প্রকাশকাল: ১২ জুলাই ২০২৬
ডাউনলোড: ১২ জুলাই ২০২৬
অনলাইন সংস্করণ
QR Code
বিস্তারিত অনলাইনে পড়ুন
pagethenews.com /pagethenews

কমিটিতে জায়গা না পেয়ে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে মসজিদে তালা মারার হুমকির অভিযোগ

মির্জা নাদিম

গাজীপুরের টঙ্গী পশ্চিম থানার ৫২ নম্বর ওয়ার্ডের গুটিয়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের নতুন কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে স্থানীয়ভাবে উত্তেজনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। কমিটিতে স্থান না পাওয়ার জেরে গাজীপুর জেলা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী সমিতির সাবেক সহ-দপ্তর সম্পাদক এবং আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থী অ্যাডভোকেট জালাল খান (সারোয়ার)-এর বিরুদ্ধে মসজিদে তালা মারার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় টঙ্গী পশ্চিম থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে পরিচালিত গুটিয়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের পুরোনো কমিটি নিয়ে কয়েক মাস ধরে আলোচনা চলছিল। মসজিদের প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও সুসংগঠিত করার লক্ষ্যে নতুন কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হলে বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে মতপার্থক্য দেখা দেয়।

গত ৩ জুলাই শুক্রবার জুমার নামাজের সময় গুটিয়া গ্রামের পাঁচটি পাড়ার সম্মানিত মুরুব্বি ও নিয়মিত মুসল্লিদের সমন্বয়ে ৫১ সদস্যবিশিষ্ট একটি আহ্বায়ক কমিটির নাম ঘোষণা করা হয়। ওইদিন রাতেই এশার নামাজের পর নতুন কমিটি গঠনের লক্ষ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে উপস্থিত কয়েকজন সদস্যের দাবি, বৈঠক চলাকালে অ্যাডভোকেট জালাল খান সেখানে উপস্থিত হয়ে কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া নিয়ে আপত্তি জানান। তাদের অভিযোগ, তিনি আহ্বায়ক কমিটিতে নিজের নাম না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং কমিটির সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। এ সময় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে বৈঠকের কার্যক্রম ব্যাহত হয়।

উপস্থিত কয়েকজনের ভাষ্য অনুযায়ী, বৈঠকের একপর্যায়ে বাকবিতণ্ডা তীব্র আকার ধারণ করলে উপস্থিত মুরুব্বিরা পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন। পরে বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয় এবং গ্রামবাসীর একাংশ উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

মসজিদ পরিচালনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন জানান, দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্ব পালনকারী কমিটির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক কোনো অভিযোগ না থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে কমিটি পুনর্গঠন নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। এরই ধারাবাহিকতায় নতুন কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।

বৈঠকে উপস্থিত গুটিয়া পূর্বপাড়ার বাসিন্দা হাজী মো. এমরান সরকার বলেন, মসজিদ পরিচালনার ক্ষেত্রে নিয়মিত নামাজ আদায়কারী ও সমাজে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের অগ্রাধিকার দিয়ে আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে। তার দাবি, কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া স্থানীয় মুসল্লিদের মতামতের ভিত্তিতেই সম্পন্ন হয়েছে।

আহ্বায়ক কমিটির আরেক সদস্য ইউনুছ আলী বলেন, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা নিয়ে কোনো ধরনের রাজনৈতিক প্রভাব বা ব্যক্তিগত আধিপত্য কাম্য নয়। তিনি বিষয়টির শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান জানান।
গুটিয়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের মুতাওয়াল্লি হাজী তাইজুল ইসলাম বলেন, মসজিদ একটি ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠান। এ ধরনের বিরোধ সমাজে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে। তিনি দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান এবং মসজিদের স্বাভাবিক কার্যক্রম চালুর দাবি জানান।

এ বিষয়ে টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান বলেন, মসজিদকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা অপ্রীতিকর ঘটনা কাম্য নয়। অভিযোগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

তবে নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন অ্যাডভোকেট জালাল খান। তিনি বলেন, “আমি কখনো মসজিদে তালা মারার হুমকি দিইনি। আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

এদিকে স্থানীয় গুটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অভিভাবক কমিটি নিয়েও অতীতে বিতর্কের অভিযোগ রয়েছে বলে কয়েকজন এলাকাবাসী দাবি করেছেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে ভিন্নমতও রয়েছে।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে ঘিরে যে কোনো বিরোধ আলোচনার মাধ্যমে সমাধান হওয়া উচিত। মসজিদকে কেন্দ্র করে চলমান মতবিরোধ দ্রুত নিষ্পত্তি না হলে সামাজিক সম্প্রীতি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তারা সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে সংযম প্রদর্শন এবং পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
বর্তমানে বিষয়টি নিয়ে এলাকায় আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে প্রশাসনের তদন্ত এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে নজর রাখছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।