মাদারগঞ্জে সরকারি ভাতা ও চাকরি দেওয়ার নামে টাকা আত্মসাৎ, উধাও প্রতারক
জামালপুরের মাদারগঞ্জে বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধী ভাতা এবং সরকারি চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে অসহায় মানুষের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মারুফ হাসানের বিরুদ্ধে। বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তার সিল ও স্বাক্ষর জাল করে কাগজপত্র তৈরি এবং সেগুলো ব্যবহার করে প্রতারণার মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে নেওয়ারও অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। অভিযোগ ওঠার পর থেকে অভিযুক্ত মারুফ হাসান এলাকায় নেই বলে জানিয়েছে পুলিশ।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ৬ নম্বর আদারভিটা ইউনিয়নের নাদাগাড়ী এলাকার আব্দুর রউফের ছেলে মারুফ হাসান দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন মানুষকে সরকারি ভাতা, চাকরি ও নানা সুবিধা দেওয়ার কথা বলে টাকা নিয়ে আসছেন।
ভুক্তভোগী গুলজার হোসেন বলেন, বয়স্ক ভাতা দেওয়ার কথা বলে তার কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে। টাকা দেওয়ার এক বছর পার হলেও তিনি কোনো ভাতার টাকা কিংবা কার্ড পাননি। পরে জানতে পারেন, তিনি প্রতারণার শিকার হয়েছেন।
নাজমা বেগম নামে আরেক ভুক্তভোগী বলেন, বিধবা ভাতা দেওয়ার কথা বলে তার কাছ থেকে ১৫ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত তিনি কোনো ভাতা পাননি। পরে জানতে পারেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গেছেন। তার অভিযোগ, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের সিল ও কর্মকর্তাদের স্বাক্ষর নকল করে কাগজপত্র তৈরি করে এসব প্রতারণা করা হয়েছে।
আরেক ভুক্তভোগী জিহাদ হাসান বলেন, ৭০ হাজার টাকা মূল্যের একটি গরু দেওয়ার কথা বলে তার কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা নেওয়া হয়। কিন্তু তাকে গরু দেওয়া হয়নি, আবার টাকাও ফেরত দেওয়া হচ্ছে না। সরকারি চাকরি দেওয়ার কথা বলেও অনেকের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সরকারি চাকরি দেওয়ার কথা বলে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে প্রায় ৪ লাখ ৭০ হাজার টাকা এবং গরু দেওয়ার কথা বলে প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে মাদারগঞ্জ উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা তৌফিকুল ইসলাম খালেদ বলেন, ৬ নম্বর আদারভিটা ইউনিয়নের বাসিন্দা মারুফ হাসান বিভিন্ন কর্মকর্তার স্বাক্ষর জাল করে অসহায় ও দরিদ্র মানুষের কাছ থেকে বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধী ভাতা দেওয়ার কথা বলে টাকা নিয়েছেন বলে তিনি জানতে পেরেছেন। একইভাবে সরকারি চাকরি দেওয়ার কথা বলেও অনেকের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
তিনি আরো বলেন, মারুফ তার আপন মামা জাহাঙ্গীর আলমের কাছ থেকেও বয়স্ক ভাতার কার্ড দেওয়ার কথা বলে টাকা নিয়ে প্রতারণা করেছেন বলে জানতে পেরেছি। এছাড়া মাদারগঞ্জ উপজেলা হাসপাতালের চিকিৎসক খোরশেদ আলমের পরিচয় ব্যবহার করে প্রলোভন দেখিয়ে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে। দুই দিন আগেও বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে টাকা নেওয়ার বিষয়ে জানতে পেরেছি। সুষ্ঠু তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযোগের বিষয়ে চিকিৎসক খোরশেদ আলম বলেন, “আমার নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন ব্যক্তিকে সরকারি চাকরি দেওয়ার কথা বলে টাকা নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি জানতে পেরে আমি ২০২৫ সালে জামালপুর সদর থানায় মারুফ হাসানের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ দায়ের করি।”
মাদারগঞ্জ মডেল থানার ওসি স্নেহাশিষ রায় বলেন, এ বিষয়ে থানায় এখন পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ দায়ের করেননি। তবে বিষয়টি সম্পর্কে পুলিশ জানতে পেরেছে। অভিযুক্ত ব্যক্তি বর্তমানে এলাকায় নেই এবং পলাতক রয়েছেন বলে জানা গেছে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, বিষয়টি তদন্ত করে প্রতারণার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি তাদের কাছ থেকে নেওয়া টাকা ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা করা হোক।