক্ট কোনো সাধারণ প্রচারণা নয়। এটি এক ধরনের নীরব পাহারাদার।
দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রামের গণপরিবহনে নারীদের অভিজ্ঞতা প্রায় একই রকম অবাঞ্ছিত স্পর্শ, কটূক্তি, চাপানো দৃষ্টি। অনেকেই নীরব থাকেন। ভয়, লজ্জা আর কে শুনবে এই তিনটি শব্দ তাদের মুখ বন্ধ করে রাখে। সেই নীরবতাকে ভাঙতেই ছোট্ট এক টুকরো স্টিকারকে হাতিয়ার করেছে সংগঠনটি।
সেইভ আওয়ার উইমেন বাংলাদেশ চট্টগ্রাম ডিভিশনের সভাপতি বলেন, এটা শুধু কাগজ নয়। এটা নারীর আওয়াজকে দেয়ালে এঁকে দেওয়া। কেউ যদি হাত বাড়ায়, তখন শুধু ভুক্তভোগী নন পুরো বাসের যাত্রীরাও দেখতে পায়, এখানে কেউ একা নয়।
প্রজেক্টের প্রতি সংহতি জানিয়ে আহ্বায়ক রাহাত হাসান বলেন, আমরা চাই না শুধু পোস্টার লাগিয়ে বিদায় নেই। আমরা চাই প্রতিটি বাস, প্রতিটি অটো যেন নারীর নিরাপত্তার বার্তা বহন করে। চালক, হেলপার, যাত্রী সবাই যেন মনে রাখে, এখানে কেউ অদৃশ্য নয়।স্টিকারগুলো শুধু সতর্কবার্তা নয়, এক ধরনের সামাজিক চুক্তি। যেন বাসের দেয়াল নিজেই বলছে এখানে অপরাধ সহ্য করা হবে না। ইতিমধ্যে চট্টগ্রামের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রুটে এই স্টিকার ছড়িয়ে পড়েছে। স্বেচ্ছাসেবীরা জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে পুরো বিভাগ জুড়েই এই নীরব বিপ্লব বিস্তৃত করা হবে।
উল্লেখ্য, সেইভ আওয়ার উইমেন বাংলাদেশ চট্টগ্রাম ডিভিশন এখন পর্যন্ত ৫০টিরও বেশি অনলাইন ও অফলাইন নারী হয়রানির কেস সমাধান করেছে, যা নেটিজেনদের প্রশংসা কুড়িয়েছে। বড় পরিবর্তন সবসময় বড় ব্যানার দিয়ে আসে না। কখনো কখনো তা আসে এক টুকরো স্টিকারের মধ্য দিয়ে। চট্টগ্রামের রাস্তায় সেই নীরব বিপ্লবই এখন ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ছে।