অভিনব উদ্যোগে মানবিক উষ্ণতা ছড়াল “বন্ধুত্বের উদারতা” ইয়ুথ অর্গানাইজেশন
নিজস্ব প্রতিবেদক: শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এক ব্যতিক্রমী ও মানবিক উদ্যোগ নিয়েছে “বন্ধুত্বের উদারতা” ইয়ুথ অর্গানাইজেশন। শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) সংগঠনটির উদ্যোগে ঝালকাঠি জেলার নলছিটি উপজেলার সুবিদপুর ইউনিয়ন ও আশপাশের বিভিন্ন গ্রামের প্রায় অর্ধশতাধিক অসহায় ও দরিদ্র পরিবারের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়।
শীতকাল যেখানে বিত্তবানদের কাছে উষ্ণ পোশাক, উৎসব আর পিঠাপুলির আনন্দের বার্তা বহন করে, সেখানে দরিদ্র ও অসহায় মানুষের কাছে এই ঋতু বয়ে আনে কেবল দুঃখ, কষ্ট আর অনিশ্চয়তার বার্তা। হাড়কাঁপানো শীতের রাতে যখন অনেকেই লেপ-কম্বলের উষ্ণতায় নিশ্চিন্ত ঘুমে মগ্ন থাকেন, তখন অসহায় মানুষদের কাটাতে হয় নির্ঘুম রাত। একবেলা খাবারের সংস্থান করতেই যাদের প্রতিদিন সংগ্রাম করতে হয়, তাদের কাছে শীতবস্ত্র কেনা হয়ে ওঠে আকাশছোঁয়া স্বপ্ন।
এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে “বন্ধুত্বের উদারতা” ইয়ুথ অর্গানাইজেশন সরাসরি শীতার্ত পরিবারের দোরগোড়ায় গিয়ে শীতবস্ত্র পৌঁছে দেয়। হঠাৎ করে কম্বল হাতে পেয়ে অসহায় মানুষের মুখে ফুটে ওঠা অকৃত্রিম হাসিই ছিল এই কর্মসূচির মূল প্রেরণা।
এ সময় সংগঠনের সভাপতি মো. জাহিদ হাসান বলেন, “শীতে মানবিক হওয়া আমাদের নৈতিক দায়িত্বের অন্যতম। আমরা একটি ছোট সংগঠন হলেও এই ক্ষুদ্র উদ্যোগের মাধ্যমে মানুষের অগাধ ভালোবাসা পেয়েছি—এটাই আমাদের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।”
সাধারণ সম্পাদক মো. আরিফুল ইসলাম আকাশ বলেন, “আমরা আগে থেকেই শীতার্ত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নিয়েছি। তাদের না জানিয়ে হঠাৎ একটি কম্বল তুলে দেওয়ার মুহূর্তে যে নিখাদ হাসি দেখেছি, সেটাই আমাদের সকল পরিশ্রম সার্থক করেছে।”
সাংগঠনিক সম্পাদক ইসমাইল হোসেন ইমন বলেন,
“একজন বস্ত্রহীন শীতার্ত মানুষের সামনে উষ্ণতার কম্বল নিয়ে হাজির হওয়া—এর চেয়ে সুন্দর মানবিক মুহূর্ত আর হতে পারে না। আমরা ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম চালিয়ে যেতে চাই।”
সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ এ সময় সরকারের পাশাপাশি সমাজের বিত্তবানদের শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান। বিশেষ করে ছিন্নমূল পথশিশু ও অসহায় বৃদ্ধদের প্রতি বাড়তি নজর দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন তারা। শীতবস্ত্রের পাশাপাশি শীতজনিত রোগ প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসা ব্যবস্থার দিকেও গুরুত্ব দেওয়ার তাগিদ দেন বক্তারা।
তাদের মতে, সম্মিলিত উদ্যোগে শীতবস্ত্র ও খাদ্য সংকট কিছুটা হলেও লাঘব করা সম্ভব। শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো শুধু সামাজিক দায়িত্ব নয়, বরং এটি আমাদের মানবিক কর্তব্য।
