নিখোঁজের ১০ দিন পর ব্রহ্মপুত্র নদীতে মিললো যুবকের লাশ
ময়মনসিংহের ব্রহ্মপুত্র নদ থেকে জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত যুবকের নাম মিরান (২১)। তিনি মাদারগঞ্জ উপজেলার চরপাকেরদহ ইউনিয়নের চরপাকেরদহ পূর্বপাড়া (বৈশাগাড়ী) গ্রামের বাসিন্দা। শুক্রবার সকালে মৃত্যুর খবর গ্রামে পৌঁছালে নিহতের বাড়িতে শোকের মাতম নেমে আসে। স্বজনদের কান্নায় পুরো এলাকায় হৃদয়বিদারক পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টার দিকে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে স্থানীয়রা জানান, ময়মনসিংহ শহরের ব্রহ্মপুত্র নদে একটি মরদেহ ভেসে উঠেছে। খবর পেয়ে কোতোয়ালী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
পরে মাদারগঞ্জ থেকে নিহতের মা ও স্বজনরা সেখানে গিয়ে প্রথমে মরদেহ শনাক্ত করতে না পারলেও পরনে থাকা প্যান্ট দেখে এটি মিরানের মরদেহ বলে নিশ্চিত হন।
পরিবারের সদস্যরা জানান, প্রায় ১০ দিন আগে দেওয়ানগঞ্জে কাজের কথা বলে বাড়ি থেকে বের হন মিরান। এরপর থেকে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। পরিবারের সঙ্গে আর কোনো যোগাযোগ হয়নি। তবে থানায় এ বিষয়ে কোনো সাধারণ ডায়েরি (জিডি) বা অভিযোগ করা হয়নি।
স্থানীয়রা জানান, মিরান পেশায় রাজমিস্ত্রির সহকারী ছিলেন। পাশাপাশি নারিকেল গাছ পরিষ্কারের কাজও করতেন। বিভিন্ন এলাকায় কাজের প্রয়োজনে যাতায়াত করতেন তিনি।
ময়মনসিংহ কোতোয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, বৃহস্পতিবার বিকেলে ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে ব্রহ্মপুত্র নদ থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, মরদেহটি নদীর স্রোতে জামালপুর এলাকা থেকে ভেসে এসেছে। ময়নাতদন্ত শেষে আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
মাদারগঞ্জ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) স্নেহাশিষ রায় বলেন, খবর পাওয়ার পর মাদারগঞ্জ থানা পুলিশ নিহতের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে। পরে নিহতের মা ও স্ত্রী ময়মনসিংহে যান। জানা গেছে, মিরান প্রায় ১০ দিন ধরে নিখোঁজ ছিলেন। তবে এ বিষয়ে থানায় কোনো অভিযোগ দায়ের করা হয়নি।
নিহতের চাচাতো ভাই মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, “মিরান রাজমিস্ত্রির কাজের পাশাপাশি নারিকেল গাছ পরিষ্কারের কাজ করতেন। বিভিন্ন জায়গায় কাজ করতে যেতেন বলে কয়েকদিন যোগাযোগ না থাকলেও আমরা তেমন সন্দেহ করিনি। আজ সকালে পুলিশ এসে তার মৃত্যুর খবর দেয়। কীভাবে তার মৃত্যু হয়েছে, তা আমরা জানি না।”
নিহতের বাবা মিন্টু বলেন, “আমার দুই ছেলে ও তিন মেয়ে। মিরান ছিল আমার মেজো ছেলে। কাজের প্রয়োজনে বিভিন্ন এলাকায় থাকত। প্রায় ১০ দিন তার কোনো খোঁজ পাইনি। হঠাৎ আজ সকালে পুলিশ এসে জানায়, ময়মনসিংহে তার মরদেহ পাওয়া গেছে। এরপর তার মা ও স্বজনদের মরদেহ আনতে পাঠিয়েছি।”
এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
