পেজ দ্যা নিউজ
আমাদের সাথে যুক্ত থাকুন
শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬
শিরোনাম
• বিশ হাজার শিক্ষার্থীকে নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ‘সেরা পাঠকের খোঁজে’ • গাজীপুরে জুলাই শহীদ স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল ও পুরস্কার বিতরণী সম্পন্ন • সর্বহারা’ পরিচয়ে রাবির ৫ শিক্ষককে হুমকি ও চাঁদা দাবি, থানায় জিডি • ক্যানসারে আক্রান্ত আবদুল মান্নানের পাশে দাঁড়ালেন প্রবাসী ইমরান হাসান • নারী শিক্ষার্থীদের নিয়ে নতুন প্ল্যাটফর্ম, আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছে ‘ইসলামী ছাত্রী আন্দোলন বাংলাদেশ’ • নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে OBE বাস্তবায়ন নিয়ে দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ • ডেঙ্গু প্রতিরোধে চিতলমারীতে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা অভিযান • এশিয়ান গেমস ক্রিকেট: না জিতেও যেভাবে সেমিফাইনালে উঠতে পারে বাংলাদেশ
লিঙ্ক কপি হয়েছে!

ঈদের ভিজিএফের চাল পাচারের অভিযোগে উত্তাল কারপাশা, জব্দ ৭০ বস্তা চাল এতিমখানায় দিল প্রশাসন

আল-আমিন হাসান
আল-আমিন হাসান , উপজেলা প্রতিনিধি প্রকাশিত: ১৯ মে ২০২৬, ১১:০৭ পিএম

কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলা-এর কারপাশা ইউনিয়নে পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দুস্থ ও অতিদরিদ্র মানুষের জন্য বরাদ্দকৃত ভিজিএফের চাল বিতরণে অনিয়ম ও পাচারের চেষ্টার অভিযোগে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী ঈদের আগেই সুবিধাভোগীদের মাঝে চাল বিতরণের বাধ্যবাধকতা থাকলেও, অভিযোগ উঠেছে—অসাধু জনপ্রতিনিধি ও সুবিধাভোগী একটি চক্রের যোগসাজশে প্রকৃত হকদারদের বঞ্চিত করা হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, স্বজনপ্রীতি ও অনিয়মের মাধ্যমে প্রস্তুত করা তালিকার আড়ালে একটি প্রভাবশালী চক্র সরকারি ত্রাণের চাল আত্মসাৎ ও বিক্রির পরিকল্পনা করে। এ ঘটনার জেরে রাতের আঁধারে চাল পাচারের চেষ্টা চালানো হলে সচেতন

এলাকাবাসীর তীব্র প্রতিরোধের মুখে ৭০ বস্তা ভিজিএফের চাল জব্দ করা হয়। পরে উদ্ধারকৃত চাল প্রশাসনের হেফাজতে কারপাশা ইউনিয়ন পরিষদে সংরক্ষণ করা হয়।

এ ঘটনার প্রতিবাদ এবং দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে কারপাশা ইউনিয়নের ভুক্তভোগী এলাকাবাসী মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেন। কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভিজিএফের চাল বিতরণের জন্য তালিকা প্রণয়ন ও কার্ড বিতরণের শুরু থেকেই নানা অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। অনেক বৈধ কার্ডধারী অভিযোগ করেন, তালিকায় নাম এবং হাতে কার্ড থাকা সত্ত্বেও রহস্যজনক কারণে ঈদের আগে তারা চাল পাননি। পরবর্তীতে পাচারের সময় উদ্ধার হওয়া চাল প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে রাখা হয়।

এদিকে, মঙ্গলবার (১৯ মে) মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করে মোছাঃ রেহেনা মজুমদার মুক্তি জব্দকৃত ৭০ বস্তা চাল স্থানীয় মাদ্রাসা ও এতিমখানার শিশুদের জন্য হস্তান্তর করেন। সরকারি সম্পদ অপচয়ের হাত থেকে রক্ষা করে তা এতিম ও অসহায় শিশুদের কল্যাণে ব্যবহারের এ সিদ্ধান্ত সর্বমহলে প্রশংসিত হয়েছে।

এ বিষয়ে ইউএনও মোছাঃ রেহেনা মজুমদার মুক্তি সাংবাদিকদের বলেন, “সরকারি ত্রাণের এই চাল গুদামে পড়ে থেকে নষ্ট হওয়ার চেয়ে এতিম ও দুস্থ শিশুদের খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করাই ছিল সবচেয়ে মানবিক সিদ্ধান্ত। তবে চাল পাচারের ঘটনায় জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। পুরো বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্তে দোষী প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”