প্রকাশকাল: ২০ আগস্ট ২০২৬
ডাউনলোড: ২০ আগস্ট ২০২৬
অনলাইন সংস্করণ
QR Code
বিস্তারিত অনলাইনে পড়ুন
pagethenews.com /pagethenews

আরএমপিতে পুলিশ সদস্যদের মনোসামাজিক পরিচর্যা বিষয়ক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত

আবু কাওসার মাখন

রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি) ও ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের রাজশাহী শহর এরিয়া ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামের যৌথ আয়োজনে পুলিশ সদস্যদের জন্য ‘মনোসামাজিক পরিচর্যা বিষয়ক প্রশিক্ষণ ২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (১৯ আগস্ট) সকাল ১১টায় রাজশাহী পুলিশ লাইন্সের পিওএম কনফারেন্স রুমে এ প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির।

প্রশিক্ষণে প্রশিক্ষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মুরশিদা ফেরদৌস বিনতে হাবিব। আরএমপির বিভিন্ন পর্যায়ের পুলিশ সদস্যরা প্রশিক্ষণার্থী হিসেবে এতে অংশ নেন।

প্রশিক্ষণের উদ্বোধনী বক্তব্যে পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির বলেন, পুলিশ শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষার গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ থেকে দায়িত্ব পালন করে না; বরং সামাজিক বাস্তবতাকে বিবেচনায় নিয়ে অনেক সময় প্রচলিত আইনের পাশাপাশি পারিবারিক ও সামাজিক নানা জটিলতা সমাধানেও ভূমিকা রাখতে হয়।

তিনি বলেন, থানায় বা পুলিশের কাছে সেবা নিতে আসা মানুষ অনেক সময় পারিবারিক দ্বন্দ্ব, নির্যাতন, আর্থিক সংকটসহ বিভিন্ন কারণে মানসিক ট্রমা ও অস্থিরতার মধ্যে থাকেন। পুলিশ সদস্যরা যদি সেবাপ্রত্যাশীদের এই মনস্তাত্ত্বিক অবস্থা বুঝে সংবেদনশীল ও সহানুভূতিশীল আচরণ করতে পারেন, তাহলে পুলিশের প্রতি জনগণের আস্থা ও ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি আরও বাড়বে। একই সঙ্গে সামাজিক অস্থিরতা কমাতেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

পুলিশ সদস্যদের দায়িত্বের কঠোরতা ও কর্মক্ষেত্রে বিদ্যমান মানসিক চাপের বিষয়টি তুলে ধরে পুলিশ কমিশনার বলেন, মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যরা দীর্ঘ সময় ধরে নিরবচ্ছিন্নভাবে দায়িত্ব পালন করেন। তাদের কর্মঘণ্টা ও পেশাগত চাপের কারণে নিজেদের মানসিক সুস্থতার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, দীর্ঘ কর্মঘণ্টা ও পেশাগত চাপ মোকাবিলায় পুলিশ সদস্যদের জন্য মনোসামাজিক সহায়তা ও মানসিক সুস্থতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত প্রতিরোধ ও মানসিক সংকটে থাকা ব্যক্তিদের যথাযথভাবে সহায়তা করার ক্ষেত্রেও এ ধরনের প্রশিক্ষণ সময়োপযোগী।

পুলিশ কমিশনার আরও বলেন, বর্তমান প্রজন্মের মধ্যে মানসিক চাপ, হতাশা ও বিভিন্ন প্রতিকূলতা মোকাবিলায় ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্স এবং যথাযথ কাউন্সেলিংয়ের গুরুত্ব অপরিসীম। পুলিশ সদস্যদের এ বিষয়ে সচেতন ও দক্ষ করে তুললে তারা নিজেরা যেমন পেশাগত ও ব্যক্তিগত মানসিক চাপ মোকাবিলা করতে পারবেন, তেমনি সেবা নিতে আসা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত মানুষকেও আরও মানবিক ও কার্যকর সহায়তা দিতে পারবেন।

প্রশিক্ষণে মনোসামাজিক পরিচর্যার ধারণা, মানসিক চাপ ও ট্রমা মোকাবিলা, সহানুভূতিশীল আচরণ, কাউন্সেলিংয়ের প্রাথমিক ধারণা, ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্স এবং সংকটকালীন সময়ে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়।

আয়োজকরা জানান, পুলিশ সদস্যদের মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি জনগণের সঙ্গে আরও মানবিক, সংবেদনশীল ও কার্যকর আচরণে সক্ষম করে তুলতেই এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়েছে।