পড়াশোনার পাশাপাশি মাশরুম চাষে উদ্যেক্তা টুম্পা সেন
পড়াশোনার পাশাপাশি মাশরুম চাষ করে উদ্যোক্তা হিসেবে এগিয়ে যাচ্ছেন ফুলবাড়ির টুম্পা সেন। নিজের উদ্যোগে মাশরুম চাষ করে সেখান থেকে আয় করে পড়াশোনার খরচ চালাচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি পরিবারের আর্থিক সংকট মোকাবিলায়ও ভূমিকা রাখছেন এই তরুণী।
টুম্পা সেন আলোকিত কাশিপুর যুব সংগঠনের একজন সদস্য। উদয় অঙ্কুর সেবা সংস্থা (ইউএসএস) ও অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের সহযোগিতায় সেড (SAED) ফান্ডের আওতায় মাশরুম চাষের জন্য তাকে নির্বাচিত করা হয়। এ উদ্যোগের আওতায় টুম্পা সেনকে এককালীন ১০ হাজার টাকা দেওয়া হয়।
প্রাপ্ত অর্থ দিয়ে মাশরুম চাষ শুরু করেন টুম্পা সেন। পড়াশোনার পাশাপাশি মাশরুমের পরিচর্যা, উৎপাদন ও বিক্রির কাজ করছেন তিনি। নিজের পরিশ্রমে অর্জিত আয় দিয়ে পড়াশোনার খরচ চালানোর পাশাপাশি ভবিষ্যতে এই উদ্যোগকে আরও বড় করার স্বপ্ন দেখছেন তিনি।
উদয় অঙ্কুর সেবা সংস্থা (ইউএসএস)-এর প্রজেক্ট অফিসার জনাব নূরনবী বলেন, “সেড ফান্ডের জন্য আলোকিত কাশিপুর যুব সংগঠনের মাধ্যমে টুম্পা সেন আবেদন করেন। এরপর তাকে মাশরুম চাষের জন্য ১০ হাজার টাকা প্রদান করা হয়। তার ব্যবসা বড় করার জন্য সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে। মাঝেমধ্যে আমরা তার কার্যক্রম পরিদর্শন করব। কার্যক্রম ভালো থাকলে ভবিষ্যতে আরও ফান্ডের সুযোগ এলে তাকে সহযোগিতা করা হবে।”
আলোকিত কাশিপুর যুব সংগঠনের সভাপতি জনাব আনিছুর রহমান বলেন, “মেয়েরা কিছু করতে পারে না—এটা ভুল কথা। আমাদের সংগঠনের সদস্য টুম্পা সেন পড়াশোনার পাশাপাশি মাশরুম চাষ করে তা প্রমাণ করেছে। তার জন্য সবসময় শুভকামনা রইল।”
টুম্পা সেনের পিতা শ্রী ভাবেন চন্দ্র বলেন, “আমার মেয়ে পড়াশোনার পাশাপাশি নিজে মাশরুম চাষ করে পড়াশোনা চালাচ্ছে। এতে আমি অনেক খুশি। অভাবের সংসারে আমার মেয়ে হাল ধরছে।”
তিনি মেয়ের এই উদ্যোগে সহযোগিতা করার জন্য আলোকিত কাশিপুর যুব সংগঠন, ইউএসএস ও অ্যাকশনএইড বাংলাদেশকে ধন্যবাদ জানান।
পড়াশোনার পাশাপাশি মাশরুম চাষের মাধ্যমে টুম্পা সেনের এই উদ্যোগ স্থানীয় তরুণদের জন্যও একটি উদাহরণ তৈরি করেছে। প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও সুযোগ পেলে তার মতো তরুণ-তরুণীরা নিজেদের কর্মসংস্থান তৈরির পাশাপাশি পরিবারের আর্থিক উন্নয়নেও ভূমিকা রাখতে পারেন।
