লক্ষ্মীপুরের শহীদ বিজয় ছাত্রদল নেতা ছিলো না: পরিবার জানালো সত্য ঘটনা!
জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে শহীদ হওয়া লক্ষ্মীপুরের তরুণ কাউসার হোসেন বিজয়কে ছাত্রদল নেতা হিসেবে প্রচার করায় তার পরিবার ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। তারা দাবি করেছে, কাউসার হোসেন বিজয় জীবদ্দশায় কোনো রাজনৈতিক দল বা সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। পরিবার এটিকে “শহীদের রক্ত নিয়ে রাজনীতি” বলেও অভিহিত করেছে।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের পক্ষ থেকে একটি ব্যাজ বা পরিচয়পত্র ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে বিজয়কে “ছাত্রদল নেতা” হিসেবে উল্লেখ করা হয়। সেই ব্যাজে উল্লেখ ছিলো, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান শহীদ পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ। ব্যাজে ছাত্রদলের শহীদদের স্মরণে ছবি ও লেখাও রয়েছে।
এই দাবির প্রতিবাদে শহীদ বিজয়ের ছোট ভাই বলেন,“আমি এবং আমার ভাই কখনো কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম না। আমার ভাইয়ের রক্ত নিয়ে রাজনীতি করবেন না। বিজয় কখনো ছাত্রদলের সদস্য, নেতা বা কর্মী ছিলেন না। এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণা।”
একইভাবে শহীদের বড় বোন সামাজিক মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করে লেখেন,“আমার ভাই জীবনে কখনো কোনো রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিল না। আজ তাকে ‘ছাত্রদল নেতা’ বানানো হচ্ছে—এটা মেনে নেওয়া যায় না। এখনো সময় আছে, রাজনীতিবিদরা নিজেদের সংশোধন করুন।”
অন্যদিকে, লক্ষ্মীপুর-৩ আসনের বিএনপি মনোনীত সাবেক সংসদ সদস্য শহিদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি ফেসবুকে লিখেছেন,“জুলাই-আগস্ট গনঅভ্যুত্থানে লক্ষ্মীপুরের ছাত্রদল নেতা শহীদ মোঃ সাব্বির হোসেন ও শহীদ কাউসার হোসেন বিজয়ের পরিবারের সাথে সাক্ষাৎ করেছি।”
এই বক্তব্য ও ব্যাজের তথ্য ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়িয়েছে। স্থানীয়দের অনেকেই বলেছেন, বিজয় তাদের জানা মতে একজন সাধারণ তরুণ ছিলেন, কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে তার সম্পৃক্ততা ছিল না।
বিশ্লেষকদের মতে, শহিদদের স্মরণ এবং রাজনৈতিক দাবির মধ্যে পার্থক্য থাকা উচিত। কোনো শহীদের পরিচয় নিয়ে ভুল তথ্য পরিবেশন শুধু বিভ্রান্তিই নয়, শহীদ পরিবারকে মানসিকভাবে আঘাতও করতে পারে।
পরিবারের সদস্যরা শহীদ বিজয়ের স্মৃতি রক্ষায় সব রাজনৈতিক পক্ষকে সতর্ক হওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন এবং গণমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমে তথ্য যাচাই করে প্রচারের আহ্বান জানিয়েছেন।
