পেজ দ্যা নিউজ
আমাদের সাথে যুক্ত থাকুন
বুধবার, ২৪ জুন, ২০২৬
শিরোনাম
​মাদারগঞ্জে হাজার কোটি টাকার আমানত ফেরত চান ৩০ হাজার গ্রাহক: অবরুদ্ধ ইউএনও অফিস আওয়ামী লীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে নিকলীতে বিশেষ অভিযান, ৮ জন গ্রেফতার পর্তুগাল বনাম উজবেকিস্তান: আজ রাত ১১টায় জমজমাট লড়াইয়ের অপেক্ষায় ফুটবল বিশ্ব আজ ঐতিহাসিক পলাশী দিবস: বাংলার স্বাধীনতা হারানোর করুণ অধ্যায় ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে ছাত্রদলের বিক্ষোভ; ক্যাম্পাস নজরদারি ও শিক্ষার্থীদের মাঝে খাবার বিতরণ রাজশাহীতে জাতীয় ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইন উপলক্ষে ওরিয়েন্টেশন ও পরিকল্পনা সভা অনুষ্ঠিত আইইএস জাতীয় মেধাবৃত্তি পরীক্ষায় তামীরুল মিল্লাত টঙ্গী শাখার সাফল্য ঢাকা উত্তর সিটিতে জামায়াতের মেয়র প্রার্থী সেলিম দক্ষিণে সাদিক
লিঙ্ক কপি হয়েছে!

আজ ঐতিহাসিক পলাশী দিবস: বাংলার স্বাধীনতা হারানোর করুণ অধ্যায়

পেজ দ্যা নিউজ ডেস্ক প্রকাশিত: ২৩ জুন ২০২৬, ০৭:১৯ পিএম

আজ ২৩ জুন, ঐতিহাসিক পলাশী দিবস। ১৭৫৭ সালের এই দিনে পলাশীর আম্রকাননে সংঘটিত যুদ্ধে পরাজয়ের মধ্য দিয়ে বাংলার স্বাধীনতার অবসান ঘটে এবং শুরু হয় প্রায় দুই শতাব্দীর ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসন।

ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এ দিনটি ‘পলাশী ট্র্যাজেডি দিবস’ নামেও পরিচিত। পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ থেকে প্রায় ২৩ মাইল দক্ষিণে ভাগীরথী নদীর তীরে পলাশীর প্রান্তরে বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজউদ্দৌলা-এর বাহিনীর সঙ্গে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির যুদ্ধ সংঘটিত হয়।

ইতিহাসবিদদের মতে, যুদ্ধের ফল নির্ধারণে মুখ্য ভূমিকা রেখেছিল অভ্যন্তরীণ ষড়যন্ত্র ও বিশ্বাসঘাতকতা। ব্রিটিশ সেনাপতি রবার্ট ক্লাইভ বাংলার প্রভাবশালী কিছু ব্যক্তি ও নবাবের ঘনিষ্ঠদের সঙ্গে গোপন সমঝোতা করেন। এর অংশ হিসেবে নবাবের প্রধান সেনাপতি মীর জাফর ব্রিটিশদের সঙ্গে যোগসাজশে নবাবের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন।

২৩ জুন সকাল থেকে শুরু হওয়া যুদ্ধে সংখ্যায় ও শক্তিতে এগিয়ে থাকা নবাবের বাহিনী শেষ পর্যন্ত পরাজিত হয়। যুদ্ধক্ষেত্রে সেনাবাহিনীর একটি বড় অংশ নিষ্ক্রিয় থাকায় নবাবের পক্ষে প্রতিরোধ গড়ে তোলা সম্ভব হয়নি। এর ফলে বাংলার রাজনৈতিক স্বাধীনতা কার্যত বিলুপ্ত হয়।

যুদ্ধের পর নবাব সিরাজউদ্দৌলা রাজধানী ত্যাগ করলেও পরে গ্রেপ্তার হন এবং নিহত হন। অন্যদিকে ব্রিটিশদের সমর্থনে মীর জাফর বাংলার নবাব হিসেবে ক্ষমতায় বসেন। পলাশীর যুদ্ধের পর থেকেই বাংলায় ব্রিটিশ প্রভাব দ্রুত বিস্তার লাভ করে এবং পরবর্তী সময়ে সমগ্র ভারতবর্ষ ব্রিটিশ শাসনের অধীনে চলে যায়।

ইতিহাসবিদরা মনে করেন, পলাশীর যুদ্ধ শুধু একটি সামরিক পরাজয় ছিল না; এটি ছিল রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র, অভ্যন্তরীণ বিভক্তি ও বিশ্বাসঘাতকতার এক করুণ পরিণতি। তাই পলাশী দিবস বাঙালির ইতিহাসে স্বাধীনতা হারানোর এক বেদনাবিধুর স্মারক হিসেবে আজও স্মরণীয় হয়ে আছে।