গাজীপুর মহানগর ছাত্রদলের কমিটি ঘিরে আলোচনায় রেদোয়ানুর রহমান প্রত্যয় বেপারী
আসন্ন গাজীপুর মহানগর ছাত্রদলের নতুন কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা-পর্যালোচনা জোরালো হয়ে উঠেছে। সম্ভাব্য নেতৃত্ব নিয়ে নেতা-কর্মীদের মধ্যে চলছে নানা হিসাব-নিকাশ। এ প্রেক্ষাপটে সভাপতি পদপ্রার্থী হিসেবে আলোচনায় উঠে এসেছে ছাত্ররাজনীতির পরিচিত মুখ রেদোয়ানুর রহমান প্রত্যয় বেপারীর নাম।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, রেদোয়ানুর রহমান প্রত্যয় বেপারী ২০১৩ সাল থেকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত রয়েছেন। দীর্ঘ সময় ধরে তিনি সংগঠনের বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে মাঠপর্যায়ে ভূমিকা পালন করেছেন।
আন্দোলন-সংগ্রামের বিভিন্ন পর্যায়ে সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করে তৃণমূল পর্যায়ে নিজস্ব অবস্থান তৈরি করেন তিনি।
ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা জানান, রাজনৈতিক প্রতিকূল সময়েও সংগঠনের কার্যক্রমে সক্রিয় থাকার কারণে তিনি কর্মীদের কাছে পরিচিত ও গ্রহণযোগ্য মুখ হিসেবে বিবেচিত হন। সর্বশেষ তিনি টঙ্গী পশ্চিম থানা ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
দলীয় নেতা কর্মীদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিগত রাজনৈতিক আন্দোলনের সময় তিনি একাধিক মামলার আসামি ছিলেন। জানা গেছে, আন্দোলন চলাকালে তার বিরুদ্ধে অন্তত সাতটি মামলা দায়ের হয় এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কারণে দীর্ঘ সময় আত্মগোপনে থাকতে হয়েছিল তাকে। সে সময়ের রাজনৈতিক বাস্তবতায় তিনি নানা চাপ ও ঝুঁকি মোকাবিলা করে সংগঠনের কার্যক্রম চালিয়ে যান বলে সহকর্মীরা দাবি করেন।
শিক্ষাগত যোগ্যতার দিক থেকেও তাকে এগিয়ে রাখছেন নেতাকর্মীরা। জানা গেছে, তিনি আইন বিষয়ে অনার্স সম্পন্ন করেছেন এবং বর্তমানে এলএলএম (মাস্টার্স) অধ্যয়নরত রয়েছেন। ছাত্ররাজনীতিতে শিক্ষিত নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার আলোচনায় তার নাম সামনে আসছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
দলীয় সূত্র বলছে, গাজীপুর মহানগরের টঙ্গী অঞ্চল থেকে সভাপতি পদে একমাত্র প্রার্থী হিসেবে তিনি কেন্দ্রে জীবনবৃত্তান্ত (সিভি) জমা দিয়েছেন। এতে টঙ্গী অঞ্চলের নেতাকর্মীদের মধ্যে আলাদা আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
টঙ্গীসহ গাজীপুর মহানগরের বিভিন্ন ইউনিটের তৃণমূল নেতা-কর্মীদের একটি অংশের দাবি, আগামী কমিটিতে ত্যাগী, সাংগঠনিকভাবে সক্রিয় এবং শিক্ষিত নেতৃত্বকে অগ্রাধিকার দেওয়া হলে সংগঠন আরও শক্তিশালী হবে।
মহানগরীর সিনিয়র নেতাদের মতে, দীর্ঘদিন পর গাজীপুর মহানগর ছাত্রদলের নতুন কমিটি গঠনের আলোচনা শুরু হওয়ায় সংগঠনের অভ্যন্তরে নতুন নেতৃত্বের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। তৃণমূল পর্যায়ে সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা ও গ্রহণযোগ্যতা—এই দুই বিষয়ই এবার নেতৃত্ব নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।