প্রকাশকাল: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ডাউনলোড: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
অনলাইন সংস্করণ
QR Code
বিস্তারিত অনলাইনে পড়ুন
pagethenews.com /pagethenews

অবৈধ ওষুধ বিক্রির তথ্য সংগ্রহে গিয়ে সাংবাদিকের মোবাইল কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক

জামালপুর পৌরসভার দয়াময়ী মোড় সংলগ্ন যৌন পল্লীর ঠিক সামনের এলাকায় কথিত অবৈধ যৌন উত্তেজক ওষুধ বিক্রির তথ্য সংগ্রহ ও তদন্ত করতে গিয়ে এক নাগরিক সাংবাদিককে বাধা, হেনস্তা ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক ওষুধ ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে।

অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১৩ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক ১০টার দিকে নাগরিক সাংবাদিক এস এম সায়েম হোসেন ওই এলাকায় কথিত অবৈধ যৌন উত্তেজক ওষুধ বিক্রির বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে লোহানি মেডিকেলের স্বত্বাধিকারী রাসেল লোহানি তার মোবাইল ফোন জোরপূর্বক কেড়ে নেন। পরে তাকে আঘাত করে দোকানে টেনে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানে কথিত অবৈধ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত কয়েকজনকে ডেকে এনে তাকে হুমকি ও হেনস্তা করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

ভুক্তভোগীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাসেল লোহানির দোকানে কথিত যৌন উত্তেজক ওষুধ বিক্রি হয়ে আসছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা অত্যাবশকীয়।

অভিযোগে আরও বলা হয়, ঘটনার সময় দোকান ও আশপাশের এলাকায় থাকা সিসিটিভি ক্যামেরায় পুরো ঘটনার দৃশ্য ধারণ হয়ে থাকতে পারে। তবে ওই ফুটেজ প্রকাশ না করে লোহানির নেতৃত্বে তা পরিবর্তন বা টেম্পারিংয়ের চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী। একই সঙ্গে ঘটনার পর থেকে তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

অভিযোগের রাজনৈতিক দিক নিয়েও স্থানীয়ভাবে নানা আলোচনা রয়েছে। ভুক্তভোগীর দাবি, ৫ আগস্টের পর রাসেল লোহানি বিএনপিতে যোগ দেন এবং একটি অরাজনৈতিক সংগঠনের আড়ালে এলাকায় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের পুনর্বাসনের চেষ্টা করছেন। তবে এই দাবিরও স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা অত্যাবশকীয় এবং সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক পক্ষের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের প্রশ্ন—যদি কোনো দোকানে অনুমোদনহীন বা অবৈধ যৌন উত্তেজক ও নেশাজাতীয় দ্রব্য বিক্রি হয়ে থাকে, তাহলে তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না কেন? একই সঙ্গে তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে একজন নাগরিক সাংবাদিকের ওপর হামলা, মোবাইল কেড়ে নেওয়া কিংবা হুমকির অভিযোগ থাকলে সেটিও তদন্তের দাবি রাখে।

এ ঘটনায় কথিত অবৈধ ওষুধ বিক্রির বিষয়টি, সিসিটিভি ফুটেজ এবং সাংবাদিককে হেনস্তা ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।