নিকলী উপজেলা প্রতিনিধি: কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলা হাওরবেষ্টিত একটি জনপদ, যেখানে মানুষের জীবনযাত্রা পুরোপুরি নির্ভরশীল প্রকৃতির ওপর। বছরের ছয় মাস কৃষিকাজ এবং বাকি সময় মাছ ধরার মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করেন স্থানীয়রা। “মাছে-ভাতে বাঙালি” প্রবাদটির বাস্তব প্রতিফলন মেলে এই অঞ্চলের প্রতিটি ঘরে।
তবে চলতি মৌসুমে সেই স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। ধান পাকার আগমুহূর্তেই হাওরে আগাম পানি বৃদ্ধির শঙ্কা দেখা দেওয়ায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন কৃষকরা।
স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ধান রোপণের শুরু থেকেই ভালো ফলনের আশায় বুক বাঁধেন তারা। কিন্তু প্রায় প্রতি বছরই ফসল ঘরে তোলার আগে প্রকৃতির বৈরী আচরণ তাদের সেই স্বপ্ন ভেঙে দেয়।
কৃষকদের অভিযোগ, যখন ধান পাকার সময় ঘনিয়ে আসে, ঠিক তখনই হঠাৎ আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে ওঠে এবং নদ-নদীর পানি বাড়তে শুরু করে। এতে হাওরের বিস্তীর্ণ জমি প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়।
এ পরিস্থিতিতে অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে অর্ধপাকা ধানই কেটে ফেলছেন। এতে একদিকে যেমন উৎপাদন কমে যাচ্ছে, অন্যদিকে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন তারা।
নিকলীর এক কৃষক বলেন, “অনেক কষ্ট করে ধান চাষ করি। কিন্তু পানি বাড়ার ভয় থাকায় আগেই কেটে ফেলতে হচ্ছে। এতে ফলন কম হচ্ছে, লোকসান গুনতে হচ্ছে।”
স্থানীয়দের দাবি, প্রতিবছর আগাম পানি বৃদ্ধির কারণে একই ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন তারা। টেকসই বাঁধ নির্মাণ, আগাম সতর্কবার্তা এবং দ্রুত সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করা গেলে এ ক্ষতি অনেকাংশে কমানো সম্ভব বলে মনে করছেন তারা।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগই পারে হাওরাঞ্চলের কৃষকদের স্বস্তি ফিরিয়ে দিতে—এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয়দের।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ রাইহান উদ্দিন এবং নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুল কাইয়ুম মিয়াজী কর্তৃক গাজীপুর, ঢাকা, বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত। ইমেইলঃ pagethenews@gmail.com
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ “পেজ দ্যা নিউজ” কর্তৃপক্ষ দ্বারা সংরক্ষিত। © ২০২৫