প্রকাশকাল: ১৮ জুন ২০২৬
ডাউনলোড: ১৮ জুন ২০২৬
অনলাইন সংস্করণ
QR Code
বিস্তারিত অনলাইনে পড়ুন
pagethenews.com /pagethenews

টেকনাফের বাহারছড়ায় সন্ত্রাসী গ্রুপ প্রধানের নির্যাতনে স্ত্রীর মৃত্যুর অভিযোগ

কামরুল ইসলাম

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের উত্তর শিলখালী এলাকায় এক আলোচিত অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী গ্রুপের প্রধান হিসেবে পরিচিত মোর্শেদের বিরুদ্ধে তার স্ত্রীকে দীর্ঘদিন নির্যাতনের মাধ্যমে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে এবং স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পারিবারিক কলহের জেরে মোর্শেদ দীর্ঘদিন ধরে তার স্ত্রীর ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। নির্যাতনের মাত্রা বাড়তে থাকায় একপর্যায়ে ওই নারী গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তার মৃত্যু হলে স্বজনরা দাবি করেন, এটি কোনো স্বাভাবিক মৃত্যু নয়; বরং দীর্ঘদিনের নির্যাতনের ফলেই তার মৃত্যু হয়েছে।

ভুক্তভোগীর পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেন, অভিযুক্ত ব্যক্তির প্রভাব ও ভয়ভীতির কারণে এলাকার অনেকেই প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না। তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, মোর্শেদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। তিনি এলাকায় একটি সশস্ত্র গ্রুপ পরিচালনা করেন বলেও অভিযোগ করেন অনেকে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়নি।

ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয় সচেতন মহলের প্রতিনিধিরা বলেন, একজন নারীর মৃত্যুর ঘটনায় নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে—এটি অত্যন্ত গুরুতর বিষয়। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। একই সঙ্গে তারা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের আহ্বান জানান।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত মোর্শেদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও যোগাযোগ সম্ভব হয়নি।

অন্যদিকে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকেও এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে ভুক্তভোগীর স্বজনরা জানিয়েছেন, তারা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন নিহত নারীর পরিবার ও স্থানীয় সচেতন মহল।

(বিঃদ্রঃ: উল্লিখিত অভিযোগগুলো অভিযোগকারী ও স্থানীয় সূত্রের দাবি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা যাচাই সাপেক্ষে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ধারিত হবে।)