প্রকাশকাল: ১১ জুন ২০২৬
ডাউনলোড: ১১ জুন ২০২৬
অনলাইন সংস্করণ
QR Code
বিস্তারিত অনলাইনে পড়ুন
pagethenews.com /pagethenews

অসুস্থ গরুর মাংস বিক্রির সংবাদ প্রকাশ করায় সাংবাদিককে মারপিট, গ্রেফতার ১

মোঃ কাজল ইসলাম

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে অসুস্থ গরু জবাই করে মাংস বিক্রির সংবাদ প্রকাশকে কেন্দ্র করে এক সাংবাদিককে মারধর, হত্যাচেষ্টা ও নগদ টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

অভিযোগ অনুযায়ী, উপজেলার সদর ইউনিয়নের নলেয়া গ্রামের মাংস ব্যবসায়ী মোজাম্মেল হক (৩৫), তার ভাই মাসুদ রানা মুন্না (২৮) এবং সাইফুর রহমান (৪২)-এর বিরুদ্ধে এ অভিযোগ আনা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটে উপজেলার সদর ইউনিয়নের সাদ্দাম মোড়ের পূর্ব পাশে আমিনুর মেম্বারের বাড়ির সামনে।

আহত সাংবাদিক মাইদুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় বিভিন্ন সমস্যা, সম্ভাবনা, অনিয়ম, দুর্নীতি ও জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ করে আসছেন। তিনি কুড়িগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সদস্য বলেও জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বছরের সেপ্টেম্বরে উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিস অসুস্থ গরুর মাংস বিক্রির বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে জব্দ করা মাংস ধ্বংস করে। ওই ঘটনায় বিভিন্ন গণমাধ্যমের মতো সাংবাদিক মাইদুলও সংবাদ প্রকাশ করেন। এরপর থেকেই অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময়ে তাকে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল বলে অভিযোগ।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, গত ৪ জুন সকালে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফেরার পথে তাকে আটকে রেখে অভিযুক্তরা মারধর করেন। এ সময় তাকে গুরুতর আহত করা হয় এবং তার কাছে থাকা নগদ এক লাখ ২০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।

পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ভূরুঙ্গামারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। অবস্থার অবনতি হলে তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এ ঘটনায় আহত সাংবাদিকের মা বাদী হয়ে ভূরুঙ্গামারী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ অভিযুক্ত মাসুদ রানা মুন্নাকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠিয়েছে।

অভিযুক্ত মোজাম্মেল হক অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, অসুস্থ গরু জবাইয়ের অভিযোগ সঠিক নয়। তবে সাংবাদিককে মারধরের ঘটনায় তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন বলে স্বীকার করেছেন।

ভূরুঙ্গামারী থানার অফিসার ইনচার্জ আজিম উদ্দিন জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত চলছে এবং একজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

এ ঘটনায় স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের সাংবাদিক নেতারা উদ্বেগ প্রকাশ করে দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।