প্রকাশকাল: ২৭ মে ২০২৬
ডাউনলোড: ২৭ মে ২০২৬
অনলাইন সংস্করণ
QR Code
বিস্তারিত অনলাইনে পড়ুন
pagethenews.com /pagethenews

ঈদের আগে ৩৬ ঘন্টার বেশি সময় নেই বিদ্যুৎ, ভোগান্তিতে পল্লী বিদ্যুৎ গ্রাহকরা

মোঃ সাজিদ হাসান শান্ত

শেরপুরের শ্রীবরদী ও ঝিনাইগাতী উপজেলায় টানা ৩৬ ঘন্টা বিদ্যুৎ না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন পল্লী বিদ্যুৎ গ্রাহকরা। ঈদের আগে এত দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় কর্মহীন হয়ে পড়েছেন অটোরিকশা ও ভ্যান চালকরা। গত সোমবার রাতে ঝড়-বৃষ্টির সময় বিদ্যুৎ চলে গেলেও এখনো বিদ্যুৎ সংযোগ দিতে পারেনি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন দুই উপজেলার সাধারণ মানুষ।

জানা যায়, শেরপুরের সীমান্তবর্তী শ্রীবরদী ও ঝিনাইগাতী উপজেলায় সাম্প্রতিক সময়ে তীব্র লোডশেডিংয়ে জনজীবন দুর্বিষহ হয়ে পড়েছে। অধিকাংশ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী, ফ্রিলান্সার ও কৃষক থেকে শুরু করে নিম্ন আয়ের পেশাজীবীসহ সবাই চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। সামান্য ঝড়-বৃষ্টিতেও টানা কয়েকদিন বিদ্যুৎ না থাকার ঘটনা প্রায়শই ঘটছে বলেও অভিযোগ গ্রাহকদের। এদিকে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির অব্যবস্থাপনার কারণে অনিয়ন্ত্রিত লোডশেডিং হচ্ছে বলেও দাবি অনেকের।

স্থানীয় পল্লী বিদ্যুৎ গ্রাহকদের কাছ থেকে জানা যায়, দিন- রাত মিলিয়ে প্রায় ১২ থেকে ১৬ ঘণ্টারও বেশি সময় বিদ্যুৎ থাকছে না। প্রতিনিয়তই আধা ঘন্টা বিদ্যুৎ থাকলে আবার দেড় থেকে দুই ঘন্টা বিদ্যুতের দেখা মিলছেনা। এছাড়াও সামান্য ঝড়-বৃষ্টিতেও দীর্ঘ ১৮ ঘন্টা সময় ধরে বিদ্যুৎ আসছে না। এতে করে গৃহস্থালির স্বাভাবিক কাজকর্ম ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে রাতে বিদ্যুৎ না থাকায় পেশাজীবী, শ্রমজীবী ও শিশু-বৃদ্ধদের পাশাপাশি খামারের গবাদিপশুরও কষ্ট বেড়ে গেছে কয়েকগুণ। অটোরিকশা ও ভ্যান চালকদেরও গাড়ি চার্জ না দিতে পারায় উপার্জন করতে পারছেনা।

শ্রীবরদী উপজেলর ভ্যানচালক আ. রশিদ ও চিক্কু মিয়া অভিযোগ করে বলেন, “ভ্যান চালিয়ে যা কামাই করি তাই দিয়ে সংসার খরচ চালাই। ঈদের দুইদিন আগে থেকে লোকজন বেশি থাকায় ভাড়া বেশি থাকে, ইনকামও বেশি করা যায়। কিন্তু এই সময়ে বিদ্যুৎ না থাকায় এইবার কামাই করতে পারিনাই। পোলাপানগরে ঈদের কাপড় কেমনে কিনা দিমু? আর বাড়িত বাজারই কেমনে করমু বুঝতেছিনা!”

অটোরিকশা চালক জসিম মিয়া বলেন, “একটু ঝড়-বৃষ্টি হইলেই দিনের পর দিন বিদ্যুৎ থাকেনা। ঈদের আগে গাড়ি চালাবার পাইতাছিনা। এখন ঈদের বাজার-সদাই কে কইরা দিবো? আমাগরে দেহার কেউ নাই! অফিসে ফোন দিলেই কয়, লাইন মেরামতের জন্য লোকজন কম। লাইন ঠিক হতে দেরি হবে। প্রতি মাসেইতো বিল দেই, টাকা কই যায়? লোকজন বাড়ায়না কে?”

মুদি দোকানদার মোয়াশিম মিয়া বলেন, দুইদিন থেকে বিদ্যুৎ না থাকায় ফ্রিজের মালামাল নষ্ট হয়ে যাইতেছে। এর আগেও পাঁচ হাজার টাকার মালামাল নষ্ট হয়ে গেছে। এই ক্ষতিপূরণ দিবে কে?

অন্যদিকে, লোডশেডিংয়ের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে স্থানীয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো। বাজারের দোকানপাটে ক্রেতাদের উপস্থিতি কমে গেছে। ফ্রিজ, ফ্যান বা অন্যান্য বৈদ্যুতিক যন্ত্র চালাতে না পারায় মালামাল নষ্ট হয়ে দোকানিরা লোকসানের মুখে পড়ছেন। ক্ষুদ্র শিল্প, মাড়াইকলের মতো উৎপাদনমুখী প্রতিষ্ঠানগুলোও ঠিকমতো কাজ করতে পারছে না।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বিদ্যুৎ বিভাগের পক্ষ থেকে কোনো পূর্বঘোষণা ছাড়াই অধিক মাত্রায় লোডশেডিং করা হচ্ছে। ফলে তারা আগে থেকে কোনো প্রস্তুতি নিতে পারছেন না। এছাড়াও শ্রীবরদী উপজেলার কিছু এলাকায় ঝিনাইগাতী সাবস্টেশন থেকে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া ও সেই লাইন দেখভালের দায়িত্ব আবার অন্য সাবস্টেশনে থাকায় গ্রাহকদের ভোগান্তি আরও বেড়েছে বলেও জানান তারা। তবে এই অব্যবস্থাপনার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগের অভাব রয়েছে বলেও মনে করছেন অনেকে।

শ্রীবরদী পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের ডিজিএম প্রকৌশলী সূর্য্য নারায়ন ভৌমিক জানান, ঝড়ে বিভিন্ন জায়গায় বৈদ্যুতিক তারে গাছের ডালপালা পড়ে লাইন ফল্ট করেছে। কোথায় লাইন ফল্ট করেছে সেটা খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এছাড়াও ঝিনাইগাতীতে পাওয়ার ট্রান্সফরমার নষ্ট হয়েছে। সেটা পরিবর্তন করার কাজও চলছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এছাড়াও জনবল কম থাকায় লাইন মেরামতের ক্ষেত্রে বিলম্ব হওয়ার কথাও জানান তিনি।