প্রকাশকাল: ১১ জুলাই ২০২৬
ডাউনলোড: ১১ জুলাই ২০২৬
অনলাইন সংস্করণ
QR Code
বিস্তারিত অনলাইনে পড়ুন
pagethenews.com /pagethenews

AI কাজে লাগিয়ে পড়াশোনার পাশাপাশি আয়: বাড়ছে নতুন সম্ভাবনা

প্রযুক্তি ডেস্ক

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তারের ফলে বিশ্বজুড়ে ফ্রিল্যান্সিং খাতে নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশেও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের একটি অংশ পড়াশোনার পাশাপাশি AI-ভিত্তিক বিভিন্ন দক্ষতা কাজে লাগিয়ে অনলাইন মার্কেটপ্লেসে কাজ করছেন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সঠিক দক্ষতা অর্জন, নিয়মিত অনুশীলন এবং পেশাদার মানের কাজের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা অতিরিক্ত আয়ের সুযোগ তৈরি করতে পারেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, AI সম্পর্কে সাধারণ ধারণা থাকলেই আয় করা সম্ভব নয়। বরং AI ব্যবহার করে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নির্দিষ্ট সমস্যা সমাধান করতে পারলেই সেই দক্ষতার মূল্য পাওয়া যায়। তাই নির্দিষ্ট একটি সেবা বা দক্ষতার ওপর মনোযোগ দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন তারা।

শিক্ষার্থীদের জন্য তুলনামূলক সহজ কিছু ক্ষেত্রের মধ্যে রয়েছে AI-সহায়তায় কনটেন্ট ও আর্টিকেল লেখা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট তৈরি, ভিডিও সম্পাদনা এবং ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে কাজ করা। এসব ক্ষেত্রে প্রোগ্রামিং জ্ঞানের প্রয়োজন হয় না এবং স্বল্প ব্যয়ে দক্ষতা অর্জনের সুযোগ রয়েছে।

তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, AI কোনো কাজ সম্পূর্ণ করে দেওয়ার বিকল্প নয়। এটি কাজের গতি বাড়াতে সহায়তা করে মাত্র। তাই AI-এর তৈরি করা কনটেন্ট যাচাই, সম্পাদনা ও মানোন্নয়নের দায়িত্ব ব্যবহারকারীরই। ক্লায়েন্টরা মূলত পেশাদার ও নির্ভুল কাজের জন্যই পারিশ্রমিক দিয়ে থাকেন।

নতুনদের জন্য শুরুতে একটি নির্দিষ্ট দক্ষতার ওপর অন্তত এক মাস সময় দিয়ে শেখার পাশাপাশি কয়েকটি মানসম্মত নমুনা (পোর্টফোলিও) তৈরির পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এরপর আন্তর্জাতিক ফ্রিল্যান্সিং প্ল্যাটফর্মে প্রোফাইল তৈরি করে ছোট ছোট কাজের মাধ্যমে ইতিবাচক রিভিউ অর্জনের দিকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলা হচ্ছে।

খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, শুরুতে আয়ের চেয়ে অভিজ্ঞতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ধারাবাহিকভাবে কাজ করলে কয়েক মাসের মধ্যে নিয়মিত ক্লায়েন্ট তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তবে আয়ের পরিমাণ নির্ভর করে ব্যক্তির দক্ষতা, কাজের মান, সময় বিনিয়োগ এবং বাজারের চাহিদার ওপর। তাই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নির্দিষ্ট অঙ্কের আয়ের নিশ্চয়তা দেওয়া সম্ভব নয়।

আন্তর্জাতিক ফ্রিল্যান্সিং প্ল্যাটফর্ম থেকে অর্থ গ্রহণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশে পেপ্যাল সেবা না থাকায় অনেকেই পেওনিয়ারসহ অন্যান্য বৈধ আন্তর্জাতিক পেমেন্ট সেবা ব্যবহার করেন।

বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, পড়াশোনা ও আয়ের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষাজীবনকে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময় দক্ষতা উন্নয়ন ও অনলাইন কাজের জন্য বরাদ্দ করলে দীর্ঘমেয়াদে ভালো ফল পাওয়া সম্ভব।

তাদের ভাষ্য, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক সম্পন্ন করার সময় শুধু একটি সনদ নয়, বরং একটি শক্তিশালী পোর্টফোলিও, বাস্তব কাজের অভিজ্ঞতা এবং আন্তর্জাতিক ক্লায়েন্টের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতাও ভবিষ্যতের ক্যারিয়ারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। AI-নির্ভর কর্মক্ষেত্রের এই পরিবর্তিত বাস্তবতায় সময়োপযোগী দক্ষতা অর্জনই শিক্ষার্থীদের জন্য সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।