রাজশাহীতে বাড়ছে রিকশা, যানজট কমাতে ৮ দফা প্রস্তাব
রাজশাহী মহানগরীতে দিন দিন বাড়ছে রিকশার সংখ্যা। এর সঙ্গে ইজিবাইকসহ অন্যান্য যানবাহনের চাপও রয়েছে। ফলে নগরীর বিভিন্ন ব্যস্ত সড়কে যানজট বাড়ছে। কোথাও কোথাও রিকশার এলোমেলো চলাচলে যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে বলে অভিযোগ নগরবাসীর।
রিকশা ব্যবস্থাপনা ও যানজট নিয়ন্ত্রণে রাজশাহী সিটি করপোরেশন ও ট্রাফিক বিভাগের দৃষ্টি আকর্ষণ করে আট দফা প্রস্তাব দিয়েছেন স্থানীয় কয়েকজন সচেতন নাগরিক।
নগরবাসীর ভাষ্য, অনেক রিকশাচালক ট্রাফিক আইন ও সড়কের সংকেত সম্পর্কে যথেষ্ট সচেতন নন। ব্যস্ত সড়কে হঠাৎ মোড় নেওয়া, রাস্তার মাঝখানে রিকশা থামিয়ে যাত্রী ওঠানামা করানো এবং উল্টো পথে চলাচলের কারণে যান চলাচলে সমস্যা হচ্ছে। এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছে।
নাগরিকদের মতে, রিকশাচালকেরা শ্রমজীবী মানুষ। তাঁদের জীবিকার বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই রিকশা ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা আনা দরকার। একই সঙ্গে নগরবাসীর চলাচল নির্বিঘ্ন করতে যানজট নিয়ন্ত্রণেও কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।
প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে নগরীতে চলাচলকারী রিকশার সংখ্যা নির্দিষ্ট করা, বাধ্যতামূলক নিবন্ধন ও ডিজিটাল নম্বর প্লেট চালু করা। এ ছাড়া অটোরিকশার মতো রিকশাকেও রংভিত্তিক ভাগ করে নির্দিষ্ট দিন বা সময়ে চলাচলের ব্যবস্থা করার কথা বলা হয়েছে।
রাসিক প্রশাসক মাহাফুজুর রহমান রিটন বলেন, রিকশাচালকদের ট্রাফিক আইন ও সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়ার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে রিকশার জন্য পৃথক লেন বা নির্দিষ্ট চলাচলের পথ রাখার প্রস্তাবও রয়েছে। প্রধান সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে যেখানে-সেখানে রিকশা থামিয়ে যাত্রী ওঠানামা বন্ধের কথাও বলা হয়েছে।
এ ছাড়া অনিবন্ধিত ও অননুমোদিত রিকশার বিরুদ্ধে সিটি করপোরেশন ও ট্রাফিক পুলিশের যৌথ অভিযান পরিচালনা এবং এক ব্যক্তির নামে অতিরিক্ত রিকশা রেখে ভাড়া দেওয়ার প্রবণতা বন্ধ করে প্রকৃত চালকদের নামে সীমিতসংখ্যক লাইসেন্স দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।
নগরবাসীর প্রত্যাশা, এসব প্রস্তাব বিবেচনা করে রাজশাহীর রিকশা ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘমেয়াদি নীতিমালা গ্রহণ করবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এতে যানজট কমানোর পাশাপাশি সড়কে শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বাড়বে বলে তাঁরা মনে করেন।