প্রকাশকাল: ৮ আগস্ট ২০২৬
ডাউনলোড: ৯ আগস্ট ২০২৬
অনলাইন সংস্করণ
QR Code
বিস্তারিত অনলাইনে পড়ুন
pagethenews.com /pagethenews

৮ বছর পর লক্ষীপুরে ফের শুরু ২৫০ শয্যার সদর হাসপাতালের নির্মাণকাজ

মোহাম্মদ মারুফ

নির্মাণকাজে দীর্ঘসূত্রতা, প্রশাসনিক জটিলতা ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতিতে আটকে থাকা লক্ষ্মীপুর জেলা সদর হাসপাতালের ২৫০ শয্যার নতুন ভবনের নির্মাণকাজ অবশেষে প্রায় আট বছর পর আবার শুরু হয়েছে। বুধবার (৭ আগস্ট) ভবনটির নির্মাণকাজ পুনরায় শুরু করা হয়।

প্রায় ৩৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিতব্য নয়তলা ভবনটির কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও কয়েক বছর ধরে তা পড়ে ছিল অসম্পূর্ণ। ফলে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও নতুন ভবনটি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা সম্ভব হয়নি। এতে জেলার বিপুলসংখ্যক মানুষ আধুনিক ও উন্নত চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। অন্যদিকে ১০০ শয্যার পুরোনো ভবনে ধারণক্ষমতার কয়েক গুণ বেশি রোগীর চিকিৎসা দিতে গিয়ে প্রতিদিনই তৈরি হচ্ছে চরম ভোগান্তি।

হাসপাতাল ও স্থানীয় গণপূর্ত অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, লক্ষ্মীপুরের মানুষের চিকিৎসাসেবা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ২০১৭ সালের মার্চে জেলা সদর হাসপাতালকে ১০০ শয্যা থেকে ২৫০ শয্যায় উন্নীত করার ঘোষণা দেওয়া হয়। পরে প্রায় ৩৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নয়তলা নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

২০১৮ সালের জুনে ‘রূপালী জিএম অ্যান্ড সন্স’ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ভবনটির নির্মাণকাজ শুরু করে। চুক্তি অনুযায়ী ২০২০ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে নির্মাণকাজ শেষ করে ভবনটি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করার কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও কাজ শেষ হয়নি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, গণপূর্ত বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতি এবং প্রশাসনিক জটিলতার কারণে প্রকল্পটি বছরের পর বছর ঝুলে ছিল। ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নির্মাণকাজ অসমাপ্ত রেখে চলে যায়। এরপর দীর্ঘ সময় কাজ বন্ধ থাকে।

নতুন ভবন চালু না হওয়ায় ১০০ শয্যার পুরোনো ভবনেই চলছে পুরো চিকিৎসা কার্যক্রম। হাসপাতাল সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন গড়ে ৪০০ থেকে ৫০০ রোগী অভ্যন্তরীণ বিভাগে ভর্তি থাকছেন। ফলে নির্ধারিত শয্যা না পেয়ে অনেক রোগীকে বারান্দা, করিডোর এমনকি মেঝেতে বিছানা পেতে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।