প্রকাশকাল: ২৩ জুলাই ২০২৬
ডাউনলোড: ২৩ জুলাই ২০২৬
অনলাইন সংস্করণ
QR Code
বিস্তারিত অনলাইনে পড়ুন
pagethenews.com /pagethenews

ফুটপাত দখল ও চলাচলে বাধা: দুর্ভোগের শেষ কোথায়?

ইকরাম আকাশ

ফুটপাতে হাঁটার জন্য আজকাল যেন রীতিমতো অনুমতির প্রয়োজন হয়! সাধারণ পথচারীদের জন্য তৈরি করা হাঁটার এই জায়গাগুলো এখন আর তাদের নেই। প্রতিদিনের এই অসহনীয় পরিস্থিতি নিয়ে সাধারণ মানুষ মুখ বুজে সহ্য করে যাচ্ছে। কেন এই নীরবতা? কারণ, দুর্নীতির অন্তরালে যে সংঘবদ্ধ চক্র গড়ে উঠেছে, তাদের বিরুদ্ধে কথা বললে স্বাভাবিক জীবনই বিপন্ন হওয়ার শঙ্কা থাকে। দুর্ঘটনা এড়াতে রাস্তার বদলে ফুটপাতে হাঁটার জন্য সচেতনতা বাড়ানো হচ্ছে, অথচ সেই ফুটপাতেই হাঁটার নূন্যতম কোনো পরিবেশ নেই।

সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে কিছু এলাকায় ফুটপাত সংস্কার করে পথচারীদের হাঁটা ও বিশ্রামের দারুণ সুযোগ তৈরি করা হয়েছে। চট্টগ্রামের জামালখান এলাকা এর চমৎকার একটি উদাহরণ। একসময় যেখানে হাঁটতে নানা সমস্যা হতো, এখন সেখানে স্বস্তিতে সময় কাটানো যায়। কিন্তু মুদ্রার উল্টো পিঠও আছে। অনেক এলাকায় ফুটপাতের সৌন্দর্য নষ্ট করে সেগুলোকে অসাধু ব্যবসায়ীরা নিজেদের ঘাঁটি বানিয়ে ফেলেছে। সাধারণ মানুষ সেখানে আক্ষরিক অর্থেই জিম্মি। কেউ প্রতিবাদ করলে ব্যবসায়ী ও তাদের কর্মচারীরা সংঘবদ্ধ হয়ে সাধারণ মানুষকে হেনস্তা করে। প্রশ্ন জাগে, এতটা বেপরোয়া হওয়ার সাহস তারা পায় কোথা থেকে? এদের পেছনের মদদদাতা আসলে কারা?

ফুটপাত ও রাস্তা দখল করে এসব ব্যবসা পরিচালনার কারণে রাষ্ট্র বা সিটি কর্পোরেশন আর্থিকভাবে কতটা লাভবান হচ্ছে, তা নিয়ে বড় একটি প্রশ্ন থেকে যায়। মাঝেমধ্যে যানজট নিরসন ও ফুটপাত দখলমুক্ত করতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশের যৌথ অভিযান দেখা যায়। কিন্তু অবাক করা বিষয় হলো, অভিযানের খবর আগে থেকেই ব্যবসায়ীদের কাছে পৌঁছে যায়। ম্যাজিস্ট্রেট আসার আগেই রাস্তা ও ফুটপাত একেবারে পরিষ্কার হয়ে যায়। মনে হয় যেন সেখানে কোনোদিন কোনো অবৈধ দখল ছিল না। কিন্তু অভিযান শেষ হতে না হতেই পরিস্থিতি আবার আগের মতো হয়ে যায়। এই ইঁদুর-বিড়াল খেলায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হন সাধারণ মানুষ।

যানজট কমানোর জন্য রাস্তা বড় করা হলেও দেখা যায় এর বড় একটা অংশ অবৈধ পার্কিংয়ের দখলে। অন্যদিকে ফুটপাতে ব্যবসায়ীদের মালামাল থাকায় পথচারীরা বাধ্য হয়ে মূল সড়কের ধার ঘেঁষে হাঁটেন, যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং প্রায়ই দুর্ঘটনার কারণ হয়। ব্যবসায়ীরা ব্যবসা করে মুনাফা অর্জন করবেন এবং দেশের অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখবেন, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করে এমন ব্যবসা মেনে নেওয়া যায় না। ফুটপাত ও রাস্তা দখলমুক্ত করা গেলে যানজট কমার পাশাপাশি পথচারীদের নিরাপত্তাও নিশ্চিত হবে। এ জন্য দরকার প্রশাসনের কঠোর ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ এবং সিটি কর্পোরেশনের নিয়মিত তদারকি।

চট্টগ্রামের জিইসি মোড়, চকবাজার, আগ্রাবাদ মোড়, বাদামতলী মোড়, ২নং গেট, বহদ্দারহাট, ইপিজেড, কাটগড় মোড়, নিমতলা, বড়পুল মোড়, অলংকার ও নিউমার্কেটসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় ফুটপাত দখলের চিত্র অত্যন্ত ভয়াবহ। এসব এলাকার অসাধু ব্যবসায়ীদের হাত থেকে সাধারণ মানুষকে স্বস্তি দিতে এবং নিরাপদ যাতায়াতের অধিকার ফিরিয়ে দিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া এখন সময়ের দাবি।

লেখক: শিক্ষার্থী, সরকারি কমার্স কলেজ, চট্টগ্রাম।
শুভ্র/