শ্রীবরদীতে মাদক ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্যে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী
শেরপুরের শ্রীবরদীতে মাদকের ভয়াবহতা বেড়েছে। উপজেলার বিভিন্ন অলি-গলি, পাড়া মহল্লা, বাজার সহ সীমান্ত এলাকায় অবাধে বিক্রি হচ্ছে মাদক। সন্ধ্যা হলেই জমে উঠে মাদক ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম।
মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েছে স্থানীয় যুব সমাজ সহ বিভিন্ন এলাকার জনপ্রতিনিধি। মাদকের ছোবলে ধ্বংস হচ্ছে যুব সমাজ ও পরিবার। পুলিশ বিভিন্ন সময় অভিযান চালিয়ে মাদকসহ ৪ জনপ্রতিনিধি ও মাদকসেবীদের গ্রেপ্তার করলেও বড়বড় মাদককারবারি এবং ব্যবসায়ীরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে।
সচেতন মহলের দাবী মাদকের মূল হোতাদের গ্রেপ্তার করতে পারলে এলাকায় মাদকের ভয়াবহতা কিছুটা কমতে পারে।
তথ্য অনুসন্ধান ও বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, শ্রীবরদী পৌর শহর সহ উপজেলার শ্রীবরদীর বিভিন্ন পয়েন্ট প্রকাশ্যে মাদক বিক্রি হচ্ছে।
তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো খামারিয়াপাড়া রোড হয়ে দহেরপাড়, টিএনটি রোড, শ্রীবরদী সরকারি নার্সারি থেকে বিএম রোড, শ্রীবরদী সরকারি কলেজ মহল্লা, মুন্সিপাড়া, পোড়াগড় ব্রিজ সংলগ্ন ফাঁকা জায়গায় এবং গিলেগাছার গড়গড়িয়া খালের পাড় সহ বিভিন্ন জায়গা।
এছাড়াও সীমান্তবর্তী বালিজুরী, খাড়ামোড়া, রাঙ্গাজান, কোচপাড়া, হারিয়াকোণা, বাবেলাকোনা সহ বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকায় অবাধে বিক্রি হচ্ছে মাদক। মাঝেমধ্যে বিজিবি অভিযান চালিয়ে ভারতীয় আমাদানি নিষিদ্ধ মদের বোতল সহ কেউ কেউ আটক হচ্ছে। কিন্তু মূল হোতারা ধরাছোয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে। স্কুল-কলেজ পড়ুয়া ছাত্ররাও সর্বনাশা মাদকের ছোবলের শিকার হয়ে লেখাপড়া বাদ দিচ্ছে। মাদকের টাকা সংগ্রহ করতে অনেকেই বিভিন্ন বাসা-বাড়ি, দোকানে চুরি করছে।
ব্যারিস্টার শাহাদাত হোসেন জিকো বলেন, শুধু আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষে মাদকব্যবসায়ীদের প্রতিরোধ করা সম্ভব না। মাদক প্রতিরোধে সামাজিক ও রাজনৈতিক সচেতনতা গড়ে তুলতে হবে। একই সাথে যেসব রাজবীতিবিদদের বিরুদ্ধে মাদক সেবন বা বিক্রির সংশ্লিষ্টতা রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিতে হবে।
শ্রীবরদী পৌর শহরের বাসিন্দা কবির বলেন, পৌর সভার ভিতরে ৬নং ওয়ার্ডে মাদক ব্যবসায়ী এবং মাদক সেবনকারী পরিমানে এত পরিমাণ বেড়ে গেছে যে, প্রায় প্রতিটি ঘরে ঘরে পৌঁছে গেছে মাদক। এতে দেখা যাচ্ছে এলাকার অনেক পরিবার ধ্বাংস হয়ে যচ্ছে। মাদকের কারণে বিভিন্ন অপকর্মে লিপ্ত হচ্ছে স্কুল কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা।
এছাড়াও খামারিয়াপাড়া এলাকায় অনেক চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী থাকলেও অদৃশ্য কারণে তারা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে।
মুন্সিপাড়া গ্রামের রাকিব বলেন, মাদক ব্যবসায়ীরা আমাদের এলাকারই মানুষ। তাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে এলাকার যুব সমাজ কে এগিয়ে আসতে হবে। তা না হলে এই মাদকের ভয়াবহতা আরো বেড়ে যাবে।
মাদকবিরোধী সামাজিক সংগঠন শ্রীবরদী ড্রাগ কন্ট্রোল কাউন্সিল এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি জুবাইদুল ইসলাম রাজন বলেন, আমরা দীর্ঘ দিন যাবত সংগঠনের পক্ষ থেকে মাদক নির্মূল ও জন সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছি। বিশেষ করে তরুণ ও যুব সমাজ, ছাত্র সমাজকে খেলাধুলায় উদ্বুদ্ধ করা সহ বিভিন্ন নানা মুখি সাংস্কৃতিক ও সামাজিক কর্মসূচি বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে মাদকের ভয়াবহতা দূর করা সম্ভব।
শ্রীবরদী থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ নুরুল আলম বলেন, মাদক একটি ভয়াবহ সামাজিক ব্যাধি। মাদকের বিরুদ্ধে শ্রীবরদী থানা পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে। আমরা মাদকের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছি। মাদকের ব্যাপারে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। তিনি আরো বলেন, মাদকের বিস্তার রোধে সাধারণ জনগণকে নিজ নিজ এলাকা থেকে পুলিশকে তথ্য দিয়ে সহায়তা করুন। মাদক প্রতিরোধে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য মাহমুদুল হক রুবেল মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছেন। বিভিন্ন মিটিং এ তিনি মাদকের বিরুদ্ধে বক্তব্য রাখেন।
শিক্ষার্থী ও যুব সমাজকে পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলায় আগ্রহী করে তুলার পরামর্শ দেন। একই সাথে দলমত নির্বিশেষে প্রশাসনকে মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রাখার নির্দেশনা প্রদান করেছেন।