ঢাকাশনিবার , ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • অন্যান্য
  1. ইতিহাস
  2. জাতীয়
  3. ধর্ম
  4. প্রযুক্তি
  5. বিনোদন
  6. বিশ্ব
  7. মতামত
  8. রাজনীতি
  9. শিক্ষাঙ্গন
  10. সর্বশেষ
  11. সারাদেশ
  12. সাহিত্য
আজকের সর্বশেষ খবর

আবাসিক সংকটে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা: ৪ জনের রুমে থাকেন ৮ জন

আবদুল্লাহ আল শাহিদ খান
সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৫ ৫:৪৩ অপরাহ্ণ
Link Copied!

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি: বরিশাল: ২০১১ সালে কীর্তনখোলা নদীর তীরে প্রতিষ্ঠিত হওয়া বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (ববি) এখনও পূর্ণাঙ্গ আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত হয়নি। ১৫ বছর অতিক্রান্ত হলেও বরিশাল বিভাগের একমাত্র পাবলিক এই সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয়ে আবাসিক সংকট এখনও গভীর। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৮০ শতাংশ শিক্ষার্থী আবাসিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত থাকছেন, যেখানে ৪ জনের জন্য নির্মিত রুমে ৮ জন শিক্ষার্থী বসবাস করছেন।

বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে মোট শিক্ষার্থী রয়েছে প্রায় সাড়ে ১০ হাজার। এর মধ্যে মাত্র ২ হাজার ৩১ জন শিক্ষার্থী আবাসিক সুবিধা পাচ্ছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে মোট চারটি আবাসিক হল রয়েছে— দুইটি ছাত্রাবাস এবং দুইটি ছাত্রীাবাস। তবে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, প্রকৃত আবাসিক শিক্ষার্থীর সংখ্যা অফিসিয়াল সংখ্যার থেকেও কম, কারণ অনেক শিক্ষার্থী হল ছেড়ে গেলেও আসন বাতিল না হওয়ায় নাম তালিকায় রয়েছে।

শিক্ষার্থীরা জানান, আবাসিক হলের আসন পেতে হলে রাজনৈতিক ছত্রছায়া বা ক্ষমতাবান শিক্ষকের রেফারেন্স প্রয়োজন, যার কারণে প্রকৃত প্রয়োজনমতো শিক্ষার্থীরা সুবিধা পাচ্ছেন না। একটি সিট না পেয়ে অনেক শিক্ষার্থী কষ্টে রয়েছেন, আবার মাস্টার্স শেষ করেও কেউ কেউ সিট পেয়ে যাচ্ছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্যেকটি হল ২৮০ জন শিক্ষার্থীর জন্য তৈরি হলেও, বর্তমানে রুম প্রতি চারজনের পরিবর্তে ৮ জন করে বসবাস করছেন। মাস্টার্স জোনের রুমগুলোতে চারজনই থাকেন। বিজয় ২৪ হলে মোট ৫৪৪, শেরে বাংলা হলে ৫৩৬, রাবেয়া তাপসী বসরী হলে ৪৫০ এবং সুফিয়া কামাল হলে ৫৩০ আসনের ব্যবস্থা রয়েছে।

একজন আবাসিক শিক্ষার্থী জানান, সম্মান চতুর্থ বর্ষের পড়ুয়া হলেও তিনি কয়েকবার আবেদন সত্ত্বেও হলের সিট পাননি। অন্যদিকে সচ্ছল পরিবারের শিক্ষার্থীরা সহজে সিট পাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

শিক্ষার্থীরা জানান, ৪ জনের রুমে ৮ জন থাকায় পড়ার পরিবেশ নষ্ট হয়। ১ জনের বেডে দুইজনের ঘুমানোসহ অতিরিক্ত কাঠের বেঞ্চ বসানো হয়, তবে বই ও মালামাল রাখার পর্যাপ্ত জায়গা নেই। এছাড়া ওয়াশরুমসহ নানা সমস্যা নিয়ে দীর্ঘদিন থেকে তারা অসন্তোষ প্রকাশ করছেন।

আবাসিক সিটের জন্য বর্তমানে ৬ মাসে দ্বৈত সিটের ফি ১,৪২৭ টাকা এবং একক সিটের ফি ২,৪০০ টাকা। দীর্ঘদিন থেকে শিক্ষার্থীরা ফি কমানোর দাবি জানিয়ে আসছেন। গত বছর কমিটি গঠনের পর নতুন প্রস্তাবের মাধ্যমে দ্বৈত সিটের জন্য ২,৩৭৫ টাকা নির্ধারণ করা হলে তা নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। উপাচার্যের আশ্বাস সত্ত্বেও শিক্ষার্থীরা দাবি না মানা পর্যন্ত ফি জমা দিতে নারাজ।

রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী মো. ইয়ামিন বলেন, নতুন নির্ধারিত ফি শিক্ষার্থীদের আর্থিক সামর্থ্যের বাইরে এবং অনানুষ্ঠানিক। তিনি বলেন, “আমাদের দাবির সঙ্গে উপাচার্য স্যারও একমত, তবে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা ফি জমা দেব না।”

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. তৌফিক আলম জানান, আবাসিক সংকট প্রকট এবং নতুন হলে নির্মাণের জন্য পরিকল্পনা প্রক্রিয়াধীন। প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এবং নতুন হল নির্মিত হলে সংকট অনেকাংশে কমবে। ফি কমানোর বিষয়টি সিন্ডিকেট ও অর্থ কমিটিতে উত্থাপন করা হবে।

এই ওয়েবসাইটের সকল লেখা, ছবি, অডিও বা ভিডিও “পেজ দ্যা নিউজ” কতৃপক্ষের অনুমতি ব্যতীত কপি করা দন্ডনীয়। বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করলে কতৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার রাখে।