পেজ দ্যা নিউজ
আমাদের সাথে যুক্ত থাকুন
সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬
শিরোনাম
লিঙ্ক কপি হয়েছে!

জনরায় মানে না যে সরকার, সে সরকার জনগণের সরকার হতে পারে না: ডা. শফিকুর রহমান

এম. ইউসুফ মাহমুদ
এম. ইউসুফ মাহমুদ , বিশেষ প্রতিনিধি প্রকাশিত: ১৪ জুন ২০২৬, ০১:৪৩ পিএম

গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জনদুর্ভোগ নিরসন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং জনগণের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে চট্টগ্রাম বিভাগীয় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (১৩ জুন) বিকেল ২টা ৪৫ মিনিটে চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক লালদীঘি ময়দানে অনুষ্ঠিত এ সমাবেশে চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ অংশগ্রহণ করেন।

সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এমপি।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এমপি বলেন, “দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষের রায়কে অগ্রাহ্য করে কোনো সরকার দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকতে পারে না। জনগণের মতামতকে উপেক্ষা করা গণতন্ত্রের চেতনার পরিপন্থী। জনগণ তাদের ভোটাধিকার ও গণরায়ের যথাযথ প্রতিফলন দেখতে চায়। সরকার যদি জনগণের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়, তাহলে জনগণই তার জবাব দেবে।”

তিনি বলেন, “দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সেক্টরে যোগ্য, সৎ ও দেশপ্রেমিক লোকদের মূল্যায়ন না করে ভিন্নমতাবলম্বীদের দমন এবং দলীয়করণের মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনা করা হচ্ছে। সংসদে জনগণের সমস্যা, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও জাতীয় স্বার্থের বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলতে গেলেও নানা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হচ্ছে। অথচ সংসদ জনগণের কথা বলার জায়গা।”

ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, “বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থ কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা বিদেশি শক্তির কাছে ইজারা দেওয়া হবে না। দেশের ১৮ কোটি মানুষ ঐক্যবদ্ধভাবে এই দেশকে রক্ষা করবে। আমরা জাতির সঙ্গে বেঈমানি করবো না; জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজন হলে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করতেও প্রস্তুত আছি।”

তিনি বলেন, “দেশে চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি আজ প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করেছে। নির্বাচিত ও জবাবদিহিমূলক সরকার প্রতিষ্ঠিত হলে এসব অপসংস্কৃতির অবসান ঘটবে। জনগণের ন্যায্য অধিকার আদায়, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গঠনের সংগ্রাম চলবে সংসদেও, রাজপথেও। ভয়ভীতি, মামলা-হামলা কিংবা কারাবাসের হুমকি দিয়ে জনগণের আন্দোলন দমিয়ে রাখা যাবে না।”

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম এমপি বলেন, “সরকার ঘোষিত বাজেট সাধারণ মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে ব্যর্থ হয়েছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, জ্বালানি সংকট, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় জনগণ চরম দুর্ভোগে রয়েছে। অথচ বাজেটে এসব সংকট মোকাবিলায় কার্যকর কোনো দিকনির্দেশনা নেই।”

তিনি বলেন, “মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে জনগণের জীবনে যে দুর্ভোগ নেমে এসেছে, তা দেশের মানুষকে হতাশ ও ক্ষুব্ধ করে তুলেছে। সরকার জনগণের কষ্ট উপলব্ধি না করে সমালোচনাকে উপহাসের চোখে দেখছে। বাস্তবতা হলো, দেশের অর্থনীতি ও জনজীবন আজ গভীর চাপের মধ্যে রয়েছে।”

নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, “ব্যাংকিং খাত, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও রাষ্ট্রীয় সম্পদের সুশাসন নিশ্চিত করতে হবে। কোনো গোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষার জন্য জাতীয় সম্পদকে ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেওয়া যাবে না। জনগণের আমানত ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ভিত্তিতে পরিচালনা করতে হবে।”

লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী ড. কর্নেল অলি আহমদ (বীর বিক্রম) বলেন, “দেশের সার্বিক পরিস্থিতি জনগণকে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, সামাজিক অস্থিরতা এবং জননিরাপত্তার সংকট সাধারণ মানুষের জীবনকে অনিশ্চিত করে তুলেছে। নারীরা ঘরের বাইরে নিরাপত্তাহীনতা অনুভব করছে, শিক্ষার্থী ও কর্মজীবী মানুষের মধ্যেও উদ্বেগ বিরাজ করছে।”

তিনি বলেন, “সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিক হত্যার ঘটনা অব্যাহত থাকলেও সরকারকে আরও কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিতে হবে। জাতীয় স্বার্থ ও মর্যাদা রক্ষায় শক্তিশালী, আত্মমর্যাদাসম্পন্ন ও ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি গ্রহণের বিকল্প নেই।”

কর্ণেল অলি আহমদ বলেন, “সরকারকে জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী কার্যকর নেতৃত্ব দিতে হবে। রাষ্ট্র পরিচালনায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং জনগণের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া জরুরি। দেশের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণেও সরকারের বিশেষ উদ্যোগ প্রয়োজন।”

তিনি চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক আন্দরকিল্লা শাহী জামে মসজিদের সংস্কার ও সংরক্ষণের দাবি জানিয়ে বলেন, “এটি শুধু একটি ধর্মীয় স্থাপনা নয়, বরং চট্টগ্রামের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের অংশ। সরকারের উদ্যোগে দ্রুত এর প্রয়োজনীয় সংস্কার ও পুনরুদ্ধার কার্যক্রম গ্রহণ করা উচিত।”

সভাপতির বক্তব্যে মুহাম্মদ শাহজাহান বলেন, “জুলাই চেতনা ধারণ করে নতুন বাংলাদেশ গড়তে গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নের বিকল্প নেই। কর্তৃত্ববাদী ও স্বৈরশাসকদের পরিণতি কখনো শুভ হয় না। আমরা সরকারকে বিরোধী দলসমূহকে সঙ্গে নিয়ে আইনের শাসন, ন্যায়বিচার ও জনগণের প্রত্যাশা বাস্তবায়নের মাধ্যমে নতুন বাংলাদেশ গঠনে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাই।”

আল্লামা মামুনুল হক বলেন, “জনগণের আকাঙ্ক্ষা ও প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। বিভ্রান্তিকর বক্তব্য ও জনমতের বিপরীতে অবস্থান গ্রহণ না করে জনগণের দাবি মেনে নেওয়াই হবে রাষ্ট্র পরিচালনার সঠিক পথ।”