লামায় অবৈধ ইটভাটার দৌরাত্ম্য, পাহাড় কাটা ও বন উজাড়ের অভিযোগে ক্ষোভ
বান্দরবানের লামা উপজেলার গজালিয়া ইউনিয়নের ৬ মাইল নাজিরাম পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে অবৈধভাবে ইটভাটা পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে আজিজনগরের সাবেক আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান আজম খানের বিরুদ্ধে। প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের আইন উপেক্ষা করে পাহাড় কাটা, বন উজাড় এবং পরিবেশ বিধিমালা লঙ্ঘনের মাধ্যমে ভাটাটি পরিচালিত হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইটভাটাটিতে পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমোদন ছাড়াই টিনের চিমনি ব্যবহার করা হচ্ছে। পাশাপাশি কয়লার পরিবর্তে বনজ কাঠ জ্বালানি হিসেবে পোড়ানো হচ্ছে। এছাড়া ভাটায় অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশুদের শ্রমে নিয়োজিত করার অভিযোগও রয়েছে।
এলাকাবাসীর দাবি, প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের কিছু কর্মকর্তাকে “ম্যানেজ” করেই প্রকাশ্যে এসব কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে ইটভাটা কর্তৃপক্ষ। সরেজমিনে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ইটভাটার জ্বালানির চাহিদা পূরণে আশপাশের সীমান্তবর্তী বনাঞ্চল থেকে নির্বিচারে কাঠ ও লাকড়ি সংগ্রহ করা হচ্ছে। এতে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, ইটভাটার আশপাশের পাহাড় কেটে মাটি সরাসরি ভাটায় নেওয়া হচ্ছে। প্রশাসনের সামনেই এসব কার্যক্রম চললেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ রহস্যজনক নীরব ভূমিকা পালন করছে।
ইটভাটার বৈধতা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পর্কে জানতে চাইলে কর্তৃপক্ষ কোনো বৈধ অনুমোদন দেখাতে পারেনি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। এ সময় ইটভাটা মালিকের ছেলে ফরহাদ সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন,
> “প্রশাসনিক বিষয়গুলো আমরা ম্যানেজ করেই কাজ করছি। সাংবাদিকরা পারলে আমাদের বিরুদ্ধে যা পারেন করেন।”
এ ধরনের বক্তব্যে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। পরিবেশ আইন লঙ্ঘনের পরও প্রশাসন কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না কেন—এ প্রশ্ন তুলেছেন সচেতন মহল।
স্থানীয় সচেতন নাগরিক, সুশীল সমাজ ও পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো অবিলম্বে পাহাড় কাটা বন্ধ, বনজ কাঠ পোড়ানো নিষিদ্ধ এবং অভিযুক্ত ইটভাটা মালিকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী বান্দরবান সদরের ইটভাটাগুলোর কার্যক্রম গত দুই বছর ধরে বন্ধ থাকলেও লামা ও থানচিসহ কয়েকটি উপজেলার ইটভাটা রহস্যজনকভাবে এখনও কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।