ত্যাগের মহিমায় উদ্ভাসিত হোক মানবিকতা: ঈদ মোবারক
আবারো আমাদের মাঝে সমাগত পবিত্র ঈদুল আজহা। ত্যাগের মহিমায় ভাস্বর এই দিনটি মুসলিম উম্মাহর জন্য নিয়ে আসে আনন্দ, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের অনন্য বার্তা। সব ভেদাভেদ ভুলে সাম্যের পতাকাতলে মিলিত হওয়ার দিন আজ। তবে এই আনন্দ যেন কেবল আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে, বরং তা যেন আমাদের জীবনের প্রতিটি স্তরে মানবিকতা ও সহমর্মিতার বার্তা পৌঁছে দেয়।
পবিত্র ঈদুল আজহার মূল ভিত্তি হলো আত্মত্যাগ। হজরত ইব্রাহিম (আ.) ও হজরত ইসমাইল (আ.)-এর সেই অবিস্মরণীয় আনুগত্য ও ত্যাগের মহিমা আজ আমাদের নতুন করে অনুপ্রাণিত করে। হজের আনুষ্ঠানিকতায় আরাফাতের ময়দানে লাখো মানুষের সমবেত হওয়া যেমন বিশ্ব মুসলিমের ঐক্যের প্রতীক, তেমনি কোরবানির পশু উৎসর্গ করা হলো স্রষ্টার সন্তুষ্টি অর্জনের এক অনন্য মাধ্যম।
তবে মনে রাখতে হবে, কোরবানির প্রকৃত উদ্দেশ্য কেবল পশু জবাই নয়; বরং এর চেয়েও বড় কোরবানি হলো নিজের ভেতরকার পশুত্বকে বিসর্জন দেওয়া। আমাদের মনের কাম, ক্রোধ, লোভ, মোহ, পরনিন্দা ও পরশ্রীকাতরতা—এই রিপুগুলোকে দমন করে নিজেকে একজন খাঁটি মানুষ হিসেবে গড়ে তোলাই হলো কোরবানির মূল শিক্ষা। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ স্পষ্টভাবে বলেছেন, পশুর রক্ত বা মাংস তাঁর কাছে পৌঁছায় না, বরং তাঁর কাছে পৌঁছায় কেবল বান্দার তাকওয়া বা খোদাভীতি।
এই ত্যাগের উৎসবে আমাদের মনে রাখতে হবে সমাজের সেইসব অসহায় ও দুস্থ মানুষকে, যাদের জীবনে আনন্দের চেয়ে অভাবই বেশি। লোক দেখানো বিলাসিতা নয়, বরং অন্তরের গভীর থেকে নিঃস্বার্থ ত্যাগের মানসিকতা নিয়েই আমরা এবারের ঈদ উদযাপন করব। যারা সামর্থ্যবান, তারা যেন সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের পাশে দাঁড়ান—এটিই সময়ের বড় দাবি। ঈদুল আজহা আমাদের শেখায় অন্যের দুঃখে ব্যথিত হতে এবং নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী অন্যের মুখে হাসি ফোটাতে।
আমাদের পত্রিকার অগণিত পাঠক, সংবাদকর্মী, শুভানুধ্যায়ী এবং দেশবাসীসহ সারা বিশ্বের মুসলিম উম্মাহর প্রতি রইল পবিত্র ঈদুল আজহার আন্তরিক শুভেচ্ছা। মানুষের ভেতরের মানবিকতা জাগ্রত হোক, বিশ্বজুড়ে শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠিত হোক—এই হোক এবারের ঈদ উদযাপনের অঙ্গীকার।
