প্রকাশকাল: ১৫ মে ২০২৬
ডাউনলোড: ১৫ মে ২০২৬
অনলাইন সংস্করণ
QR Code
বিস্তারিত অনলাইনে পড়ুন
pagethenews.com /pagethenews

টঙ্গীতে হোটেল ঘিরে কিশোর গ্যাংয়ের তাণ্ডব, বিস্ফোরণসদৃশ শব্দে আতঙ্ক

গাজীপুর প্রতিনিধি

গাজীপুরের টঙ্গীতে একটি আবাসিক হোটেলে প্রবেশকে কেন্দ্র করে কিশোর গ্যাংয়ের হামলা, মারামারি ও বিস্ফোরণসদৃশ শব্দের ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। এ ঘটনায় হামলাকারীদের একজন পালানোর সময় সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) ভোরে টঙ্গী পূর্ব থানার আওতাধীন জাভান হোটেলের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী নির্ধারিত সময় শেষে হোটেলটি বন্ধ করা হয়। ভোর আনুমানিক ৪টা ৪৫ মিনিটে উত্তরার কিশোর গ্যাং লিডার হিসেবে পরিচিত সানি তার সহযোগী সোহেল ও রুম্মানকে নিয়ে হোটেলে প্রবেশের চেষ্টা করেন। হোটেল বন্ধ থাকায় দায়িত্বরত নিরাপত্তাকর্মীরা তাদের বাধা দিলে উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।

হোটেলের মালিক সায়মন খান জানান, নিয়ম মেনে হোটেল বন্ধ ছিল। এ সময় কয়েকজন জোরপূর্বক প্রবেশ করতে চাইলে নিরাপত্তাকর্মীরা বাধা দেন এবং পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

স্থানীয়দের দাবি, অভিযুক্ত সানি উত্তরার একটি কিশোর গ্যাংয়ের সক্রিয় সদস্য এবং পূর্বে একটি ছাত্র হত্যা মামলায় র‍্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন।

এছাড়া সোহেলের বিরুদ্ধে ছিনতাই, চুরি, পকেটমার ও ডাকাতিসহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে বলে এলাকাবাসী জানিয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, ঘটনার কিছুক্ষণ পর ভোর সাড়ে ৫টার দিকে সানি, সোহেল ও রুম্মান পুনরায় সবুজ ওরফে ‘ভাদাইম্মা সবুজ’সহ আরও ১০ থেকে ১৫ জনকে নিয়ে জাভান হোটেলের সামনে এসে আতঙ্ক সৃষ্টির উদ্দেশ্যে ককটেল সদৃশ বিস্ফোরণ ঘটায় এবং হোটেল কর্তৃপক্ষের ওপর হামলা চালায়।

হামলার পর দৌড়ে পালানোর সময় সবুজ ওরফে ভাদাইম্মা সবুজ রাস্তা পার হতে গিয়ে একটি চলন্ত ট্রাকের ধাক্কায় গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে টঙ্গী শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (পঙ্গু হাসপাতাল) স্থানান্তর করা হয়।

স্থানীয় বাসিন্দারা বিস্ফোরণের শব্দ শোনার বিষয়টি নিশ্চিত করলেও সেটি প্রকৃত ককটেল ছিল কিনা তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পুলিশ ঘটনাস্থল তল্লাশি করে কোনো বিস্ফোরকের আলামত পায়নি বলে জানিয়েছে।

টঙ্গী পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান বলেন, ঘটনার বিষয়ে তদন্ত চলছে। কারা জড়িত ছিল এবং বিস্ফোরণের প্রকৃতি কী ছিল তা যাচাই করা হচ্ছে। অভিযোগ পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি হলেও বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।