প্রকাশকাল: ৫ জুন ২০২৬
ডাউনলোড: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
অনলাইন সংস্করণ
QR Code
বিস্তারিত অনলাইনে পড়ুন
pagethenews.com /pagethenews

অনলাইন জুয়ার আগ্রাসনে ধ্বংসের মুখে যুবসমাজ

অংকন মজুমদার

অনলাইন জুয়ার বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে পাবনার ভাঙ্গুড়া, চাটমোহর ও ফরিদপুর উপজেলাসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌরসভা এলাকায় গোপনে অনলাইন জুয়ার নেটওয়ার্ক পরিচালিত হচ্ছে, যেখানে অসংখ্য কিশোর ও যুবক জড়িয়ে পড়ছে।

স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, অনলাইন জুয়ার কারণে অনেক পরিবার অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সহজে অর্থ উপার্জনের আশায় তরুণরা এ আসক্তিতে জড়িয়ে পড়ে সর্বস্ব হারাচ্ছে। এর ফলে পারিবারিক কলহ, ঋণের বোঝা এবং সামাজিক অস্থিরতা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

এলাকাবাসীর মতে, অনলাইন জুয়ার নেতিবাচক প্রভাব আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতেও পড়ছে। জুয়ার টাকা জোগাড় করতে গিয়ে কিছু ব্যক্তি চুরি, ছিনতাই, মাদক ব্যবসাসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে। পাশাপাশি কিশোর ও যুবকদের মধ্যে গ্যাং সংস্কৃতির বিস্তার নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অনেকে।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি এবং অভিযোগগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
সচেতন নাগরিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজসেবীরা মনে করেন, শুধু আইন প্রয়োগকারী সংস্থার অভিযান নয়, অনলাইন জুয়া প্রতিরোধে প্রয়োজন ব্যাপক সামাজিক সচেতনতা। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, মসজিদের ইমাম, জনপ্রতিনিধি, অভিভাবক এবং সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সমন্বয়ে নিয়মিত সভা-সেমিনার ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

তাদের মতে, যুবসমাজকে খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড এবং সৃজনশীল কাজে সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে অনলাইন জুয়ার মতো সামাজিক ব্যাধি থেকে দূরে রাখা সম্ভব। একই সঙ্গে অবৈধ জুয়া পরিচালনা, প্রতারণা ও সংশ্লিষ্ট অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিও জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

এ বিষয়ে সচেতন মহলের প্রতিনিধি হিসেবে দিলপাশার ইউনিয়ন বিএনপির নেতা মোঃ আলাউদ্দিন খন্দকার, স্বেচ্ছাসেবক দলের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের যুগ্ম আহ্বায়ক মামুন সম্রাট এবং পৌর ৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য সাংবাদিক আরিফুল ইসলাম বলেন, “অনলাইন জুয়া শুধু একজন ব্যক্তিকে নয়, একটি পরিবার ও সমাজকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে। পরিবার, সমাজ ও প্রশাসনের সম্মিলিত উদ্যোগেই এই সামাজিক ব্যাধি প্রতিরোধ করা সম্ভব।”

স্থানীয়রা অনলাইন জুয়ার বিস্তার রোধে প্রশাসনের কার্যকর নজরদারি ও সচেতনতামূলক উদ্যোগ আরও জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।