প্রকাশকাল: ৩০ জুন ২০২৬
ডাউনলোড: ৩০ জুন ২০২৬
অনলাইন সংস্করণ
QR Code
বিস্তারিত অনলাইনে পড়ুন
pagethenews.com /pagethenews

গাজীপুরে এআই বেস আইটি পার্ক ও অ্যাগ্রো প্রকল্পে বাধার অভিযোগ

মির্জা নাদিম

গাজীপুর মহানগরীর গাছা থানার পলাশোনা এলাকায় যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের যৌথ বিনিয়োগে প্রস্তাবিত একটি এআই বেস আইটি পার্ক এবং আধুনিক অ্যাগ্রো প্রজেক্ট বাস্তবায়নে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের দাবি, একটি সম্ভাবনাময় প্রযুক্তি ও কৃষিভিত্তিক উদ্যোগে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হলে দেশের বিদেশি বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনায় নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘদিন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত থাকা ড. হাসান তাহের ইমাম বাংলাদেশে বিনিয়োগের উদ্দেশ্যে গাজীপুর মহানগরীর গাছা থানার পলাশোনা এলাকায় নিজস্ব ক্রয়কৃত জমিতে এ প্রকল্প গ্রহণ করেন। ইতোমধ্যে প্রকল্পের প্রাথমিক নকশা, পরিকল্পনা ও ডিজাইনের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

প্রকল্প কর্তৃপক্ষের দাবি, প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে গাজীপুরে কয়েক হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানের প্রযুক্তি অবকাঠামো, আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি এবং নতুন ধরনের বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হবে।

তবে প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, স্থানীয়ভাবে কিছু ব্যক্তি বিভিন্নভাবে প্রকল্পের কাজে বাধা সৃষ্টি করছেন। তাদের দাবি, বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দেওয়া, জমি ক্রয়ে প্রতিবন্ধকতা তৈরি এবং নানা ধরনের চাপ প্রয়োগের কারণে প্রকল্পের কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

প্রকল্পের চিফ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ অফিসার মেজর (অব.) মো. জিয়াউল ইসলাম বলেন, “এটি একটি পরিবেশবান্ধব ও আন্তর্জাতিক মানের প্রকল্প। এখানে কারও ক্ষতির কোনো সুযোগ নেই। আমরা প্রকল্পের নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক কার্যক্রমের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা চেয়েছি।”

তিনি আরও বলেন, “বিদেশি বিনিয়োগের মাধ্যমে দেশের প্রযুক্তি ও কৃষি খাতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। তাই কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি যেন প্রকল্প বাস্তবায়নে বাধা সৃষ্টি না করে, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।”

প্রকল্পের সুপারভাইজার শহিদুল ইসলাম মণ্ডল বলেন, “দেশে বিনিয়োগ বাড়াতে সরকার কাজ করছে। এমন একটি উদ্যোগ বাধাগ্রস্ত হলে শুধু একটি প্রকল্প নয়, দেশের বিনিয়োগ পরিবেশও প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে।”

তিনি অভিযোগ করেন, প্রকল্প সম্প্রসারণের জন্য অতিরিক্ত জমি ক্রয়ের ক্ষেত্রে স্থানীয়ভাবে কিছু ব্যক্তি জমির মালিকদের ওপর চাপ সৃষ্টি করছেন। এ বিষয়ে প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়ে দ্রুত তদন্তের দাবি জানান তিনি।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত ড. সামনুন তাহার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “ওখানে আমার পৈত্রিক জমি রয়েছে। আমি কাউকে ভয়ভীতি দেখাইনি। বরং আমার ক্ষতি করার চেষ্টা করা হচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, “আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সঠিক নয়। জমি সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে ভুল তথ্য দেওয়া হচ্ছে।”

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, বিষয়টি নিয়ে তারা গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কাছে অবহিত করেছেন। তারা প্রকল্প এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রযুক্তি ও কৃষিভিত্তিক বড় বিনিয়োগ প্রকল্প বাস্তবায়নে স্থানীয় বিরোধ, প্রশাসনিক জটিলতা ও নিরাপত্তাজনিত সমস্যা দূর করা গেলে দেশের অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।