মিটিংয়ের পর চা বাগানে ছুটি: ধীরা হেট্টিয়ারাচ্চির হাত ধরে শ্রীলঙ্কার নতুন চমক
কাজের প্রয়োজনে ভিনদেশে মিটিং করতে গিয়েছেন, আর কাজ শেষে মাত্র কয়েক ঘণ্টার নোটিশে হারিয়ে গেছেন গহীন বন বা পাহাড়ের চূড়ায়! কর্পোরেট দুনিয়ার মানুষদের কাছে এমন সুযোগ যেন স্বপ্নের মতো। আর ঠিক এই স্বপ্নটাকেই বাস্তবে রূপ দিচ্ছেন শ্রীলঙ্কা কনভেনশন ব্যুরোর চেয়ারম্যান ধীরা হেট্টিয়ারাচ্চি। তার দূরদর্শী পরিকল্পনায় শ্রীলঙ্কা এখন শুধু পর্যটকদের নয়, বরং আন্তর্জাতিক ব্যবসায়ীদেরও অন্যতম পছন্দের গন্তব্যে পরিণত হচ্ছে।
তার এই পরিকল্পনার সবচেয়ে বড় চমক হলো কলম্বোর এসএল মাইস এক্সপো। ৫ থেকে ৯ অক্টোবর পর্যন্ত চলা এই ইভেন্ট ঘিরে কলম্বো এখন বিশ্বের নজর কাড়ছে। ২৭টি দেশ থেকে আসা ১২০ জনেরও বেশি আন্তর্জাতিক ক্রেতা ও গণমাধ্যম প্রতিনিধি প্রমাণ করেছেন যে হেট্টিয়ারাচ্চির ভাবনা কতটা নিখুঁত। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের জন্য এই এক্সপো সরাসরি বিদেশি ক্লায়েন্টদের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরির এক অভাবনীয় সুযোগ। হেট্টিয়ারাচ্চি বিশ্বকে দেখাতে চাইছেন, প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি পেশাদার কর্পোরেট ইভেন্ট আয়োজনের সব ধরনের আধুনিক অবকাঠামো তাদের রয়েছে।
সরকারও এই উদ্যোগে পিছিয়ে নেই। পর্যটন উপমন্ত্রী অধ্যাপক রুয়ান রানাসিংহে মনে করেন, দেশের পর্যটন খাতকে লাভজনক করতে হলে কর্পোরেট ট্রাভেলারদের দিকে নজর দিতেই হবে। আর সে কারণেই এক্সপোতে একের পর এক মিটিং, নেটওয়ার্কিং সেশন ও ট্যুরের ব্যবস্থা করা হয়েছে। উদ্দেশ্য একটাই, বিদেশি অতিথিদের সঙ্গে পরিচিতি পর্বটাকে সরাসরি ব্যবসায়িক চুক্তিতে রূপান্তর করা।
সাধারণ পর্যটকদের চেয়ে ব্যবসায়িক পর্যটকরা স্থানীয় অর্থনীতিতে বেশি অবদান রাখেন। হোটেল বা রেস্তোরাঁগুলোর জন্য তারা আয়ের একটি নির্ভরযোগ্য উৎস। পাশাপাশি শ্রীলঙ্কার ভৌগোলিক সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে তারা কাজের সঙ্গে বিনোদনের দারুণ এক প্যাকেজ উপভোগ করতে পারেন। ধীরা হেট্টিয়ারাচ্চি মনে করেন, এই এক্সপো হচ্ছে বড় লক্ষ্যের দিকে প্রথম ধাপ। সেবার মান এবং পেশাদারিত্ব বজায় রাখতে পারলে এই উদ্যোগগুলো শ্রীলঙ্কার অর্থনীতিতে নতুন প্রাণের সঞ্চার করবে।
