ঢাকাবুধবার , ২৯ এপ্রিল ২০২৬
  • অন্যান্য
  1. ইতিহাস
  2. জাতীয়
  3. ধর্ম
  4. প্রযুক্তি
  5. বিনোদন
  6. বিশ্ব
  7. মতামত
  8. রাজনীতি
  9. শিক্ষাঙ্গন
  10. সর্বশেষ
  11. সারাদেশ
  12. সাহিত্য
আজকের সর্বশেষ খবর

বাজেট সংকটে থমকে বুটেক্সের স্টেশনারি সম্প্রসারণ প্রকল্প, ভোগান্তিতে শিক্ষার্থীরা

মোঃ তাওকির তাজাম্মুল
এপ্রিল ২৯, ২০২৬ ৬:১০ অপরাহ্ণ
Link Copied!

বুটেক্স প্রতিনিধি: বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয় (বুটেক্স)-এর একাডেমিক ভবনের নিচতলায় অবস্থিত স্টুডেন্টস কর্নারের স্টেশনারি দোকানটি দীর্ঘদিন ধরেই শিক্ষার্থীদের নানা ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। জায়গার স্বল্পতা, অতিরিক্ত ভিড় এবং পর্যাপ্ত কর্মীর অভাবে শিক্ষার্থীদের প্রতিনিয়ত সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। যদিও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্টেশনারি সম্প্রসারণের পরিকল্পনার কথা আগে জানানো হয়েছিল, বাজেট সংকটের কারণে সেটি এখনো বাস্তবায়ন হয়নি।

পূর্বে বুটেক্সের পুরোনো টিএসসি’র সামনে কেন্দ্রীয় স্টেশনারির অবস্থান ছিল। পরে সেটি স্থানান্তর করে একাডেমিক ভবনের নিচতলায় আনা হয়। বর্তমানে শিক্ষার্থীরা এখান থেকে বিভিন্ন কোর্সের বই, নোট, প্রিন্ট, ফটোকপি এবং প্রয়োজনীয় স্টেশনারি সামগ্রী সংগ্রহ করে থাকেন। বাইরের দোকানের তুলনায় তুলনামূলক কম দামে পণ্য পাওয়া এবং ক্যাম্পাসের ভেতরে অবস্থানের কারণে এটি শিক্ষার্থীদের জন্য সুবিধাজনক হলেও জায়গার সীমাবদ্ধতা বড় সমস্যায় পরিণত হয়েছে।

বিশেষ করে ক্লাস চলাকালীন সময়, ল্যাব ফাইনাল পরীক্ষা এবং টার্ম ফাইনালের ফর্ম ফিলাপের সময় স্টেশনারিতে অতিরিক্ত ভিড় দেখা যায়। এতে প্রয়োজনীয় কাগজ প্রিন্ট বা ফটোকপি করতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়।

ওয়েট প্রসেস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ৫০তম ব্যাচের শিক্ষার্থী আল আমিন হোসাইন বলেন, স্টেশনারিটি ছোট হওয়ায় অনেক সময় একটি সাধারণ কাজ করাতেও ২০ থেকে ৩০ মিনিট সময় লেগে যায়। কম্পিউটার অপারেটর ও সেলসম্যান কম থাকায় ভিড়ের সময় সমস্যা আরও বেড়ে যায়।

টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ৪৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থী এম এম ফাহাদ জয় বলেন, ল্যাব বা ক্লাসের আগমুহূর্তে অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। গরমের মধ্যে অল্প জায়গায় গাদাগাদি করে দাঁড়িয়ে থাকা কষ্টদায়ক হয়ে ওঠে।

তবে স্টেশনারিতে কর্মরত কম্পিউটার অপারেটর মো. হাসান জানান, আগের তুলনায় এখন কিছুটা উন্নতি হয়েছে। প্রিন্টার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে, ফলে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি কিছুটা কমেছে। এছাড়া পূর্বের রাজনৈতিক প্রভাব ও নানা বঞ্চনার বিষয়ও এখন আর নেই বলে জানান তিনি।

দোকানের পরিচালক মো. কামরুল হাসান বলেন, শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় সামগ্রী সরবরাহে তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেন। কোনো পণ্যের স্টক শেষ হয়ে গেলে দ্রুত সংগ্রহ করে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। তিনি জানান, পূর্বে বর্তমান স্টেশনারি স্থানান্তর করে নতুন ক্যান্টিনের পেছনে বড় পরিসরে স্থাপনের পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু পরবর্তীতে জায়গাটি অন্য কাজে ব্যবহৃত হওয়া এবং অন্যান্য কারণে সেই পরিকল্পনা আর এগোয়নি।

বুটেক্সের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন পরিচালক অধ্যাপক ড. শেখ মো. মামুন কবীর বলেন, নতুন ক্যান্টিনের সামনে স্টেশনারি স্থানান্তরের পরিকল্পনা ছিল। তবে বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতি, জ্বালানি সংকট এবং বাজেট সংকটের কারণে সরকার পূর্বে বরাদ্দকৃত বাজেটের ৫০ শতাংশ ফিরিয়ে নিয়েছে। ফলে চাইলেও প্রকল্পটি বাস্তবায়ন সম্ভব হচ্ছে না।

তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে সরকার থেকে পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দ এবং অনুমোদন পাওয়া গেলে স্টেশনারি সম্প্রসারণ ও স্থানান্তরের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে।

সাধারণ শিক্ষার্থীদের দাবি, স্টেশনারিটির সেবার মান উন্নয়নে দ্রুত জায়গা বৃদ্ধি, জনবল বৃদ্ধি এবং অপারেটর সংখ্যা বাড়ানো প্রয়োজন। এতে শিক্ষার্থীরা কম সময়ে ভালো সেবা পাবেন এবং স্টেশনারিটিও আরও কার্যকরভাবে পরিচালিত হবে।

এই ওয়েবসাইটের সকল লেখা, ছবি, অডিও বা ভিডিও “পেজ দ্যা নিউজ” কতৃপক্ষের অনুমতি ব্যতীত কপি করা দন্ডনীয়। বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করলে কতৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার রাখে।