পেজ দ্যা নিউজ
আমাদের সাথে যুক্ত থাকুন
বুধবার, ৮ জুলাই, ২০২৬
শিরোনাম
লিঙ্ক কপি হয়েছে!

এনসিপির সমাবেশে ককটেল বিস্ফোরণ মামলায় গ্রেফতার দুই আসামি রিমান্ডে

মোঃ শাহীনুল হক
মোঃ শাহীনুল হক , স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: ৭ জুলাই ২০২৬, ১১:১৮ পিএম

ঢাকার সাভারে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচির সমাবেশে ঘটে যাওয়া বিস্ফোরণের ঘটনায় বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার সন্দেহে নিষিদ্ধ ঘোষিত যুবলীগের দুই নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরে আদালতের নির্দেশে তাঁদের দুই দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ ও দায়ীদের শনাক্ত করতে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে ঢাকা জেলা পুলিশ।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তা ও মামলার নথি সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

মামলার বাদী এনসিপির ঢাকা জেলা উত্তরের সদস্যসচিব মো. সালামত উল্লাহ রনি। সোমবার (৬ জুলাই) গভীর রাতে তিনি সাভার মডেল থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মামলাটি দায়ের করেন। মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, পূর্বপরিকল্পিতভাবে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ এবং সমাবেশে উপস্থিত সাধারণ মানুষকে হত্যার উদ্দেশ্যে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটানো হয়েছে।

গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন- মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার পূর্ব ভাকুম গ্রামের মো. নুরুল ইসলাম (৫২) এবং সাভার পৌর এলাকার আনন্দপুর মহল্লার মো. সজীব (৩২)। পুলিশ জানিয়েছে, নুরুল ইসলাম সিংগাইর উপজেলার একটি ইউনিয়ন যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং সজীব সাভার যুবলীগের কর্মী।

ঢাকা জেলা উত্তর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সাইদুল ইসলাম জানান, মঙ্গলবার ভোররাত প্রায় ২টার দিকে সাভারের আনন্দপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের আটক করা হয়। পরে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বিস্ফোরক আইনের মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে সাভার মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন বলেন, ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার সন্দেহে তাঁদের আটক করা হয়েছিল। জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। ঘটনার নেপথ্যে কারা রয়েছে এবং কীভাবে বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে, তা উদঘাটনে তদন্ত চলছে।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, এনসিপির পূর্বঘোষিত ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে সোমবার সন্ধ্যায় সাভারের তারাপুর ঈদগাহ মাঠে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। রাত সাড়ে ৯টার দিকে দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, সদস্যসচিব আখতার হোসেন এবং উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমসহ কেন্দ্রীয় নেতারা সমাবেশস্থলে পৌঁছান।

এজাহারে বলা হয়, কেন্দ্রীয় নেতারা মঞ্চে ওঠার পাঁচ থেকে দশ মিনিট আগে হঠাৎ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পুরো সমাবেশস্থল অন্ধকারে ডুবে যায়। পরে জেনারেটরের মাধ্যমে সীমিত আকারে আলোর ব্যবস্থা করা হলেও পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি।

ঠিক এ সময় রাত আনুমানিক ৯টা ৪২ মিনিটে মঞ্চের সামনে ১০ থেকে ১৫ ফুট দূরে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। মুহূর্তেই সাদা ধোঁয়ায় চারপাশ ঢেকে যায় এবং আতঙ্কিত মানুষ দিগ্বিদিক ছুটতে শুরু করেন। এ ঘটনায় শাহীন খন্দকার (৩০), জসিম (২৬), শাহাদাত হোসেন (৪০) ও ইমরান হোসেন আহত হন। তাঁদের উদ্ধার করে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আহতদের মধ্যে একজনের পায়ে গুরুতর আঘাত লাগে।

বিস্ফোরণের পরপরই ঢাকা জেলা পুলিশ ঘটনাটিকে গুরুত্ব দিয়ে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম, অপস ও ট্রাফিক-উত্তর) মো. জাহাঙ্গীর আলমকে কমিটির প্রধান করা হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাভার সার্কেল) রাকিবুল হাসান ঈশান এবং সাভার মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) নূর মোহাম্মদ।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থলের আলামত সংগ্রহ, সিসিটিভি ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য এবং গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ করে বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ উদঘাটনের চেষ্টা চলছে।

মঙ্গলবার গ্রেপ্তার দুই আসামিকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ। শুনানি শেষে আদালত তাঁদের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, রিমান্ডে বিস্ফোরণে ব্যবহৃত উপকরণ, পরিকল্পনাকারী এবং সম্ভাব্য সহযোগীদের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানার চেষ্টা করা হবে।

ঘটনার পর সমাবেশে বক্তব্য দিয়ে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, প্রশাসন পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে। তবে তিনি বলেন, হামলা কিংবা বিস্ফোরণের মাধ্যমে এনসিপির রাজনৈতিক কর্মসূচি থামানো যাবে না এবং ‘জুলাই পদযাত্রা’ দেশের প্রতিটি উপজেলায় অব্যাহত থাকবে।

এদিকে এনসিপির ঢাকা জেলা উত্তরের আহ্বায়ক নাবিলা তাসনিদ নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়ে বলেন, দোষী যে দলেরই হোক, তাকে আইনের আওতায় আনতে হবে। আবার নিরপরাধ কাউকে যেন হয়রানির শিকার হতে না হয়, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, অভিযোগ দায়েরের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্তের পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত বিষয়টি নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন থেকে যায়। আমরা চাই প্রকৃত অপরাধীরাই আইনের আওতায় আসুক।

পুলিশ জানিয়েছে, বিস্ফোরণের ঘটনায় জড়িত অন্য কেউ আছে কি না, সে বিষয়েও তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। প্রয়োজনে আরও গ্রেপ্তার করা হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।