প্রকাশকাল: ৭ জুন ২০২৬
ডাউনলোড: ৭ জুন ২০২৬
অনলাইন সংস্করণ
QR Code
বিস্তারিত অনলাইনে পড়ুন
pagethenews.com /pagethenews

চট্টগ্রাম মেডিকেলে কর্মবিরতিতে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা

এম. ইউসুফ মাহমুদ

এফসিপিএস প্রশিক্ষণ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার, স্বাস্থ্যকর্মী সুরক্ষা আইন প্রণয়নসহ ছয় দফা দাবি আদায়ে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করেছেন চট্টগ্রাম মেডিকেল হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকরা।

রোববার সকাল ৮টা থেকে কর্মবিরতিতে যান ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। তবে এতে চিকিৎসা সেবা ‘পুরোপুরি বিঘ্নিত হচ্ছে না’ বলে দাবি তাদের।

এদিকে দাবি আদায়ে বেলা সাড়ে ১১টায় মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভবনের নিচে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ দেখিয়েছে ইন্টার্ন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন।

এর আগে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের একটি নোটিশের প্রেক্ষিতে চিকিৎসকদের প্রতি সংঘটিত বৈষম্য ও অন্যায়ের প্রতিবাদে গত ৩ জুন থেকে দেশের বিভিন্ন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মত চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকরা আন্দোলন করেন।

অ্যসোসিয়েশনের সভাপতি সাকিব হোসেন বলেন, “ছয় দফা দাবি আদায়ে সারাদেশের সব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একযোগে কর্মবিরতি কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। তার অংশ হিসেবে আমরাও চমেক হাসপাতালে কর্মবিরতি পালন করছি।

সাকিব হোসেন বলেন, “আমরা ইন্টার্ন ডাক্তাররা কর্মবিরতি শুরু করলেও চমেক হাসপাতালের ট্রেইনি ডাক্তাররা দায়িত্ব পালন করছেন। তাই চিকিৎসা সেবা কিছুটা ব্যাহত হলেও বন্ধ হয়ে যায়নি।

“এখনো আউটডোর এবং ইমার্জেন্সিসহ সব রকম সেবা সচল আছে। তবে দাবি আদায় না হলে আমরা কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হব।”

হাসপাতালের চিকিৎসকদের পাশাপাশি ২৯০ জন ইন্টার্ন চিকিৎসক এবং প্রায় এক হাজার ট্রেইনি চিকিৎসক দায়িত্ব পালন করেন।

সম্প্রতি স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয় এফসিপিএস ট্রেনিং বিষয়ক কিছু সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। সেখানে ঢাকা মেডিকেল ও সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের কিছু বিভাগে নতুন পদায়ন বন্ধ, উপজেলায় দুই বছর বাধ্যতামূলক সেবাদান এবং মেধাভিত্তিক সীমিত ভাতার বিধান রাখা হয়।

ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ছয় দফা দাবির মধ্যে আছে- স্বাস্থ্যশিক্ষা ও পরিবারকল্যাণ বিভাগের গত ১৯ মে জারি করা এফসিপিএস প্রশিক্ষণসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে নতুন নির্দেশনা দেওয়া, স্বাস্থ্যকর্মী সুরক্ষা আইন প্রণয়ন ও দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে তা বাস্তবায়ন, ইন্টার্ন চিকিৎসকদের মাসিক ভাতা ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ এবং সরকারি চিকিৎসকদের জন্য পৃথক বেতনকাঠামো প্রণয়ন।

এছাড়া বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারে প্রবেশের বয়সসীমা ৩৪ বছর নির্ধারণ, বিএমডিসি আইন-২০২৫ কে অধ্যাদেশের পরিবর্তে পূর্ণাঙ্গ আইনে রূপান্তর এবং ভুয়া চিকিৎসক পরিচয়দানকারী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।

পাশাপাশি বিএমডিসি ও বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন সব ভর্তি পরীক্ষার ফি এক হাজার টাকার মধ্যে নির্ধারণের দাবিও জানানো হয়।

ইন্টার্ন ডাক্তারদের দাবির প্রেক্ষিতে সবশেষ বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ানস অ্যান্ড সার্জনস (বিসিপিএস) সম্প্রতি একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে।

ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ১৯ মে মন্ত্রণালয় থেকে নীতিমালা জারির পর সৃষ্ট পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং বিসিপিএস কর্তৃপক্ষের মধ্যে আলোচনা হয়।

আলোচনার ভিত্তিতে উপজেলায় প্রশিক্ষণ গ্রহণের শর্ত বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া এফসিপিএস প্রথম পর্বে উত্তীর্ণ বেসরকারি প্রশিক্ষণার্থীরা এখন থেকে বিসিপিএস স্বীকৃত সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও ইন্সিটিটিউটে প্রশিক্ষণ নিলে প্রশিক্ষণ ভাতার আওতাভুক্ত হবেন। তবে সব দাবি পূরণ না হওয়ায় কর্মবিরতি শুরু করল ইন্টার্ন ডাক্তাররা।