শীতের আগেই অতিথি পাখি শিকার ও বিক্রির অভিযোগ, হুমকিতে জীববৈচিত্র্য
শীতের আগমনী বার্তা প্রকৃতিতে ছড়িয়ে পড়ার আগেই পরিযায়ী বা অতিথি পাখি শিকার ও বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। শীত মৌসুমে দেশের বিভিন্ন জলাশয়, বিল, হাওর ও নদী-সংলগ্ন এলাকায় এসব পাখির আগমন ঘটে। তবে অসাধু শিকারিদের তৎপরতায় পাখির নিরাপদ বিচরণ ও জীববৈচিত্র্য নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শীত মৌসুমকে সামনে রেখে কিছু ব্যক্তি বিভিন্ন কৌশলে অতিথি পাখি শিকার করে বিক্রির চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। শিকার করা পাখি বিভিন্ন বাজার ও লোকালয়ে বিক্রি করা হলে এসব পাখির সংখ্যা কমে যাওয়ার পাশাপাশি পরিবেশের স্বাভাবিক ভারসাম্যও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
পরিবেশপ্রেমীদের মতে, পরিযায়ী পাখি প্রকৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। প্রতিবছর দূরদূরান্ত থেকে আসা এসব পাখি জলাভূমির পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সমৃদ্ধ করতে ভূমিকা রাখে। নির্বিচারে শিকার ও বেচাকেনা অব্যাহত থাকলে কিছু প্রজাতির পাখির অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়তে পারে। তাই শুধু শিকার নয়, অবৈধভাবে পাখি কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ-সংশ্লিষ্ট আইন অনুযায়ী, সংরক্ষিত বন্যপ্রাণী শিকার, হত্যা, আটক ও অবৈধভাবে বেচাকেনার ক্ষেত্রে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি বাড়ানো এবং প্রয়োজনীয় অভিযান পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন সচেতন ব্যক্তিরা।
তাঁদের মতে, অতিথি পাখি রক্ষায় প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপের পাশাপাশি জনসচেতনতাও জরুরি। কোথাও পাখি শিকার বা বিক্রির ঘটনা দেখা গেলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করতে হবে। একই সঙ্গে অতিথি পাখি কেনা থেকে বিরত থাকতে হবে, যাতে অবৈধ বেচাকেনার চাহিদা কমে আসে।
প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষা ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে অতিথি পাখির নিরাপদ বিচরণ নিশ্চিত করা জরুরি। শীতের সৌন্দর্য অক্ষুণ্ন রাখতে পাখি শিকার ও অবৈধ বেচাকেনা বন্ধে এখনই কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।
