প্রকাশকাল: ৬ জুন ২০২৬
ডাউনলোড: ৬ জুন ২০২৬
অনলাইন সংস্করণ
QR Code
বিস্তারিত অনলাইনে পড়ুন
pagethenews.com /pagethenews

নিকলী হাওরে পর্যটকদের ঢল, ময়লা‌ আবর্জনায় ম্লান হচ্ছে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য

আল-আমিন হাসান

কিশোরগঞ্জের হাওরবেষ্টিত নিকলী উপজেলায় ঈদুল আজহার ছুটিকে কেন্দ্র করে পর্যটকদের ব্যাপক সমাগম ঘটেছে। বর্ষার নতুন পানিতে হাওরের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ফিরে আসায় প্রতিদিনই বিভিন্ন জেলা থেকে ভ্রমণপিপাসুরা ছুটে আসছেন নিকলী বেড়িবাঁধ এলাকায়। তবে বেড়িবাঁধের বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা খড়, গোবর ও ময়লা-আবর্জনার দুর্গন্ধে সৌন্দর্য নষ্ট হওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাম্প্রতিক টানা বর্ষণ ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত অনেক কৃষক বেড়িবাঁধের পাশে খড় ও গোবর সংরক্ষণ করেন। দীর্ঘদিন পড়ে থাকায় এসব থেকে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে। এতে একদিকে যেমন পরিবেশ দূষিত হচ্ছে, অন্যদিকে পর্যটকদের মধ্যেও বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ঈদের ছুটি উপলক্ষে শত শত পর্যটক বেড়িবাঁধ ও হাওর এলাকার সৌন্দর্য উপভোগ করছেন। তবে অনেকেই ময়লা-আবর্জনা অপসারণের দাবি জানিয়েছেন।

কিশোরগঞ্জ সদর থেকে ঘুরতে আসা পর্যটক রাব্বি বলেন, “নিকলী হাওরের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য সত্যিই অসাধারণ। কিন্তু বেড়িবাঁধ এলাকায় জমে থাকা খড়, গোবর ও ময়লার দুর্গন্ধ পর্যটকদের জন্য অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দ্রুত এগুলো অপসারণ করা প্রয়োজন।”

নিকলী সদর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. হুমায়ূন কবির বলেন, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা বাধ্য হয়ে বেড়িবাঁধের পাশে খড়কুটো রেখেছিলেন। এখন আবহাওয়া স্বাভাবিক হওয়ায় সেগুলো সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া উচিত।

পর্যটকদের নিরাপত্তার বিষয়ে নিকলী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, “পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছে। জেলা পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমানের নির্দেশনায় নিকলী থানার পুলিশ পর্যটন এলাকায় নিয়মিত টহল ও নজরদারি অব্যাহত রেখেছে।”

তিনি জানান, গত ২০ মে পুলিশ সুপার নিকলী বেড়িবাঁধ এলাকা পরিদর্শন করে পর্যটনবান্ধব পরিবেশ বজায় রাখার বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেন।

এ বিষয়ে নিকলী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. শহিদুল্লাহ বলেন, নিকলী হাওরের পর্যটন সম্ভাবনা রক্ষায় প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। ময়লা-আবর্জনা অপসারণ এবং পরিবেশ সংরক্ষণে শিগগিরই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

স্থানীয়দের মতে, দ্রুত ময়লা-আবর্জনা অপসারণ ও পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা গেলে নিকলী হাওরের পর্যটন আকর্ষণ আরও বৃদ্ধি পাবে।