আজ বিশ্ব ডিম দিবস!
আজ শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বিশ্ব ডিম দিবস। প্রতি বছর অক্টোবর মাসের দ্বিতীয় শুক্রবার বিশ্বব্যাপী দিবসটি পালিত হয়। ডিমের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি, পুষ্টি চাহিদা পূরণে এর ভূমিকা তুলে ধরা এবং ডিম উৎপাদন ও ভোগে উৎসাহিত করাই দিবসটির অন্যতম লক্ষ্য।
১৯৯৬ সালে অস্ট্রিয়ার ভিয়েনায় ইন্টারন্যাশনাল এগ কমিশনের এক সম্মেলনে বিশ্ব ডিম দিবস পালনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। সেই ধারাবাহিকতায় এ বছর দিবসটির ৩০তম আয়োজন পালিত হচ্ছে। এবারের প্রতিপাদ্য ‘শক্তি ও পুষ্টিতে ভরপুর ডিম’।
দিবসটি উপলক্ষে বাংলাদেশে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর, ওয়ার্ল্ডস পোল্ট্রি সায়েন্স অ্যাসোসিয়েশন-বাংলাদেশ শাখা এবং বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ সেন্ট্রাল কাউন্সিলের উদ্যোগে বিভিন্ন সচেতনতামূলক কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে শোভাযাত্রা, সেমিনার ও আলোচনা সভা। পাশাপাশি সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে বিভিন্ন এতিমখানা ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মধ্যে ডিম বিতরণের কর্মসূচিও রয়েছে।
পুষ্টিবিদদের মতে, ডিম উচ্চমানের প্রোটিনসহ ভিটামিন এ, ডি ও বি১২ এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদানের গুরুত্বপূর্ণ উৎস। সুষম খাদ্যতালিকায় ডিম অন্তর্ভুক্ত করা শরীরের স্বাভাবিক বৃদ্ধি, সুস্থতা ও পুষ্টির চাহিদা পূরণে সহায়ক।
তবে ডিমের পুষ্টিগুণের প্রচারের পাশাপাশি দেশের বাজারে এর ক্রমবর্ধমান দামও ভোক্তাদের জন্য উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে। সরবরাহ করা তথ্য অনুযায়ী, ঢাকার খুচরা বাজারে বর্তমানে প্রতি ডজন ডিম ১৬০ থেকে ১৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ফলে সীমিত আয়ের মানুষের নিয়মিত খাদ্যতালিকায় ডিম রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে।
সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পোল্ট্রি শিল্পের টেকসই উন্নয়ন, উৎপাদন ও সরবরাহব্যবস্থা সচল রাখা এবং বাজারে ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা জরুরি। এতে একদিকে উৎপাদকদের স্বার্থ রক্ষা হবে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষও সহজে পুষ্টিকর এই খাদ্য কিনতে পারবেন।
বিশ্ব ডিম দিবসের তাৎপর্য কেবল ডিমের পুষ্টিগুণ প্রচারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং সব শ্রেণির মানুষের জন্য সাশ্রয়ী মূল্যে পুষ্টিকর খাদ্য নিশ্চিত করার বিষয়টিও সমান গুরুত্বপূর্ণ।