মাদারগঞ্জে অবরুদ্ধ ১৮ পরিবারের চলাচলের রাস্তা উন্মুক্ত করলো প্রশাসন
জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার ৫ নম্বর জোড়খালী ইউনিয়নের দিগলকান্দি গ্রামে ১৮টি পরিবারের চলাচলের একমাত্র রাস্তা বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগের পর উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে সেই প্রতিবন্ধকতা অপসারণ করা হয়েছে। প্রায় ৭২ ঘন্টা পর ভোগান্তির অবসান হওয়ায় স্বস্তি ফিরে এসেছে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মধ্যে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, উপজেলার জোড়খালী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের আকন্দবাড়ির অন্তত ১৮টি পরিবারের যাতায়াতের একমাত্র রাস্তা একই গ্রামের করিমুজ্জামান বেড়া দিয়ে বন্ধ করে দেন বলে অভিযোগ ওঠে। এতে নারী, শিশু, শিক্ষার্থী, বৃদ্ধ ও অসুস্থ ব্যক্তিসহ পরিবারগুলোর সদস্যরা চরম দুর্ভোগে পড়েন। জরুরি প্রয়োজনে চলাচলও ব্যাহত হয়।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীরা উপজেলা প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ঘটনাস্থলে অভিযান পরিচালনা করা হয়। সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাসেল দেওয়ানের নেতৃত্বে অভিযানে রাস্তার ওপর নির্মিত বেড়া অপসারণ করে জনসাধারণের চলাচলের জন্য পথটি পুনরায় উন্মুক্ত করা হয়।
ভুক্তভোগী রফিকুল আকন্দ, গোলাপ আকন্দ, পরিবারগুলোর দাবি, সংশ্লিষ্ট জমি নিয়ে তাদের কোনো বিরোধ নেই। ব্যক্তিগত বিরোধের জের ধরে করিমুজ্জামান ইচ্ছাকৃতভাবে চলাচলের পথ বন্ধ করে তাদের হয়রানির শিকার করেছেন। তারা জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তি তাদের নিকট আত্মীয় এবং উভয় পরিবারের মধ্যে চাচা-ভাতিজার সম্পর্ক রয়েছে।
রাস্তা উন্মুক্ত হওয়ার পর ভুক্তভোগীরা উপজেলা প্রশাসনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তাদের ভাষ্য, প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপের কারণে দীর্ঘ ভোগান্তির অবসান হয়েছে। এখন তারা আগের মতো নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারছেন।
এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল বলেন, জনসাধারণের চলাচলের পথে এ ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি কোনোভাবেই কাম্য নয়। ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে, সে জন্য প্রশাসনের নিয়মিত তদারকি এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তারা।
মাদারগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমন চৌধুরী বলেন, আগে এ বিষয়ে একটি অভিযোগ পেয়েছিলাম। পরে ভুক্তভোগীরা আবারও অভিযোগ করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে জোড়খালী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডে জনসাধারণের চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে নির্মিত প্রতিবন্ধকতা অপসারণে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, জনস্বার্থে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে মানুষের চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করলে প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
