পেজ দ্যা নিউজ
আমাদের সাথে যুক্ত থাকুন
শনিবার, ৭ নভেম্বর, ২০২৬
শিরোনাম
• নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালন • শিক্ষার্থীদের কর্মজীবনের প্রস্তুতি নিয়ে ফুলবাড়ীয়ায় আলোচনা • এমপি রুবেলের আশু রোগমুক্তির জন্য শ্রীবরদীতে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত • গার্মেন্টস শ্রমিক তৌফিক হত্যার বিচারের দাবিতে হবিগঞ্জে বাসদ ও শ্রমিক ফ্রন্টের বিক্ষোভ • তানযীমুল উম্মাহ হিফয মাদরাসা, মাদারীপুর শাখার বার্ষিক পুরস্কার বিতরণী সম্পন্ন • ফকিরহাটে প্রতিবেশীর ঘরে আগুন নেভাতে গিয়ে প্রাণ গেল আলী মুসার • যে সড়কে বাসের নিচে চাপা পড়ে প্রাণ গেল মাইশার, সেখানেই অনুষ্ঠিত হলো জানাজা • নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে সৌন্দর্যবর্ধনকারী ও ফলজ বৃক্ষরোপণ করলেন উপাচার্য।
লিঙ্ক কপি হয়েছে!

আজ ঐতিহাসিক পলাশী দিবস: বাংলার স্বাধীনতা হারানোর করুণ অধ্যায়

পেজ দ্যা নিউজ ডেস্ক প্রকাশিত: ২৩ জুন ২০২৬, ০৭:১৯ পিএম

আজ ২৩ জুন, ঐতিহাসিক পলাশী দিবস। ১৭৫৭ সালের এই দিনে পলাশীর আম্রকাননে সংঘটিত যুদ্ধে পরাজয়ের মধ্য দিয়ে বাংলার স্বাধীনতার অবসান ঘটে এবং শুরু হয় প্রায় দুই শতাব্দীর ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসন।

ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এ দিনটি ‘পলাশী ট্র্যাজেডি দিবস’ নামেও পরিচিত। পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ থেকে প্রায় ২৩ মাইল দক্ষিণে ভাগীরথী নদীর তীরে পলাশীর প্রান্তরে বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজউদ্দৌলা-এর বাহিনীর সঙ্গে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির যুদ্ধ সংঘটিত হয়।

ইতিহাসবিদদের মতে, যুদ্ধের ফল নির্ধারণে মুখ্য ভূমিকা রেখেছিল অভ্যন্তরীণ ষড়যন্ত্র ও বিশ্বাসঘাতকতা। ব্রিটিশ সেনাপতি রবার্ট ক্লাইভ বাংলার প্রভাবশালী কিছু ব্যক্তি ও নবাবের ঘনিষ্ঠদের সঙ্গে গোপন সমঝোতা করেন। এর অংশ হিসেবে নবাবের প্রধান সেনাপতি মীর জাফর ব্রিটিশদের সঙ্গে যোগসাজশে নবাবের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন।

২৩ জুন সকাল থেকে শুরু হওয়া যুদ্ধে সংখ্যায় ও শক্তিতে এগিয়ে থাকা নবাবের বাহিনী শেষ পর্যন্ত পরাজিত হয়। যুদ্ধক্ষেত্রে সেনাবাহিনীর একটি বড় অংশ নিষ্ক্রিয় থাকায় নবাবের পক্ষে প্রতিরোধ গড়ে তোলা সম্ভব হয়নি। এর ফলে বাংলার রাজনৈতিক স্বাধীনতা কার্যত বিলুপ্ত হয়।

যুদ্ধের পর নবাব সিরাজউদ্দৌলা রাজধানী ত্যাগ করলেও পরে গ্রেপ্তার হন এবং নিহত হন। অন্যদিকে ব্রিটিশদের সমর্থনে মীর জাফর বাংলার নবাব হিসেবে ক্ষমতায় বসেন। পলাশীর যুদ্ধের পর থেকেই বাংলায় ব্রিটিশ প্রভাব দ্রুত বিস্তার লাভ করে এবং পরবর্তী সময়ে সমগ্র ভারতবর্ষ ব্রিটিশ শাসনের অধীনে চলে যায়।

ইতিহাসবিদরা মনে করেন, পলাশীর যুদ্ধ শুধু একটি সামরিক পরাজয় ছিল না; এটি ছিল রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র, অভ্যন্তরীণ বিভক্তি ও বিশ্বাসঘাতকতার এক করুণ পরিণতি। তাই পলাশী দিবস বাঙালির ইতিহাসে স্বাধীনতা হারানোর এক বেদনাবিধুর স্মারক হিসেবে আজও স্মরণীয় হয়ে আছে।